
জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের, পার্টির চেয়ারম্যানের দেহরক্ষী মিলনসহ ২০ জন আহত হয়েছে বলে পার্টির দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার ইব্রাহীমপুরে ‘দ্যা বুফে প্যালেস’ অনুষ্ঠান চলাকালে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই হামলার সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদ আলম বলেন, ইফতারের কয়েক মিনিট আগে মহাসচিব বক্তব্য রাখছিলেন, তখন কয়েকজন এসে সভা বন্ধ করতে বলে। এ সময় আমাদের নেতাকর্মীদের বাধায় তারা ফিরে যায়। একটু পরে সংঘবদ্ধ হয়ে ফিরে এসে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ২০ জনের মতো আহত হয়েছেন। তারমধ্যে মিলনসহ ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে সহযোগিতার জন্য কাফরুল থানায় ফোন করলে এসআই এনামুল ওসিকে ফোন করার পরামর্শ দেন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
জাপার যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারম্যানে প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের ইফতার অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দ্য বুফে লাউঞ্জ হলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ইফতার পার্টিতে আচমকা একদল এসে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের ৭-৮ জন লোক আহত হয়েছেন। তাদের কাউকে কাউকে হয়ত হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। আমার ও আমাদের দলের মহাসচিবের ওপরও হামলা হতে পারত। দলের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে। জি এম কাদের বলেন, আজকের এই হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল তাদের আমরা চিনি না। কিন্তু আগে যারা করেছে আজ তারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে সরকার এদের উসকানি দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কচুক্ষেতের রেস্তোরাঁয় হামলার সময় কাফরুল থানায় ফোন করা হলেও ‘সাড়া পাননি’। পরে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে ফোন করা হলে দ্রুত সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। জি এম কাদের বলেন, আমাদের অযথাই এখন ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অভিহিত করা হচ্ছে। অথচ শুরু থেকেই আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একমত ছিলাম।
এর আগে ৮ মার্চ পল্লবী থানা সংলগ্ন ২ নম্বর কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই অনুষ্ঠানে ইফতার আয়োজন শুরু হওয়ার পূর্বে বিকেল ৪টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটলে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্লোগান দিয়ে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দেয় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক।