
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল, শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করছে দেশের মানুষ
শীতের ভোরে কুয়াশার চাদর ভেদ করেই শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নেমেছে জনতার ঢল। আজ থেকে ৫৩ বছর আগে জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যালীলায় মেতে উঠেছিল হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসররা। সেই বেদনাবিধুর দিনকে স্মরণ করেই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ। চোখে জল, হাতে ফুল নিয়ে তারা শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছেন জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের স্মরণে। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই জনস্রোত নেমেছে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
চোখের জ্বলে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চোখের জ্বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাদের প্রিয়জনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়েন এবং অন্যদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেক সাধারণ মানুষকেও শহীদদের কবরের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার অনেককে ফাতেহা পাঠ করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী বধ্যভূমি-স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। গতকাল শনিবার প্রথম প্রহরে বদ্ধভূমি স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন দলের ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। সূর্যোদয়ের প্রথম প্রহরে বদ্ধভূমি স্মৃতিসৌধে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোহাম্মদপুর থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ। বিএনপি ছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী দল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এরপর শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। কবরস্থানের ভেতর থেকে বাইরের বেশ কিছু জায়গা জুড়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আজকের এইদিনে জাতির সূর্যসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। এ দিবসগুলো আমাদের মূল পরিচয়ের স্মারক। আমরা এ সূর্যসন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থান এ বছর আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে এ জাতি আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে কীভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়। তারা আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছে, সেটি পালন করাই আমাদের কাজ। সকালে সোয়া ১০টার দিকে রায়েরবাজার বদ্ধভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফ সোহেল বলেন, ৭১ এবং ২৪ নিয়ে একটি মহল জল ঘোলা করা চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্টের দোসররা বার বার দেখানোর চেষ্টা করছে, আমরা তরুণ প্রজন্ম যারা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশকে নিয়ে এসেছি, তারা ৭১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা ২৪-কে মনে করি ৭১-এর ধারাবাহিকতা। আমরা ৭১-এর লড়াইকে একটি চলমানতার সঙ্গে দেখতে চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় দেখানোর চেষ্টা করেছে ৭১ যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে এবং তারা ক্ষমতায় এসে দেখানোর চেষ্টা করেছে এটাই হলো বাঙালির চূড়ান্ত পরিণতি। তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে কৌশল অবলম্বন করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে তাদের দলীয় ব্যানারে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা বার বার বলার চেষ্টা করছি, ৭১ ছিল পুরো জনগোষ্ঠীর লড়াই। এ দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষি, দিনমজুর সবার লড়াই। এটা শুধু আওয়ামী লীগের লড়াই নয়। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে আকাক্সক্ষা-স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিকতা, সামাজিক ও সুবিচার। যেটা আওয়ামী লীগ সংবিধানের মূলনীতিতেও রাখেনি। তারা চার মূলনীতি আমদানি করেছিল তাদের মতো করে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধকে কুক্ষিগত করেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমাদের সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় যে লড়াই করার কথা সেটা আওয়ামী লীগ করেনি। তারা নিজেদের স্বার্থে বিদেশি শক্তির মদদে আমাদে সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই আমাদের ২৪-এর লড়াই লড়তে হয়েছে। রায়েরবাজারে বদ্ধভূমির জায়গার ২৪-এর শহীদদের গণকবর দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি জাতীয় পার্টির শ্রদ্ধা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা জানিয়ে শরিফা কাদের দ্রুতই স্থান ত্যাগ করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিএনপির শ্রদ্ধা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আহ্বায় আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে সকালে প্রথমে রাষ্ট্রপতি, পরে প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সর্ব স্তরের মানুষ।