
রাজধানীজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। বিকল্প হিসেবে অনেকে বেছে নিচ্ছেন বিদ্যুৎচালিত চুলা। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এ চুলা কিনতে আগ্রহও দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের মাঝে। ক্রেতারা বলছেন, গ্যাস সংকটের সহজ সমাধান হিসেবেই তারা এই চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু দিন ধরে চলছে গ্যাস সংকট। সকালে থাকে তো বিকেলে থাকে না। কখনো থাকে অল্প চাপ। বিকল্প উপায়ে রান্না করতে গিয়ে নাজেহাল নগরবাসী। চলমান গ্যাস সমস্যার সমাধানে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অনেক ক্রেতাই আকৃষ্ট হচ্ছেন বিদ্যুৎচালিত চুলায়। ভোক্তারা বলেন, গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে হচ্ছে। তবে দাম তুলনামূলক বেশি। ইন্ডাকশন, ইনফারেড নামে বিক্রি হওয়া বিদ্যুৎ চালিত চুলাসহ হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিভিন্ন পণ্যে ছাড় ও নানা অফার দিচ্ছেন বিক্রেতারা। তারা বলেন, ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন। কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রি-অর্ডার করে যাচ্ছেন। দেয়া হচ্ছে ছাড়ও। এছাড়া বরাবরের মতো মেলার বড় আকর্ষণ টিভি, ফ্রিজ। তবে অনেক ক্রেতাই এখন কেবল মেলা ঘুরে দেখছেন। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বলেন, প্রথম দিকে শুধু স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসা, কেনাকাটা শুরু হবে মাঝামাঝি সময় থেকে। এখনও জিনিসপত্রের দাম চড়া। ব্যতিক্রমধর্মী পণ্যও কম। শেষ দিকে স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো ক্রেতা আকৃষ্টে নানারকম ছাড় দিয়ে থাকে। তখন কম দামে পণ্য কেনা যাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মেলা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজন করা হতো। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলা আয়োজন করা হয়নি। আর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলা পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে আয়োজন করা হয়। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্য মেলায় বিশ্বের ৭টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে ৩৬২টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়েছে জুলাই চত্বর, ছত্রিশ চত্বর ও তারুণ্যের প্যাভিলিয়ন। ই-টিকিটের ব্যবস্থা থাকায় প্রবেশ পথে রয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা। প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল বা প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস।