
* সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস * বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পূর্ব তিমুরে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা
বাংলাদেশ ও পূর্ব তিমুরের মধ্যেকার সম্পর্ক ক্রমশ গভীর এবং প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রোববার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমাদের সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। তবে চুক্তির বাইরে, আমরা নিশ্চিত করছি যে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীকে তার দেশে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেছেন। অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করেন যে, যখন তিনি প্রথমবার পূর্ব তিমুর সফর করেছিলেন, তখন তিনি দেখেছিলেন যে বাংলাদেশের অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সেই দেশের গ্রামের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। তিনি তিমুর-লেস্তেকে আহ্বান জানান বাংলাদেশি পণ্য নিজ দেশে উৎপাদন করতে, কারণ এর চারপাশে বড় বাজার রয়েছে। এখনও অনেক বাংলাদেশি তিমুর-লেস্তেতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তিমুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখব। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিমুর-লেস্তে শিগগিরই আসিয়ান ফোরামের সদস্য হবে এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসিয়ান সদস্য হিসেবে তার দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সমর্থন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তারা উভয় নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব এবং এই বিষয়ে তিমুর-লেস্তের আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন চেয়েছেন। বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও তাদের সমর্থকদের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা তার সম্মান জানাতে হবে। বৈশ্বিক শান্তিতে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৯৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী রামোস-হোর্তা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহান লেখক। তিনি শুধু পূর্ব তিমুরের জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কাজ করেন। রামোস-হোর্তার বন্ধু হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন যখন রামোস-হোর্তা নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ ক্ষুদ্রঋণের জন্য দান করেছেন। অধ্যাপক ইউনূস জানান, রামোস-হোর্তা তাঁকে ক্ষুদ্রঋণ প্রচারের জন্য পূর্ব তিমুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্রঋণের একজন ভালো বন্ধু বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, আগের সরকারের রোষানল থেকে তাঁকে রক্ষা করার জন্য ১০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বারবার বিবৃতি দিয়েছেন। রামোস-হোর্তা সেই বিবৃতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ব তিমুরের জন্ম বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত। এই দেশটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন জাতিসংঘ মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আমীরা হকের ভূমিকা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পুলিশ বাহিনী পূর্ব তিমুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি জানান, ২০০৪ সালে আমীরা হকের আমন্ত্রণে পূর্ব তিমুরে সফরের সময় তিনি দেখেছিলেন কীভাবে বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলাদেশিরাই দেশটি কার্যত চালাচ্ছিল।
এদিকে, বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তাঁর দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেই সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। তিনি বলেন, আগামী বছর তিমুর-লেস্তে চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। রামোস-হোর্তা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক ইউনূসকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহংকার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন দেশের পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল। অধ্যাপক ইউনূসকে নিজের ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করেন রামোস-হোর্তা। পাশাপাশি আতিথেয়তা দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তাঁকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের মধ্যে দু’টি চুক্তি সই : বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ভিসা অব্যাহতি এবং দ্বিপক্ষীয় কনসালটেশন মেকানিজম (বিসিএম) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে দু’টি চুক্তি সই হয়েছে। রোববার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তার উপস্থিতিতে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিসমূহ সই হয়। নিজ নিজ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং তিমুর-লেস্তের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ড. বেনডিটো দোস সান্তোস ফ্রেইতাস কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং ড. বেনডিটো দোস সান্তোস ফ্রেইতাস দ্বিপক্ষীয় কনসালটেশন মেকানিজম (বিসিএম) প্রতিষ্ঠার বিষয় সংক্রান্ত স্মারক সই করেন।
বাংলাদেশ ও পূর্ব তিমুরের মধ্যেকার সম্পর্ক ক্রমশ গভীর এবং প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রোববার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমাদের সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। তবে চুক্তির বাইরে, আমরা নিশ্চিত করছি যে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীকে তার দেশে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেছেন। অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করেন যে, যখন তিনি প্রথমবার পূর্ব তিমুর সফর করেছিলেন, তখন তিনি দেখেছিলেন যে বাংলাদেশের অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সেই দেশের গ্রামের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। তিনি তিমুর-লেস্তেকে আহ্বান জানান বাংলাদেশি পণ্য নিজ দেশে উৎপাদন করতে, কারণ এর চারপাশে বড় বাজার রয়েছে। এখনও অনেক বাংলাদেশি তিমুর-লেস্তেতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তিমুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখব। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিমুর-লেস্তে শিগগিরই আসিয়ান ফোরামের সদস্য হবে এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসিয়ান সদস্য হিসেবে তার দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সমর্থন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তারা উভয় নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব এবং এই বিষয়ে তিমুর-লেস্তের আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন চেয়েছেন। বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও তাদের সমর্থকদের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা তার সম্মান জানাতে হবে। বৈশ্বিক শান্তিতে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৯৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী রামোস-হোর্তা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহান লেখক। তিনি শুধু পূর্ব তিমুরের জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কাজ করেন। রামোস-হোর্তার বন্ধু হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন যখন রামোস-হোর্তা নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ ক্ষুদ্রঋণের জন্য দান করেছেন। অধ্যাপক ইউনূস জানান, রামোস-হোর্তা তাঁকে ক্ষুদ্রঋণ প্রচারের জন্য পূর্ব তিমুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্রঋণের একজন ভালো বন্ধু বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, আগের সরকারের রোষানল থেকে তাঁকে রক্ষা করার জন্য ১০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বারবার বিবৃতি দিয়েছেন। রামোস-হোর্তা সেই বিবৃতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ব তিমুরের জন্ম বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত। এই দেশটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন জাতিসংঘ মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আমীরা হকের ভূমিকা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পুলিশ বাহিনী পূর্ব তিমুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি জানান, ২০০৪ সালে আমীরা হকের আমন্ত্রণে পূর্ব তিমুরে সফরের সময় তিনি দেখেছিলেন কীভাবে বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলাদেশিরাই দেশটি কার্যত চালাচ্ছিল।
এদিকে, বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তাঁর দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেই সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। তিনি বলেন, আগামী বছর তিমুর-লেস্তে চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। রামোস-হোর্তা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক ইউনূসকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহংকার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন দেশের পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল। অধ্যাপক ইউনূসকে নিজের ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করেন রামোস-হোর্তা। পাশাপাশি আতিথেয়তা দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তাঁকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের মধ্যে দু’টি চুক্তি সই : বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ভিসা অব্যাহতি এবং দ্বিপক্ষীয় কনসালটেশন মেকানিজম (বিসিএম) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে দু’টি চুক্তি সই হয়েছে। রোববার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তার উপস্থিতিতে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিসমূহ সই হয়। নিজ নিজ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং তিমুর-লেস্তের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ড. বেনডিটো দোস সান্তোস ফ্রেইতাস কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং ড. বেনডিটো দোস সান্তোস ফ্রেইতাস দ্বিপক্ষীয় কনসালটেশন মেকানিজম (বিসিএম) প্রতিষ্ঠার বিষয় সংক্রান্ত স্মারক সই করেন।