
দেশের স্বীকৃত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক ‘গোলটেবিল বৈঠক’ এ দাবি জানানো হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের ব্যাপারে তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-১. মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের তালিকা অনুযায়ী ১৫ হাজার ১৯টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা। ২. বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তালিকা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন কোডভুক্ত ৫ হাজার ৪ শত ৭৮টি মাদরাসা। ৩. রেজিস্ট্রেশনভুক্ত কোড বিহীন (চলমান হালনাগাদ জরিপ অনুযায়ী) ইবতেদায়ী মাদরাসা। সবগুলো প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে জাতীয়করণের ঘোষণা দাবি করা হয়।
বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষার ভিত্তি হলো ইবতেদায়ী মাদরাসা। এই পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তি গড়ার কাজ করা হয়। তাই ইবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষকদের বঞ্চিত রেখে উচ্চ পর্যায়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ফলে অতি দ্রুত দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো মাদরাসাগুলো জাতীয়করণ হওয়া দরকার। এটা ইবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, দেশের মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার কারিকুলাম এখন সমান। বরং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আরবীসহ বেশি পড়াশোনা করতে হয়। ফলে দেশের সকল ক্ষেত্রে যাতে এসব শিক্ষার্থীরা নিজ যোগ্যতায় ভালো অবস্থান করে নিতে পারে। এসব কিছুর মূল হলো ইবতেদায়ী পর্যায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার শুরু হয়। তাই এই পর্যায়ের অবস্থার ভালো জন্য সবার আগে শিক্ষকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর সিলেবাস নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা সরকারের কাছে বলতে চাই, আমাদের নিজেদের ন্যায্য অধিকার শুধু দেন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. সামছুল আলম, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক, গেস্ট অব অনার হিসেবে অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রমুখ।