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি নেটিজেনদের শ্রদ্ধা : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বিভিন্ন স্টাটাসের মাধ্যমে তারা সম্মান জানান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। আশরাফ জুয়েল লিখেছেন, জাতির সূর্যসন্তানদের জানাই সালাম। আপনাদের আত্মত্যাগ আমাদের দিয়েছে একটা মানচিত্র, স্বাধীন দেশ। গাজী মুনসুর আজিজ লিখেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শান্তি কামনা করছি। আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিন্তক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের বহু কৃতি সন্তানকে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর থেকে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এইচএম তুহিন লিখেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সাখাওয়াত টিপু লিখেছেন, একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। ফলে সত্য বলতে আমি দ্বিধা করি না। মোস্তফা মনন লিখেছেন, এই সময়ের বুদ্ধিজীবী কারা? তাদের কাজ কী? আজকের অনেক বুদ্ধিজীবীকে আমরা চিনি না, তবে যাদের বুদ্ধিজীবী ভাবা হয়, তারা বুদ্ধিজীবীর মতো, কিন্তু পুরোপুরি বুদ্ধিজীবী না। এখনকার অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী দলীয় বা গোত্রীয় বা নির্দিষ্ট সংগঠনের নির্বাচিত বয়ানে ঠোঁট মেলায়। অনেকটা ডাবিং আর্টিস্টের মতো। ফলে জনগণের লাভ খুব একটা হয় না। কিন্তু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল, মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়েও আপোস করেননি। আপোস ও মৃত্যুর মাঝে মৃত্যুটাকেই বেছে নিয়েছেন।
৭১’র ইতিহাস পকেটেস্থ করতে চেয়েছে আ’লীগ : বাংলাদেশের যত সংগ্রামের ইতিহাস আওয়ামী লীগ তা কখনো ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেছেন, একাত্তরের ইতিহাসকে আওয়ামী লীগ পকেটেস্থ করতে চেয়েছে। এদিন সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সামান্তা শারমিন বলেন, আওয়ামী লীগ ছাত্র-জনতার ত্যাগের ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এগুলো আবারও ফিরিয়ে এনেছে। আগামী দিনে আমরা মনে করি, অভ্যুত্থানের যে তরুণ নেতৃত্ব তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিশৃঙ্খলা, ফুল নিয়ে গেল ছিন্নমূল মানুষ : হকার, পথশিশু এবং ছিন্নমূল মানুষের উৎপাতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষ দিবসের আয়োজন ঘিরে ঢিলেঢালা ব্যবস্থাপনা ও পুলিশ সদস্যদের গা-ছাড়া ভাব দেখে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে অবস্থান করে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। দেখা গেছে, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের মূল বেদির ওপর অর্ধশতাধিক ছিন্নমূল মানুষ ও পথশিশু অবস্থান করছে। কেউ শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দিয়ে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাড়াকাড়ি করে ফুলের ডালা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে তারা। পুরো বেদিজুড়ে পড়ে আছে ভাঙা ফোমের টুকরো। এর মধ্যে আবার কিছু শিশু খোদ ফুল রাখার মঞ্চের ওপরে দাঁড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, স্মৃতিসৌধের উভয় পাশেই এলোমেলোভাবে বসেছে ফুচকা ও ঝালমুড়ির দোকানও। এসব অব্যবস্থাপনার দিকে মনযোগ নেই কারো। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও কোনো ভূমিকা রাখছেন না। আশপাশে বসে-দাঁড়িয়ে এবং গল্প করে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুল ওয়াদুদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, আজকের এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরাজয় নিশ্চিত জেনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। তাদেরকে স্মরণ করতেই বুদ্ধিজীবী দিবস। কিন্তু এখানে যা তা অবস্থা। ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর এবং ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল। এমনটি আমরা আশা করিনি। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, অন্তত দুপুর পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পুরো এলাকায় অব্যবস্থাপনা। বেদিতে একটি ফুলও নেই। এলাকা জুড়েই হকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস ঘিরে এমন বাজে ব্যবস্থাপনা হওয়া উচিত নয়। তবে এ বিষয়ে সেখানে অবস্থান করা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি মোহাম্মদ মাকছেদুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল ডিআরইউ : রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। গতকাল শনিবার সকালে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, দফতর সম্পাদক রফিক রাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদাদুল হক খান, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য আকতারুজ্জামান, আমিনুল হক ভূঁইয়া, মো. ফারুক আলম এবং সাবেক দফতর সম্পাদক কাওসার আজম, ডিআরইউ সদস্য কামরুজ্জামান খান, আয়াতুল্লাহ আকতার, আসাদুজ্জামান বিকু, হরলাল রায় সাগর ও সমীরণ রায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।