আজ মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণের দিন। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য ও বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর)। বীরের জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম আত্মপ্রকাশ করার দিন আজ।
১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সব সময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও, বিশেষ করে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের জন্য। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাখ লাখ মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। তাদের সবাইকেই জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসেবে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তির দিন আজ।
জাতীয় পর্যায়ে এদিন ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা: দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। গতকাল রোববার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাই আসুন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি। দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি উন্নত-সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ-মহান বিজয় দিবসে এই আমার প্রত্যাশা। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা অর্জন করেছি কাক্সিক্ষত বিজয়। আমরা পেয়েছি একটি সার্বভৌম দেশ, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা। পেয়েছি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে নিজেদের অস্তিত্ব আর মর্যাদা। বিজয়ের আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। তিনি বলেন, বিজয়ের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সকল জাতীয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁরা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। আমি আরো স্মরণ করি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাদেরকে। জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতার স্বাদ এবং জাতি হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি। লাখ লাখ শহিদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই আমাদের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করছে। প্রধান উপদেষ্টা ‘বিজয় দিবস ২০২৪’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করবে: বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গত শনিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সময় ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা বাণী দেবেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এছাড়াও দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলার (চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের) আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য থাকবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি নেয়া হবে। এদিন বিকালে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারগুলোকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে এবং চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
বিজয় র্যালি করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয় র্যালি’ করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ওই পোস্ট বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজন বিজয় র?্যালি। জমায়েত হবে সকাল ১০টায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সবাইকে নিমন্ত্রণ।
শ্রদ্ধায় সিক্ত হতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ: আজকের এই দিনে ৩০ লাখ শ্রেষ্ঠ সন্তানের জীবন ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালি জাতি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই পরাধীনতার শিকল ছেঁড়া, তাদের শ্রদ্ধাভরে আজ সোমবার স্মরণ করবে গোটা জাতি। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের অবিস্মরণীয় গৌরবময় এ দিনে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যাবে শহীদ বেদি। তাই তো গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ বাহারি ফুল আর রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের রঙে রঙিন করে তুলেছেন স্মৃতিসৌধের কর্মীরা। গতকাল রোববার সকালে সাভারের নবীনগরে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়ের লাল ও সবুজ ফুলে সুশোভিত করে তোলা হয়েছে গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ। রং তুলির আঁচড়ে পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধ সেজেছে বিজয়ের সাজে। শ্রদ্ধায় সিক্ত করতে ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে শহীদ বেদিসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সম্পন্ন করা হয়েছে আলোকসজ্জাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি। গণপূর্ত বিভাগের তথ্য মতে, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রথম শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা। পর্যায়ক্রমে বিদেশি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনসহ বিজয়ী লাখো জনতা জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এই লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় সৌধ প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করে তুলতে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই অর্ধশতাধিক কর্মী বিজয়ের রং আর ফুলে ফুলে সুশোভিত করে তোলে বাঙালির আবেগের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতীয় স্মৃতিসৌধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করেন আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ হলো বাঙালির আবেগের স্থান, স্বাধীনতা অনুভবের স্থান। এখানেই শায়িত আছেন জাতিকে মুক্তি এনে দেয়া শহীদরা। আমি তাদের খেদমতে কাজ করি। যা সবার ভাগ্যে এমন সুযোগ জোটে না। আমি গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। আজ শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি জাতীয় স্মৃতিসৌধে কাজ করতে পেরে গর্বিত। রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের সাজে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজিয়ে তুলেছেন আল-আমিন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানেই কাজ করি। আমার কাজ হলো রং ও তুলি দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজানো। