
মহান শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ শুক্রবার জনতার ঢল নামবে একুশের বইমেলায়। এদিন সকাল থেকেই দর্শনার্থী ও বইপ্রেমী মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে জনসমুদ্রে রূপ নিবে প্রাণের বইমেলা প্রাঙ্গণে।
জানা গেছে, আজ শুক্রবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তার উপর আজ ভাষা দিবস। দুই-এ মিলে বইমেলায় লাখো মানুষের আগমনে ঢল নামার আশা করছেন প্রকাশক ও লেখকরা। এদিন ভোরের আলো যখন ৮টার কাঁটায় গিয়ে পৌঁছবে, তখন শহীদ মিনারের ঢল গিয়ে পড়বে অমর একুশের গ্রন্থমেলায়। কারণ আজ শুক্রবার শোক আর গর্বের সমন্বিত চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়েই মেলামুখী হবেন। তাদের আগমনকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতেই গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যস্ত দিন পার করেছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। স্টলে স্টলে অধিক সংখ্যক বই উঠাতে তৎপর দেখা গেছে অনেক প্রকাশককে। দেখা গেছে কবিতার বইগুলো পেছন থেকে নিয়ে এসেছে সামনে সারিতে।
কথা হয় বেশ কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে। তারা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারিতে কবিতার বই বেশি চলে বলে এ বইগুলো সামনের সারিতে আনা হয়েছে। তবে আজ শুক্রবার একুশের দিন হওয়ায় বিক্রি বেশ ভালো হবে। ২ ফেব্রুয়ারির আগেরদিন বৃহস্পতিবারও উপচেপড়া ভিড় আছে মেলাজুড়ে। কিন্তু আসল ভিড়টি নামবে শুক্রবার, একুশের দিনে। লাখো মানুষের ঢল নামবে শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে এ মেলা প্রাঙ্গণে। এ কারণে সকাল ৮টা থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত কাল খোলা থাকবে মেলার দ্বার।
গতকাল বৃহস্পতিবার একুশে বইমেলা ২০তম দিনে নতুন বই এসেছে ১১২টি। গল্প-১৩টি, উপন্যাস-৮টি, ছড়া-৩টি, শিশু সাহিত্য-৩টি, গবেষণা-৩টি, অন্যান্য-৫৪টি।
আলোচনা অনুষ্ঠান: এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘উপন্যাস, ‘ঔপন্যাসিক ও রশীদ করীমের উপন্যাসবীক্ষা : কয়েকটি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অনিরুদ্ধ কাহালি এবং সাখাওয়াত টিপু। এতে সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।
প্রাবন্ধিক বলেন, রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যাই সর্বাধিক, সেই অর্থে তিনি প্রথমত ও প্রধানত একজন ঔপন্যাসিক। তার উপন্যাসে মধ্যবিত্তমানসের দ্বিধান্বিত ও অন্তদ্বন্দ্বময় আত্মস্বরূপের উন্মোচন ঘটেছে। ঔপন্যাসিক হিসেবে রশীদ করীম নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাঙালির ইতিহাস, সমাজ ও আচার-আচরণের বিবর্তন-পরিবর্তন বিষয়েও তিনি লিখেছেন। তবে সবই লিখেছেন একজন ঔপন্যাসিকের জায়গা থেকে। উপন্যাস পাঠের ভেতর দিয়ে আনন্দটাকেই তিনি প্রধান মনে করেছেন। এজন্য পরিশ্রমী পাঠকের চেয়ে রসিক পাঠকের দিকেই রশীদ করীমের পক্ষপাত। তিনি সজীব-স্বচ্ছ চোখে নিজে কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটিই তার দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা।
আলোচকদ্বয় বলেন, রশীদ করীম তার জীবদ্দশায় ব্রিটিশ পর্ব, পাকিস্তান পর্ব ও বাংলাদেশ পর্ব প্রত্যক্ষ করেছেন, ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ব্যাপক। আধুনিক সমাজে ব্যক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো রশীদ করীমের উপন্যাসে প্রবলভাবে উপস্থিত হয়েছে। তিনি সমাজকে অনেক গভীরভাবে বিচার করেছেন। তার উপন্যাসের চরিত্রগুলো পাঠককে মোহবিষ্ট করে এবং পাঠক সহজেই নিজেকে সেইসব চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত বড়ুয়া বলেন, রশীদ করীম আমাদের বাংলা সাহিত্যের একজন সার্থক ঔপন্যাসিক। তার সাহিত্য ও সাহিত্যচিন্তা নিয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের পাঠকদের সঙ্গে রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের পরিচয় করিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এদিন লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেনÑকবি ও গদ্যকার শাহাবুদ্দীন নাগরী এবং কবি ইমরান মাহফুজ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মো. সোলায়মান চৌধুরী, লেলিনা আক্তার, শাহীন রিজভী, মো. আশরাফুল হক, তাজ ইসলাম, আলতাফ হোসাইন রানা, চঞ্চল শাহরিয়ার, জুবায়ের আন নায়েম এবং আউয়াল খোন্দকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এস এম শাহনুর, এম এ কুদ্দুস, কামরুন নেসা চৌধুরী এবং জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা।
আজকে অনুষ্ঠান : আজ শুক্রবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত ১২:৩০টায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বইমেলা শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ৮টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে সভাপতিত্ব করবেন কবি হাসান হাফিজ।
অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫: এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
জানা গেছে, আজ শুক্রবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তার উপর আজ ভাষা দিবস। দুই-এ মিলে বইমেলায় লাখো মানুষের আগমনে ঢল নামার আশা করছেন প্রকাশক ও লেখকরা। এদিন ভোরের আলো যখন ৮টার কাঁটায় গিয়ে পৌঁছবে, তখন শহীদ মিনারের ঢল গিয়ে পড়বে অমর একুশের গ্রন্থমেলায়। কারণ আজ শুক্রবার শোক আর গর্বের সমন্বিত চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়েই মেলামুখী হবেন। তাদের আগমনকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতেই গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যস্ত দিন পার করেছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। স্টলে স্টলে অধিক সংখ্যক বই উঠাতে তৎপর দেখা গেছে অনেক প্রকাশককে। দেখা গেছে কবিতার বইগুলো পেছন থেকে নিয়ে এসেছে সামনে সারিতে।
কথা হয় বেশ কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে। তারা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারিতে কবিতার বই বেশি চলে বলে এ বইগুলো সামনের সারিতে আনা হয়েছে। তবে আজ শুক্রবার একুশের দিন হওয়ায় বিক্রি বেশ ভালো হবে। ২ ফেব্রুয়ারির আগেরদিন বৃহস্পতিবারও উপচেপড়া ভিড় আছে মেলাজুড়ে। কিন্তু আসল ভিড়টি নামবে শুক্রবার, একুশের দিনে। লাখো মানুষের ঢল নামবে শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে এ মেলা প্রাঙ্গণে। এ কারণে সকাল ৮টা থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত কাল খোলা থাকবে মেলার দ্বার।
গতকাল বৃহস্পতিবার একুশে বইমেলা ২০তম দিনে নতুন বই এসেছে ১১২টি। গল্প-১৩টি, উপন্যাস-৮টি, ছড়া-৩টি, শিশু সাহিত্য-৩টি, গবেষণা-৩টি, অন্যান্য-৫৪টি।
আলোচনা অনুষ্ঠান: এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘উপন্যাস, ‘ঔপন্যাসিক ও রশীদ করীমের উপন্যাসবীক্ষা : কয়েকটি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অনিরুদ্ধ কাহালি এবং সাখাওয়াত টিপু। এতে সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।
প্রাবন্ধিক বলেন, রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যাই সর্বাধিক, সেই অর্থে তিনি প্রথমত ও প্রধানত একজন ঔপন্যাসিক। তার উপন্যাসে মধ্যবিত্তমানসের দ্বিধান্বিত ও অন্তদ্বন্দ্বময় আত্মস্বরূপের উন্মোচন ঘটেছে। ঔপন্যাসিক হিসেবে রশীদ করীম নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাঙালির ইতিহাস, সমাজ ও আচার-আচরণের বিবর্তন-পরিবর্তন বিষয়েও তিনি লিখেছেন। তবে সবই লিখেছেন একজন ঔপন্যাসিকের জায়গা থেকে। উপন্যাস পাঠের ভেতর দিয়ে আনন্দটাকেই তিনি প্রধান মনে করেছেন। এজন্য পরিশ্রমী পাঠকের চেয়ে রসিক পাঠকের দিকেই রশীদ করীমের পক্ষপাত। তিনি সজীব-স্বচ্ছ চোখে নিজে কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটিই তার দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা।
আলোচকদ্বয় বলেন, রশীদ করীম তার জীবদ্দশায় ব্রিটিশ পর্ব, পাকিস্তান পর্ব ও বাংলাদেশ পর্ব প্রত্যক্ষ করেছেন, ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ব্যাপক। আধুনিক সমাজে ব্যক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো রশীদ করীমের উপন্যাসে প্রবলভাবে উপস্থিত হয়েছে। তিনি সমাজকে অনেক গভীরভাবে বিচার করেছেন। তার উপন্যাসের চরিত্রগুলো পাঠককে মোহবিষ্ট করে এবং পাঠক সহজেই নিজেকে সেইসব চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত বড়ুয়া বলেন, রশীদ করীম আমাদের বাংলা সাহিত্যের একজন সার্থক ঔপন্যাসিক। তার সাহিত্য ও সাহিত্যচিন্তা নিয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের পাঠকদের সঙ্গে রশীদ করীমের সাহিত্যকর্মের পরিচয় করিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এদিন লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেনÑকবি ও গদ্যকার শাহাবুদ্দীন নাগরী এবং কবি ইমরান মাহফুজ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মো. সোলায়মান চৌধুরী, লেলিনা আক্তার, শাহীন রিজভী, মো. আশরাফুল হক, তাজ ইসলাম, আলতাফ হোসাইন রানা, চঞ্চল শাহরিয়ার, জুবায়ের আন নায়েম এবং আউয়াল খোন্দকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এস এম শাহনুর, এম এ কুদ্দুস, কামরুন নেসা চৌধুরী এবং জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা।
আজকে অনুষ্ঠান : আজ শুক্রবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত ১২:৩০টায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বইমেলা শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ৮টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে সভাপতিত্ব করবেন কবি হাসান হাফিজ।
অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫: এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।