
* রমজানে দৃঢ় করা হবে সাংগঠনিক কাঠামো
* দ্রুত সময়ে নেয়া হবে ‘এনসিপি’ নিবন্ধন
* রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হবে মধ্যপন্থী
* এনসিপির অনুষ্ঠানে বাস নিয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই
* এনসিপির অনুষ্ঠানে বাস রিকুইজিশনের ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ
* ইনকিলাব জিন্দাবাদ মূলত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সেøাগান : অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি নতুন শক্তি আত্মপ্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য একে অপরের মত-পথে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। একইসঙ্গে রমজানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো দৃঢ় করবে এনসিপি, নেবে নিবন্ধনের প্রস্তুতি। তবে শিক্ষার্থীদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বক্তব্য ও ঘোষণা নিয়ে রাজনীতিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে দলটির ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি’র বক্তব্য ও ঘোষণা নিয়ে রাজনীতিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার জন্ম নেয়া দলটি কোনো দর্শন ও সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি নিয়ে হাজির হতে পারেনি-এমনটাও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সেকেন্ড রিপাবলিক এবং দলটির সেøাগান ইনকিলাব জিন্দাবাদ, এগুলো বলে দলটি কী বলতে চেয়েছে কিংবা ভবিষ্যতে কী করতে চাইছে তা নিয়েও জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এরইমধ্যে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, আমরা যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা বলেছি, তাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টে দেয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোতেই স্বৈরাচার তৈরির সুযোগ আছে। রাষ্ট্রের মতো অনেক দলেও তাই সর্বময় ক্ষমতা একজনের হাতে চলে যাচ্ছে। আবার দেখুন গত পনের বছরে যেসব আন্দোলন গড়ে উঠেছে তা কিন্তু তরুণরা করেছে। ফলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সিস্টেম ভাঙা এবং তরুণদের প্রত্যাশা পূরণের বার্তাই আমরা দিয়েছি। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এনসিপির মধ্যপন্থায় বিশ্বাসী একটি মধ্যবিত্তের দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আভাস দিয়েছে, যাতে প্রথাগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা আছে। কিন্তু এটি করতে দেশে যে রাজনৈতিক ঐক্য দরকার হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা তারা দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যারা সেকেন্ড রিপাবলিকের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা তাদের ঘোষণাপত্রে থাক। যারা গণপরিষদের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে চান, সেটা তারা যখন পারবেন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের আর কোনো বিলম্ব যেন না হয় সেজন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই আমাদের আহ্বান। অর্থাৎ সেকেন্ড রিপাবলিক কিংবা গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি সংসদ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার একটি বার্তা হিসেবে মনে করার একটি ইঙ্গিত বিএনপির দিক থেকে আসছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন দলটি তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা বলেছে, যা তাদের সাধারণ অধিকার। তবে দেখার বিষয় হবে লক্ষ্য অর্জনে তারা কী ধরনের কর্মপন্থা বেছে নেয়।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ইনকিলাব জিন্দাবাদ মূলত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সেøাগান ছিলো। এখানে এটি নতুন। অনেকের কাছে পীড়াদায়ক হলেও আমি এটাকে নেতিবাচক দিক থেকে দেখি না। এটি বিপ্লব বা পরিবর্তনের সেøাগান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলে, সেকেন্ড রিপাবলিক বলতে সাধারণত আগের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন শাসন কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে বোঝানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি করতে হলে বিএনপিসহ সব দলের মধ্যে ঐক্য তৈরি করা ছাড়া অসম্ভব। তিনি বলেন, গণপরিষদ মানে হলো নতুন সংবিধান করা হবে। অর্থাৎ সামনে যে নির্বাচন হবে তাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গণপরিষদ সদস্য হিসেবে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবেন। ওই গণপরিষদই আবার পার্লামেন্ট হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য দরকার সেটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমি নিকট ভবিষ্যতে দেখি না।
মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে ‘এনসিপি’ : এদিকে এনসিপির নেতাদের দাবি, তারা একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে, যেখানে সব মত, পথ ও ধর্মীয় আদর্শকে সম্মান জানানো হবে। তবে, এনসিপি’র আদর্শগত পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। দলটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো-একাত্মতার ভিত্তিতে জনগণের অধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করা। এনসিপি নিজেদেরকে বাংলাদেশপন্থী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, যা কেবল দেশের মানুষের, তাদের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থের কথা ভাববে। দলের নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন এবং মতবিরোধ ছিল, এবং তারা সেই শূন্যতা পূরণ করতে চান।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাদের আন্দোলন এবং উদ্দেশ্যকে আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, তারা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করতে চান এবং এজন্য তারা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ এবং ‘নতুন সংবিধান’ প্রণয়নের কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন যুগের সূচনা করবে, যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচারিতার অবসান ঘটবে। তার মতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে দেশের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের প্রগতি এবং জনগণের উন্নতির দিকে কাজ করতে পারে।
নাহিদ ইসলাম তার ঘোষণাপত্রে বলেছেন, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান। তিনি আরও বলেছেন, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হবে এমন, যেখানে সমাজে বিভেদ নয়, ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
এনসিপি’র গঠনতন্ত্র এবং কর্মসূচি নিয়ে দলের নেতারা কাজ করছেন, তবে দলটি এখনো তাদের পলিসি এবং নীতি বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গঠনতন্ত্র এবং কর্মসূচি তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা দলের মৌলিক দিকগুলো নির্ধারণ করবে। দলের সদস্য সচিব মিরাজ মিয়া বলেছেন, তারা সব মতাদর্শের মানুষকে সম্মান জানিয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে চান। তাদের মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক ঐক্য দেশের উন্নতির জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে, দলের আদর্শগত ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট সময় এবং প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এনসিপি’কে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনটি প্রধান কমিটি গঠন করা হবে, যা দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই নিজেদের নির্বাচন প্রক্রিয়া, গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক ভিশন চূড়ান্ত করতে চান। দলটি তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে। তারা আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং মহানগরে কমিটি গঠন করতে চায়। এনসিপি’র সদস্য সচিব মিরাজ মিয়া জানান, রমজানের মধ্যে তারা দলের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করবেন এবং এই সময়ের মধ্যে প্রতীক চূড়ান্ত করতে চান, যাতে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করা যায়। এনসিপি তাদের কার্যক্রমে কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী এবং প্রান্তিক জনগণের গুরুত্ব দিতে চান, কারণ তারা বিশ্বাস করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে এই জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।
এনসিপি দাবি করছে, তারা দেশের সকল নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করবে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাইছেন, যেখানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং নীতিহীনতা কোনো স্থান পাবে না। দলের নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে’ অংশগ্রহণকারী জনগণের শক্তিকে সম্মান জানানো এবং সেই জনগণকে অগ্রাধিকার দেয়া। তবে, এনসিপি’র ভবিষ্যৎ এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে এখনও বেশ কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, এবং বিরোধী দলগুলো তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাজনীতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এলে বোঝা যাবে, যখন তারা গঠনতন্ত্র এবং কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে এবং তাদের প্রথম নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রকাশ করবে।
রমজানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো দৃঢ় করবে এনসিপি, নেবে নিবন্ধনের প্রস্তুতি : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে দেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই রমজানে দলটি তাদের গঠনতন্ত্র, আদর্শ, প্রতীক ও অন্যান্য মৌলিক বিষয় চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবে। গত শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এরপর দলটির বড় কোনো কার্যক্রম বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তবে এনসিপির নেতারা বলছেন, তারা পবিত্র রমজান মাসে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা নেবেন, যার মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দলকে দেশব্যাপী শক্তিশালী করা হবে। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি সপ্তাহেই বৈঠক করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে কমিটি। পাশাপাশি পুরো রমজানজুড়ে ইফতার কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোকে চূড়ান্ত করার কাজ চলবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী জানান, এখনও দলের গঠনতন্ত্র, সুনির্দিষ্ট আদর্শ, প্রতীক বা অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই একটি বৈঠক হবে। সেখানে দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হবে সেখানে। একইসুরে কথা বলেছেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, রমজান মাসে দলের একটি ইফতার পার্টি হবে এবং ২৬ মার্চ উদযাপন করা হবে। এর বাইরে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের শর্তাবলি পূরণে কার্যক্রম বাস্তবায়নে মনোযোগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের একটি সাংগঠনিক টিম মাইগ্রেশন পলিসি ঠিক করবে। তবে এটা বলা যায় যে নেতাকর্মীদের বেশিরভাগ পার্টিতেই চলে আসবেন। এর মধ্যে যারা রাজনীতি করতে চান না, তারাই শুধু নাগরিক কমিটিতে থাকবেন।
দলটির আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এনসিপি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে চায়, তাদের মহাকাব্যিক সংগ্রামের বীরত্বগাথা এবং তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার গল্পগুলো শুনতে চায়। তিনি বলেন, কামার, কুমোর, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সকল স্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ব। হাসনাত এখন চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের আংশিক অঞ্চলের (ঢাকা দক্ষিণ সিটি, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ) দায়িত্বে রয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের সংগঠক মো. সারজিস আলমও একই সুরে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি শ্রমিক, ছাত্র ও নারীদের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের কণ্ঠ শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পরম সৌভাগ্যে পাওয়া আমানতস্বরূপ এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। জীবনের বিনিময়ে হলেও মানুষ আর দেশের জন্য কিছু করে যেতে চাই। সারজিসের আওতাধীন অঞ্চল হচ্ছে রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, সিলেট বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ (আংশিক) (ঢাকা মহানগর উত্তর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ)।
এ বিষয়ে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে রাজনীতির অগ্রাধিকার।
এনসিপির অনুষ্ঠানে বাস রিকুইজিশনের ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকার বাইরে অন্তত একটি জেলা থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের জন্য সরকারিভাবে হুকুম-দখল করে বাস রিকুইজিশনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবি বলছে, এনসিপির জন্মলগ্নেই এরূপ ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিকতার দায় অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না। অন্যদিকে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ ও ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর ব্যানারে এ ধরনের কর্তৃত্ববাদী পুরোনো চর্চা পরিহার করার জন্য এনসিপি ও তার সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী-জনতার অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিনিময়ে সূচিত ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর অভীষ্ট অর্জনের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ নেতৃত্বের হাতে গঠিত নতুন রাজনীতির প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও অপরিসীম। এই প্রত্যাশা পূরণের পূর্বশর্ত হিসেবে দলটিকে একেবারে শুরুতেই বাস অধিযাচনের এ নজির ও তার নেতিবাচক প্রভাবকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে গ্রহণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ জাতীয় গতানুগতিক আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড ও আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
এনসিপির অনুষ্ঠানে বাস নিয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই : নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় সরকারি বাস নিয়ে আসার বিষয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, মিডিয়ার যেসব খবর আসছে তা অতিরঞ্জিত। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে লোক আনতে সরকারিভাবে বাস রিকুইজিশনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেটি ঘটেছে তা অতিরঞ্জিত। পিরোজপুর থেকে বাসযোগে সমাবেশে যোগ দেয়ার ঘটনায় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। পিরোজপুরের ডিসি এ বিষয়ে জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটি কয়েকটি বাস রিকুইজিশনের জন্য ডিসিকে চিঠি দিয়েছে। সেখানে তারা জুলাই বিপ্লবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন এমন দুটি পরিবারকে আনতে সহযোগিতা চান। তারা অনুরোধ করেছিল ৫টি বাস দিয়ে হেল্প করতে। সেই প্রেক্ষাপটে হয়তো বাসের ব্যাপারে হেল্প করেছেন ডিসি। এ ব্যাপারে ডিসি অফিস থেকে কোনো জ্বালানি তেল বা অন্যান্য কোনো খরচ দেয়া হয়নি বলেও ডিসি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। দেশে এ ধরনের আরো কোনো ঘটনা ঘটেছে কি-না, সে ব্যাপারে তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তবে মিডিয়ায় যেসব খরচ আসছে তার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে সব রাজনৈতিক দলের জন্য এই সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করছে, যাতে একটি অবাধ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারে। এটা হচ্ছে আমাদের মূল দায়িত্ব। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা সমান।