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমি এই কাজ করেছি। জাতির বীর সন্তানদের জীবনের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের শ্রদ্ধা জানাতে সৌধ প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করার কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত। আমি বাকি জীবনটা যেন শহীদের খেদমতে কাটিয়ে দিতে পারি। কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকলেও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ১০৮ একর জায়গাজুড়েই জোরদার করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন স্থান। ইতোমধ্যেই সৌধ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ মহাপরিচালক (ডিআইজি) একেএম আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশেপাশে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু সৌধ এলাকা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর মেট্রো নিরাপত্তার বলয়ে চলে আসবে। প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে তিন হাজারের পুলিশের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় করা হয়েছে। ১১টি সেক্টরে কাজ করছে পুলিশ। সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে বিজয় দিবস ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, বিদেশি কূটনৈতিক শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আমরা ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত করছি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১০৮ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই সৌধে প্রতি বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবদেন করেন।
বিজয় দিবসে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি: মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাতে নিয়েছে নানা কর্মসূচি। গতকাল রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল আলম। কর্মসূচির মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে জমায়েত। এদিন সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এছাড়া সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়াসহ বিভিন্ন হল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। কলা ভবন, কার্জন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও স্মৃতি চিরন্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে।
বিজয় দিবসে বিএনপির কর্মসূচি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর ছাড়া সারাদেশের সব জেলা ও মহানগরে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর (ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি) ব্যতিরেকে দেশব্যাপী সব জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র্যালি সফল করতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করা হলো। এছাড়া দলটি বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার বেলা ২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা করেছে দলটি। আজ সোমবার ভোরে দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং সেখান থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ; বেলা ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ‘সর্বজনীন কনসার্ট’ আয়োজন করা হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আলোকসজ্জাও করা হবে।
বিজয় দিবসে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে জাপা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে জাতীয় পার্টি (জাপা)। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দলটির জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাপা চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপা মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুল হক চুন্নু। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের।
বিজয় দিবসে র?্যালি করবে ছাত্রশিবির: বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র?্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত রোববার বিকালে সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর এই র?্যালির আয়োজন করবে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ৫৪তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম (উত্তর গেট) থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র?্যালি অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। র?্যালিতে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।
বিজয় দিবসে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত সব শিশু পার্ক: মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার সব শিশু পার্কগুলো শিশুদের জন্য আজ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রেখে বিনা টিকিটে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম ডিএনসিসির আওতাধীন ছয়টি শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির আলোকে সব শিশু পার্কসমূহ মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে শিশুদের জন্য ১৬ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রেখে বিনা টিকিটে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে বারিধারার ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস (শ্যামলী ওয়ান্ডারল্যান্ড পরিচালনার দায়িত্বে), যমুনা ফিউচার পার্ক, গোবিন্দপুর উত্তরখানের গ্রিন ভিউ রিসোর্ট, উত্তরখান মৈয়নারটেকের দি হোমস গার্ডেন, দিয়াবাড়ির সোনারগাঁও জনপথের ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড এবং মিরপুরের তামান্না শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএনসিসি।
