
ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে শিক্ষকদের ৪ গ্রুপের আন্দোলন
* প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি
* নন—এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্যপরিষদের দাবি মানদণ্ড ধরে এমপিওভুক্তিকরণ।
* এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট চান সরকারি নিয়মে শতভাগ ভাতা
* বাংলাদেশ বেসকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া শিক্ষকরা রয়েছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একক মানদণ্ড ধরে এমপিও ভুক্তির দাবিতে একযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্কুল—কলেজ—মাদ্রাসার শিক্ষকরা। ঠিক তার পাশেই আন্দোলন করছেন শিক্ষকদের আরেকটি গ্রুপ। তবে তারা ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। তারা দাবি করছেন, জাতীয়করণসহ সরকারি সুযোগ—সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে। একই ধরনের বিভিন্ন দাবি—দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষকদের আরও দুইটি গ্রুপ। এককথায় বলতে গেলে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক। গতকাল সোমবার সরেজমিনে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। শিক্ষকদের মোট চারটি গ্রুপ গত কয়েকদিন ধরেই নানা দাবি—দাওয়া নিয়ে অবস্থান করছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। তাদের কেউ কেউ গত দুই দিন, আবার অনেকে ৯ থেকে ১২ দিন ধরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে শত শত শিক্ষকদের মধ্যে কে কোন দাবিতে অবস্থান করছেন তা বোঝাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন নন—এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শিক্ষকরা। তাদের দাবি, স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির একমাত্র মানদণ্ড ধরে এমপিওভুক্তিকরণ। এ দাবিতে স্কুল, কলেজ, ডিগ্রি, মাদ্রাসা ও কারিগরির শিক্ষকরা একযোগে আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
তার পাশেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকদের আরেকটি গ্রুপ। তাদের দাবি, বৈষম্য দূর করে সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, মেডিকেল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে আগামী ঈদুল ফিতরের আগে তাদের দাবি—দাওয়া পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের দুইপাশে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষকদের আরও দুইটি গ্রুপ। এর মধ্যে একটির বাংলাদেশ বেসকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া শিক্ষকরা রয়েছেন। তারা গত নয় দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় তাদের দাবির বিষয়ে সম্মতি প্রদান করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে এ সংক্রান্ত আদেশ আসলেই তারা বাড়ি ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবন্ধী স্কুলের এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভালো ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরাও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন; তবে নোবেল তো দূরের বিষয় তারা কাজের স্বীকৃতিও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক—কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক—কর্মচারীরা এসব কথা বলেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, সারাদেশ থেকে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক—কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। দুইদিন ধরে আমরা এখানে অবস্থান করছি অথচ সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি আমাদের খেঁাজ—খবর নেননি। দেশের ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী। তাদের কী অপরাধ, তাদের সেবা করাটাই কী আমাদের অপরাধ? যদি তাই হয় তাহলে সরকার সেটা বলে দিক। আমরা ক্ষমা চেয়ে ঘরে ফিরে যাব।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনি শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। আমরাও শান্তির জন্য কাজ করছি। আমরা হয়তো নোবেল পাইনি। কিন্তু আমরা যখন কাজ শুরু করেছি তখন সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে বলা হয়েছে আমরা ভালো কাজ করছি। কিন্তু আমরা লাঞ্ছিত—বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে সদয় অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি আজকের মধ্যে ১৭৭২টি প্রতিবন্ধী স্কুলকে স্বীকৃতি প্রদান করুন। ভালো স্কুলসহ প্রতিটি স্কুলকে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণ করুণ। রমজানের আগে আমাদের স্বীকৃতি দিন। এসময় সংশ্লিষ্টরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো তাদের নিয়ে খেলা করছেন বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যের স্থান নেই উল্লেখ করে রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক—কর্মচারীরা।