কাপাসিয়ায় ষড়যন্ত্র, মিথ্যা অপপ্রচারের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি কাপাসিয়া উপজেলা সদরের ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। তারই প্রতিবাদে গত রোববার সকাল এগারোটায় বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা অপপ্রচার ও অপবাদকারী মহিলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ঢাকা-কাপাসিয়া-রাণীগঞ্জ সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহিনা সুলতানা বলেন, আমি এই ইউনিয়নে দুই দফার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। পাশাপাশি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছি। বর্তমানে আমি অভিভাবক সদস্য। এই দীর্ঘদিনে আমি মিজান মাস্টারের কোনো খারাপ দিক আমার চোখে পড়েনি। আমি মনে করি এটা তার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং তার প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি। কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, মিজান আমার এলাকার ছেলে তাকে সেই ছোটবেলা থেকেই দেখছি। প্রায় ২০ বছরের উপরে সে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনেক পরিশ্রম করে তৈরি করেছে। তার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে শাস্তির দাবি করছি। এলাকাবাসী শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, মিজানের সাথে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। সে ভালো মানুষ। তার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উপজেলা জুড়ে সাফল্য ও পরিচিতি রয়েছে। তার এ প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করতে এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।
ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজিত সংবাদিক সম্মেলন নাটোরে প্রভাবশালীদের ভয়ে পাঁচ মাস বাড়ি ছাড়া ৬ পরিবার গুরুদাসপুর প্রতিনিধি জমির সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্বের পর থেকে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের ভয়ে পাঁচ মাস ধরে বাড়ি ছাড়া আছেন ছয় পরিবারের ২৬ সদস্য। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে ধর্না দিয়ে সমাধান আসেনি। থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। গত শনিবার দুপুরে বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফেরার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। গুরুদাসপুর পৌর সদরের খলিফা পাড়া মহল্লায় একটি বাড়িতে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পাঁচ মাস ধরে সেখানেই পরিবারের ২৬ সদস্য নিয়ে ভুক্তভোগী জাহিদুল, হটু মণ্ডল, রুহুল, রতন, সোহেল ও তাদের পিতা দেরেস মণ্ডল আশ্রয় নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা ও তাদের প্রতিপক্ষ মতিউর তালুকদার পৌর সদরের চাঁচকৈড় পুড়ান পাড়া মহল্লার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের নির্যাতনের শিকার হোসেল মণ্ডল বলেন, ঠুনকো বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মতিউর তালুকদারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সেই দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর প্রতিপক্ষের দেওয়া মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের পরও নিজেদের ঘর-বাড়িতে ফিরতে পারছেন না তারা। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ৫ মাস আগে বাড়ির সীমানা নিয়ে ভুক্তভোগী মতিউর তালুকদারের স্ত্রী সাথী বেগমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দফায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুত্বর আহত হন মতিউর রহমানের স্ত্রী সাথী বেগম। ওই ঘটনায় মতিউর রহমানের দায়ের করা মামলায় হাজতবাস করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে আসার পর আর নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। বৃদ্ধ দেরেস মণ্ডল নিজেদের বসতবাড়িতে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, বাড়িতে ফিরতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ গোলাপ তালুকদার, মাসুদ রানা, ছাইদুল ইসলাম, মাহাবুব ও মতিউর রহমান। এমনকি নারীরা বসতবাড়িতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে। এসব কারণে তারা ভয়ে নিজেদের বাড়িতে যেতে পারছেন না। নিজেদের বাড়িতে ফিরতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। প্রতিপক্ষের পক্ষে ছাইদুল ইসলাম ও মাসুদ রানা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এ নিয়ে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বাড়িতে ফিরতে প্রতিপক্ষকে বাধা নিষেধ করেননি তারা। গুরুদাসপুর থানার ওসি উজ্জল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীদের দেয়া অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। অভিযোগকারীদের খুব দ্রুত নিজেদের বাড়িতে তুলে দেয়া হবে।