বিজয় দিবসে যান চলাচলে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা: মহান বিজয় দিবসের দিন নির্ধারিত কিছু সড়কে যানবাহন চলাচলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত রোববার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সোমবার মহান বিজয় দিবসের প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে ঢাকা থেকে আমিন বাজার হয়ে সাভার স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে ভোর ৪টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা যাবেন। এ উপলক্ষে ওইদিন ভোর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনগুলোকে গাবতলী-আমিন বাজার ব্রিজ-সাভার রোড পরিহার করে নিম্নেবর্ণিত বিকল্প সড়কে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। গাবতলী থেকে সাভার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া যানবাহন ঢাকা এয়ারপোর্ট রোড হয়ে আব্দুল্লাহপুর ক্রসিং দিয়ে আশুলিয়া সড়ক হয়ে চলাচল করবে। কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল ক্রসিং থেকে ঢাকার বাইরে ছেড়ে যাওয়া যানবাহন টেকনিক্যাল ক্রসিং থেকে ডানে টার্ন করে মিরপুর-০১ নং হয়ে দিয়াবাড়ি ক্রসিং দিয়ে চলাচল করবে। আরিচা থেকে আমিন বাজার হয়ে ঢাকা মহানগরগামী যানবাহনসমূহ নবীনগর বাজারে বামে টার্ন করে আশুলিয়া হয়ে চলাচল করবে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যানবাহনসমূহ কালিয়াকৈর-গাজীপুর চৌরাস্তা-টঙ্গী হয়ে চলাচল করবে।
এবার মাঠে নামছেন নান্নু-আকরাম-লিপুরা: প্রতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে থাকে বিসিবি। এবারো তার ব্যত্যয় হচ্ছে না। আজ সোমবার মহান বিজয় দিবসে শহীদ মুশতাক একাদশ এবং শহীদ জুয়েল একাদশের হয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবেন দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে দশটায়। বাংলাদেশ দলের সাবেক সব তারকাদের মিলন মেলা হয়ে থাকে এদিন। কালও তার কমতি কিছু রাখেনি বিসিবি। রকিবুল হাসান থেকে শুরু করে গাজী আশরাফ হোসেন হয়ে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খানরাও থাকবেন এই ম্যাচে।
শহীদ মুশতাক একাদশ: আব্দুল হান্নান সরকার, ফাহিম মুনতাসির সুমিত, গাজী আশরাফ হোসেন, হাসানুজ্জামান ঝড়ু, হাসিবুল হোসাইন শান্ত, খান আব্দুর রাজ্জাক, খন্দকার সাইদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রানা, আকরাম খান, মেহরাব হোসেন অপি, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মোহাম্মদ আলি, মুশফিকুর রহমান বাবু, নাজমুল হোসেন, সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। শহীদ জুয়েল একাদশ : এ এস এম রকিবুল হাসান, এহসানুল হক সেজান, এনামুল হক মনি, হাবিবুল বাশার সুমন, হারুন অর রশিদ লিটন, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, জাবেদ ওমর বেলিম, খালেদ মাসুদ পাইলট, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ রফিক, নেয়ামুল রশিদ রাহুল, সেলিম সাহেদ, সানাউর হোসোন, শাহরিয়ার নাফিস, তালহা জুবায়ের।
১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সব সময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও, বিশেষ করে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের জন্য। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাখ লাখ মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। তাদের সবাইকেই জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসেবে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তির দিন আজ।
জাতীয় পর্যায়ে এদিন ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা: দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। গতকাল রোববার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাই আসুন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি। দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি উন্নত-সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ-মহান বিজয় দিবসে এই আমার প্রত্যাশা। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা অর্জন করেছি কাক্সিক্ষত বিজয়। আমরা পেয়েছি একটি সার্বভৌম দেশ, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা। পেয়েছি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে নিজেদের অস্তিত্ব আর মর্যাদা। বিজয়ের আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। তিনি বলেন, বিজয়ের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সকল জাতীয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁরা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। আমি আরো স্মরণ করি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাদেরকে। জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতার স্বাদ এবং জাতি হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি। লাখ লাখ শহিদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই আমাদের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করছে। প্রধান উপদেষ্টা ‘বিজয় দিবস ২০২৪’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করবে: বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গত শনিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সময় ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা বাণী দেবেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এছাড়াও দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলার (চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের) আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য থাকবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি নেয়া হবে। এদিন বিকালে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারগুলোকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে এবং চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
