
রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যৌথবাহিনীর কম্বাইন্ড টহল গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, সেসব জায়গায় সন্ধ?্যার পর থেকে যৌথবাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবে মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারে, সেজন্য তাদের মোটরসাইকেল দেয়া হবে বলেও জানান প্রেস সচিব।
একের পর এক অপরাধের খবরে দেশের মানুষ যখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায়, ঠিক তখন সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর টহল বাড়ানো হলো। যৌথভাবে টহল কার্যক্রম চলবে। পুলিশ, আর্মি, নেভি, বিজিবি সবাই একসঙ্গে কম্বাইন্ড পেট্রোলিং করবে।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান, কক্সবাজরের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের এসপি ও প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সভা থেকে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের গণপদযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ গণপদযাত্রা শুরু হয়। গণপদযাত্রা টিএসসি পেরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে চাইলে শিক্ষা ভবনের সামনে আটকে দেয়া হয় তাদের। এ সময় পদযাত্রায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী—তরুণদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পদযাত্রায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন এক বাংলাদেশ আশা করা হয়েছিল কিন্তু সেটি হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীদের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। ঘরে বসে থাকলেও নিরাপদ বোধ করার সুযোগ নেই। তাই রাজপথে নামা হয়েছে। তারা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। গত রোববার রাতে একজন ব্যবসায়ীকে বাসার সামনে গুলি করেছে। পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করছে না। এ অবস্থায় নারীসহ কেউ নিরাপদ নয়। তাই আমরা চাই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করবেন।