বরিশালে শ্রেণিকক্ষে অচেতন শিক্ষার্থী আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্মপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন জানান, দশম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নবম ও দশম শ্রেণির আরও পাঁচজন ছাত্রী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তৌকির আহম্মেদ বলেন, গরমের কারণে ছাত্রীর এই সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে ভর্তি করে অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে কি কারণে এরকম ঘটনা ঘটছে তা জানা নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
নেত্রকোনায় হেলমেট বিষয়ে পুলিশের সচেতনতা কার্যক্রম নেত্রকোনা প্রতিনিধি নেত্রকোনায় তেলের পাম্পগুলোতে হেলমেটবিহীন তেল না দেয়ার লক্ষ্যে পুলিশের সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত রোববার দুপুরে নেত্রকোনা শহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোনাকো ফিলিং স্টেশনে ‘নো হেলমেট নো তেল, শিরোনামে ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন ফেস্টুন ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে পাম্পগুলোতে। পাশাপাশি এই নিয়ম মেনে তেল দেয়ার জন্য ব্যবসায়ী কর্মচারী সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ নিজে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণসহ হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের তেল নেয়া আটকে দেন এবং সচেতন করেন। এসময় মনোরঞ্জন নামের একজন আরোহী হেলমেট ব্যাগ থেকে বের করে পরার পর তেল নিতে বাধ্য করেন। জেলায় ৩০টি পাম্পে এ ধরনের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও পুলিশ সুপার জানান। তিনি বলেন, সকলকে সহযোগিতা করতে হবে তথ্য দিয়ে। যারাই আইন অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি তেল দিতে পাম্প কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করেন। অভিযানে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) হারুন অর রশীদ, সদর সার্কেল শাহ শিবলী সাদিক ও মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালামসহ ট্রাফিক বিভাগের এবং ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।
বানারীপাড়ায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বরিশাল প্রতিনিধি “সুশিক্ষা অর্জন করবো উন্নত দেশ গড়বো” সেøাগানকে সামনে রেখে জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নে শিক্ষাই শক্তি সংগঠনের উদ্যোগে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও এইচএসসি ২০২৩ সালের মেধাবী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গত রোববার মরিচবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধানশিক্ষক এসএম রিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শান্ত। অনুষ্ঠানে ২৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সৈয়দপুরে কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা নীলফামারী প্রতিনিধি কোরবানির গরু-ছাগল লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় চলতি বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন প্রায় সাড়ে আট হাজার পশু। গতবছরের চেয়ে এবারে দুই হাজারেরও বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। সৈয়দপুর প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ছয় হাজারের মতো। কিন্তু খামারিরা প্রস্তুত করেছেন প্রায় সাড়ে আট হাজারের মতো পশু। যা চাহিদার চেয়ে দুই হাজারেরও বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলে সৈয়দপুরের খামারিদের প্রস্তুত করা পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সূত্রটি আরও জানায়, সৈয়দপুর উপজেলায় নিবন্ধিত গরু খামার রয়েছে সাতটি, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে তিনটি। অনিবন্ধিত গরু ও খাসির খামার রয়েছে অগণিত। কারণ শহরসহ উপজেলার গ্রামগঞ্জে প্রায় বাড়িতেই রয়েছে ৮/১০টি বা ২০/২৫টি বিক্রির উপযুক্ত গরু ও ছাগল রয়েছে। খামারিরা জানান, কদিন পরেই পুরোদমে শুরু হবে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যে পরিমাণ দেশি গরু ও ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে এগুলো দিয়েই সৈয়দপুর তথা নীলফামারী জেলার মানুষের কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। খামারিরা আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যাপ্ত দেশি জাতের গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, ব্রান্ড, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেকটা বেড়েছে। একই সঙ্গে চোরাই পথে যাতে ভারতীয় পশু ঢুকতে না সেদিকে নজর রাখার দাবি জানান তারা। সৈয়দপুর পৌর এলাকার ইউসুফ ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে, গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের লোকজন। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার রায় বলেন, গরুকে দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর জন্য খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতেও বলা হচ্ছে খামারিদের। তবে গরুকে নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ও হরমোন ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।