বিজয় র্যালি করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয় র্যালি’ করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ওই পোস্ট বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজন বিজয় র?্যালি। জমায়েত হবে সকাল ১০টায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সবাইকে নিমন্ত্রণ।
শ্রদ্ধায় সিক্ত হতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ: আজকের এই দিনে ৩০ লাখ শ্রেষ্ঠ সন্তানের জীবন ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালি জাতি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই পরাধীনতার শিকল ছেঁড়া, তাদের শ্রদ্ধাভরে আজ সোমবার স্মরণ করবে গোটা জাতি। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের অবিস্মরণীয় গৌরবময় এ দিনে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যাবে শহীদ বেদি। তাই তো গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ বাহারি ফুল আর রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের রঙে রঙিন করে তুলেছেন স্মৃতিসৌধের কর্মীরা। গতকাল রোববার সকালে সাভারের নবীনগরে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়ের লাল ও সবুজ ফুলে সুশোভিত করে তোলা হয়েছে গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ। রং তুলির আঁচড়ে পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধ সেজেছে বিজয়ের সাজে। শ্রদ্ধায় সিক্ত করতে ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে শহীদ বেদিসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সম্পন্ন করা হয়েছে আলোকসজ্জাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি। গণপূর্ত বিভাগের তথ্য মতে, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রথম শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা। পর্যায়ক্রমে বিদেশি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনসহ বিজয়ী লাখো জনতা জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এই লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় সৌধ প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করে তুলতে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই অর্ধশতাধিক কর্মী বিজয়ের রং আর ফুলে ফুলে সুশোভিত করে তোলে বাঙালির আবেগের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতীয় স্মৃতিসৌধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করেন আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ হলো বাঙালির আবেগের স্থান, স্বাধীনতা অনুভবের স্থান। এখানেই শায়িত আছেন জাতিকে মুক্তি এনে দেয়া শহীদরা। আমি তাদের খেদমতে কাজ করি। যা সবার ভাগ্যে এমন সুযোগ জোটে না। আমি গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। আজ শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি জাতীয় স্মৃতিসৌধে কাজ করতে পেরে গর্বিত। রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের সাজে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজিয়ে তুলেছেন আল-আমিন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানেই কাজ করি। আমার কাজ হলো রং ও তুলি দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজানো। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমি এই কাজ করেছি। জাতির বীর সন্তানদের জীবনের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের শ্রদ্ধা জানাতে সৌধ প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করার কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত। আমি বাকি জীবনটা যেন শহীদের খেদমতে কাটিয়ে দিতে পারি। কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকলেও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ১০৮ একর জায়গাজুড়েই জোরদার করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন স্থান। ইতোমধ্যেই সৌধ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ মহাপরিচালক (ডিআইজি) একেএম আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশেপাশে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু সৌধ এলাকা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর মেট্রো নিরাপত্তার বলয়ে চলে আসবে। প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে তিন হাজারের পুলিশের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় করা হয়েছে। ১১টি সেক্টরে কাজ করছে পুলিশ। সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে বিজয় দিবস ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, বিদেশি কূটনৈতিক শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আমরা ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত করছি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১০৮ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই সৌধে প্রতি বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবদেন করেন।
বিজয় দিবসে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি: মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাতে নিয়েছে নানা কর্মসূচি। গতকাল রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল আলম। কর্মসূচির মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে জমায়েত। এদিন সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এছাড়া সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়াসহ বিভিন্ন হল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। কলা ভবন, কার্জন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও স্মৃতি চিরন্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে।
