
* নতুন বছরের প্রথম দিন হচ্ছে না বই উৎসব বললেন গণশিক্ষা উপদেষ্টা
* স্কুলে স্কুলে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে শিক্ষার্থীরা
* টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের ফলে বই ছাপাতে বিলম্ব হচ্ছে
* ১৫ বছরে শিক্ষার্থীদের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়া হয়েছে
প্রতি বছরের মতো এবার জানুয়ারিতে হচ্ছে না বই উৎসব। নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে ফুলের মতো ফুটবো, বর্ণমালার গরব নিয়ে আকাশ জুড়ে উঠবো এ সেøাগানও থাকছে না। এরআগের বছরগুলোতে নতুন বছরের শুরুতে বই উৎসব উপলক্ষে স্কুলগুলোয় বসতো শিক্ষার্থীদের আনন্দমেলা। বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা খুশিতে মেতে উঠতো। কিন্তু এবার সময় মতো বই ছাপা না হওয়ায় ম্লান করে দিয়েছে তাদের আনন্দ আয়োজন। গতকাল রোববার খুলনা বিভাগের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, নতুন করে বইয়ের টেন্ডার ও সংস্কারের কারণে এ বছর পহেলা জানুয়ারি বই উৎসব হচ্ছে না।
বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, এ বছর ১ জানুয়ারি হচ্ছে না বই উৎসব। তবে জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, যেহেতু বাইরের একটি দেশের বই ছাপার কথা ছিল। ৫ আগস্টের পরে সেই টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের ফলে বই ছাপাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এজন্য বই বিতরণে কিছুটা দেরি হলেও প্রাথমিকের বই জানুয়ারির মধ্যেই বিতরণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের ওপরে কিছুটা বাড়তি চাপ পড়বে এটি ঠিক। এটি মেনে নিতে হবে। তার কারণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশে সকল ক্ষেত্রেই একটি প্রভাব পড়ে। যেটি শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়েছে। এটি মেনে নিয়েই আমাদেরকে সামনে এগোতে হবে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে। যা আগামী বছরই প্রকল্প আকারে চালু হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়াতে কেবল বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম, বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ। কিন্তু ইউনেস্কোর মতে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাজেটের ছয় শতাংশ হওয়া উচিত। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদার উন্নতি ঘটানো এখন সময়ের দাবি। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যই হলো শিশুদের অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে তাকে ভাষাজ্ঞানে ও গণিতে দক্ষ করা। পড়তে পারা মানুষের সামনে বিশ্বের জ্ঞানরাজ্যের দ্বার খুলে যায়। যার সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই হয়। উপদেষ্টা বলেন, যেসকল বিদ্যালয়গুলোয় খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী আছে সেগুলোকে পার্শ্ববর্তী স্কুলের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো কোটা না রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সাধারণভাবে অন্য চাকরিতে যেমন সাত শতাংশ কোটা রয়েছে, এখানেও তেমনটি থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গণিতে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট নিয়োগের ২০ শতাংশ গণিত ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে পাস করাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। গাইড বই ও প্রাইভেট কোচিংয়ের বিষয়টি নিরুৎসাহিত করতে হবে। শহরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলমান আছে। উল্লেখ্য, টানা ১৫ বছর ধরে বিনামূল্যে পাঠ্যবই প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়-শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কোনো কোনো বছর বই প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও উদ্যোগটি মহৎ বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিতরণকৃত কিছু বইয়ের বিষয়ে মুদ্রণ বিভ্রাট, পাতা এলোমেলো থাকা, ছাপার মান খারাপ হওয়া ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিগত সরকার পাঠ্য পুস্তক নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। ইতিহাস বিকৃত করে ১৫ বছরে শিক্ষার্থীদের অনেক ভুল শিক্ষা দিয়েছে। মনে রাখতে হবে জোর করে ভুল শিক্ষা দিয়ে কিছুই অর্জন করা যায় না। যার প্রমাণ শিক্ষার্থীরা ৫ই আগস্টে দিয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে নরসিংদীর পলাশ মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে আয়োজিত পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে ফরাসি বিপ্লবে কারাগার ভাঙার যে তাৎপর্য রয়েছে নরসিংদীর ছাত্র-শিক্ষার্থীরা সেদিন কারাগার ভেঙে সেটার প্রমাণ দিয়েছে। ফরাসিদের মতো কারাগার ভেঙে সেদিন বাংলার ছাত্র-জনতা পুনরায় বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।