
রাজধানীর ডেমরায় ডিএসসিসির ১২ ফিট পাকা রাস্তার ৬ ফিট দখল করে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টায় বাঁধা দিলে ৬৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের একটি গ্রুপের সঙ্গে এলাকাবাসীর তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে ডগাইর নতুনপাড়া কালু ভূঁইয়া রোডের রাইজিং সান স্কুল সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ২০২০ সালে নির্মিত ডিএসসিসির ১২ ফিট পাকা রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে সোহরাব নামে স্থানীয় এক বিএনপি সমর্থক। এ ঘটনায় সাইদুল ভূঁইয়া ও সেকান্দর ভূঁইয়াসহ এলাকাবাসী বাঁধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয় সোহরাবের। পরবর্তীতে সোহরাবের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্থানীয় ৬৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাইদুল ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে। শুধু তাই নয়, সংর্ঘষ চলাকালে বেশ কয়েকজন পথচারিকেও বেধড়ক পিটুনী দেয় সন্ত্রাসী হেলাল গ্রুপের সদস্যরা। এতে এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে যুবদল গ্রুপের অন্যান্য শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৬৬নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা হেলাল জানায়, বিচ্ছিন্ন ঝগড়ার খবর পেয়ে মিমাংসার জন্য যুবদল নেতাকর্মীরা কালু ভূঁইয়া রোডে যায়। এ সময় আমাদের গ্রুপের শাহজালাল সজীবের (২৫) ডান পা কুপিয়ে মাংস খুলে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিল্লালের (২৬) মাথায় কোপ খাওয়ায় ৮ টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাদের ডেমরা থানা পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছে। মূলত সাইদুল ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সাইদুল ভূঁইয়ার পক্ষে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মূলত ডেমরা থানা যুবদলের সাধারণ সম্পদক পদ প্রত্যাশী আজীজের নেতৃত্বাধীন হেলাল গ্রুপ গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছে। তারা গত মঙ্গলবার সকালে সোহরাবের পক্ষে এসে সমাজসেবক সাইদুল ভূঁইয়াকে মারধর শুরু করে। এ সময় এলাকাবাসী হেলাল গ্রুপকে প্রতিহতের সময় সাজন ভূঁইয়াকে এলোপাতাড়ি মারধরের এক পর্যায়ে মাথায় হাতুড়িপেটা করে। একই সঙ্গে সিজন নামে আরেক ছেলেকেও বেধড়ক মারধর করে আহত করে। হেলালের বিরুদ্ধে জমিজমা দখল ও চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে ৬৬নং ওয়ার্ড বিএনপিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অবৈধভাবে রাস্তার উপরে স্থাপনা নির্মাণের কাজের বিষয় জানতে চাইলে সোহরাব বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরআগেও মিনার মসজিদ সংলগ্ম সোহরাবের পাঁচ তলা বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৈদ্যুতিক খুঁটির মই থেকে পড়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই মামলা থেকে বাঁচতে সোহরাব গং ডেমরা থানার সাবেক ওসি জহিরুল ইসলামকে ম্যানেজ করে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও কয়েকজন আহত হয়। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’