বিজয় দিবসে বিএনপির কর্মসূচি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর ছাড়া সারাদেশের সব জেলা ও মহানগরে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর (ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি) ব্যতিরেকে দেশব্যাপী সব জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র্যালি সফল করতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করা হলো। এছাড়া দলটি বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার বেলা ২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা করেছে দলটি। আজ সোমবার ভোরে দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং সেখান থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ; বেলা ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ‘সর্বজনীন কনসার্ট’ আয়োজন করা হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আলোকসজ্জাও করা হবে।
বিজয় দিবসে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে জাপা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে জাতীয় পার্টি (জাপা)। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দলটির জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাপা চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপা মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুল হক চুন্নু। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের।
বিজয় দিবসে র?্যালি করবে ছাত্রশিবির: বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র?্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত রোববার বিকালে সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর এই র?্যালির আয়োজন করবে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ৫৪তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম (উত্তর গেট) থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র?্যালি অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। র?্যালিতে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।
বিজয় দিবসে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত সব শিশু পার্ক: মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার সব শিশু পার্কগুলো শিশুদের জন্য আজ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রেখে বিনা টিকিটে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম ডিএনসিসির আওতাধীন ছয়টি শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির আলোকে সব শিশু পার্কসমূহ মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে শিশুদের জন্য ১৬ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রেখে বিনা টিকিটে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে বারিধারার ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস (শ্যামলী ওয়ান্ডারল্যান্ড পরিচালনার দায়িত্বে), যমুনা ফিউচার পার্ক, গোবিন্দপুর উত্তরখানের গ্রিন ভিউ রিসোর্ট, উত্তরখান মৈয়নারটেকের দি হোমস গার্ডেন, দিয়াবাড়ির সোনারগাঁও জনপথের ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড এবং মিরপুরের তামান্না শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএনসিসি।
বিজয় দিবসে যান চলাচলে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা: মহান বিজয় দিবসের দিন নির্ধারিত কিছু সড়কে যানবাহন চলাচলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত রোববার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সোমবার মহান বিজয় দিবসের প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে ঢাকা থেকে আমিন বাজার হয়ে সাভার স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে ভোর ৪টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা যাবেন। এ উপলক্ষে ওইদিন ভোর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনগুলোকে গাবতলী-আমিন বাজার ব্রিজ-সাভার রোড পরিহার করে নিম্নেবর্ণিত বিকল্প সড়কে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। গাবতলী থেকে সাভার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া যানবাহন ঢাকা এয়ারপোর্ট রোড হয়ে আব্দুল্লাহপুর ক্রসিং দিয়ে আশুলিয়া সড়ক হয়ে চলাচল করবে। কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল ক্রসিং থেকে ঢাকার বাইরে ছেড়ে যাওয়া যানবাহন টেকনিক্যাল ক্রসিং থেকে ডানে টার্ন করে মিরপুর-০১ নং হয়ে দিয়াবাড়ি ক্রসিং দিয়ে চলাচল করবে। আরিচা থেকে আমিন বাজার হয়ে ঢাকা মহানগরগামী যানবাহনসমূহ নবীনগর বাজারে বামে টার্ন করে আশুলিয়া হয়ে চলাচল করবে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যানবাহনসমূহ কালিয়াকৈর-গাজীপুর চৌরাস্তা-টঙ্গী হয়ে চলাচল করবে।
এবার মাঠে নামছেন নান্নু-আকরাম-লিপুরা: প্রতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে থাকে বিসিবি। এবারো তার ব্যত্যয় হচ্ছে না। আজ সোমবার মহান বিজয় দিবসে শহীদ মুশতাক একাদশ এবং শহীদ জুয়েল একাদশের হয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবেন দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে দশটায়। বাংলাদেশ দলের সাবেক সব তারকাদের মিলন মেলা হয়ে থাকে এদিন। কালও তার কমতি কিছু রাখেনি বিসিবি। রকিবুল হাসান থেকে শুরু করে গাজী আশরাফ হোসেন হয়ে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খানরাও থাকবেন এই ম্যাচে।
শহীদ মুশতাক একাদশ: আব্দুল হান্নান সরকার, ফাহিম মুনতাসির সুমিত, গাজী আশরাফ হোসেন, হাসানুজ্জামান ঝড়ু, হাসিবুল হোসাইন শান্ত, খান আব্দুর রাজ্জাক, খন্দকার সাইদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রানা, আকরাম খান, মেহরাব হোসেন অপি, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মোহাম্মদ আলি, মুশফিকুর রহমান বাবু, নাজমুল হোসেন, সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। শহীদ জুয়েল একাদশ : এ এস এম রকিবুল হাসান, এহসানুল হক সেজান, এনামুল হক মনি, হাবিবুল বাশার সুমন, হারুন অর রশিদ লিটন, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, জাবেদ ওমর বেলিম, খালেদ মাসুদ পাইলট, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ রফিক, নেয়ামুল রশিদ রাহুল, সেলিম সাহেদ, সানাউর হোসোন, শাহরিয়ার নাফিস, তালহা জুবায়ের।