
রাজউকের ২/১ জোনের অথরাইজড অফিসারকে ঘুষ নিয়ে দিচ্ছে বহিরাগত আমিনুল ও সাত্তার
রাজউকের ২/১ জোনের অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ আবিল আয়ামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাজউকের স্টাফদের বাদ দিয়ে বগিরাগত আমিনুল ও সাত্তারকে দিয়ে প্রত্যেক ফাইল থেকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। তিনি ২/১ জোনের দায়িত্ব থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সাভারে।
জানা গেছে, রাজধানী উন্নায়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সেবা খাতে ঘুষ ও দুর্নীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই গোপন লেনদেনের বিষয়টি মেনে নিয়েই কাজ করিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিনের দাপট দেখিয়ে উত্তরায় রাজউক অফিসে বিআইডব্লিউটিএ মাহবুব সরদার অথরাইজড অফিসার হিসেবে রাজউক অফিসে যোগদান করেন। তারপর বগিরাগত আমিনুলকে রাজউকের ফাইল বাণিজ্য করার জন্য ও সাত্তারকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে অফিসে রাখেন। আমিনুল ও সাত্তার দলাল সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য করছেন।
মাহবুব সরদার নামে দৈনিক জনতাসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার গত ৫ আগস্ট পতন হওয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ থেকে বদলি হয়ে অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ আবিল আয়ান যোগদান করেন ২/১ উত্তরা রাজউক অফিসে। তিনি রাজধানী উত্তরার দক্ষিণখান, ফায়দাবাদ এলাকায় ভবনে কোন বিধিমালা মানছেন না ভবন মালিকরা। রাজধানী দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় বহির্ভূত ভবন উচ্ছেদ অভিযান করে আসছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। ২/১ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক প্রজ্ঞাপন জারি কথা থাকলেও ভবন এর মালিকরা তথ্য সাইনবোড লাগানো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভবনের কেয়ারটেকার নাজমুল মিয়া জানান, পরিদর্শকরা আসেন ভবনের মালিক পক্ষের সাথে পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরে কি হয় আমরা জানিনা। দক্ষিণখান সাপরা মসজিদ, টিএসি, দেওয়ান বাড়ি, আজমপুর কাঁচা বাজার এলাকার কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করার পর কোন জায়গায় সেফটি নেই, রাস্তার উপরে বাড়ি করছেন এই বিষয়ে ভবন মালিকদের কোন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিদর্শক মেহেদী হাসান এর সাথে কথা বললে সে সাংবাদিক সাথে কথা বলতে নারাজ। একাধিক ব্যক্তি জানান, ইমারত পরিদর্শক মেহেদী হাসান, সরফুদ্দীন, সুব্রত তালুকদার বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে নোটিশের মাধ্যমে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
২/১ জোনের অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ আবিল আয়াম দৈনিক জনতাকে বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেন। এছাড়াও তার অফিসে বহিরাগত লোক নেই বলেও জানিয়েছেন। তিনি দৈনিক জনতার রিপোর্টারকে রাজউকের অফিসে যাওয়ার জন্য বলেন।
রাজউকের পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, এইসব বিষয়ে তিনি দেখবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।