
* তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন যেন ভোটের লড়াই নয় স্নায়ুর যুদ্ধ
* ১৬ কোটির মধ্যে আগাম ভোট পড়েছে ৮ কোটি
* দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড, স্নাইপার মোতায়েন
* বোমা হামলার হুমকি দেয়ায় জর্জিয়ায় গ্রেফতার নির্বাচনকর্মী
বিশ্ব রাজনীতির মোড়ল দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর নিউইয়র্ক এবং ভার্জিনিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থীতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। আর রিপাবলিকান দল থেকে লড়ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ কোটিরও বেশি ভোটার নির্ধারণ করবেন কে হবেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। এরই মধ্যে চূড়ান্ত ভোটের দিনের আগে প্রায় ৮ কোটি মার্কিনি আগাম ভোট দিয়েছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন যেন ভোটের লড়াই নয়, স্নায়ুর যুদ্ধ। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খুব কমই হয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে। ভোটের শেষ দিনেও সোমবার দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই প্রার্থী। এবারের মার্কিন নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, গর্ভপাত, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অভিবাসন এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশেষ করে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল বাহিনীর আগ্রাসন।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ কোটি ১৪ লাখ, যার মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী। এবারের নির্বাচনে নারীরা ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিয়েছেন। ভোটফেরত জরিপ বলছে, আগাম ভোটে পুরুষের তুলনায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ নারী ভোটার বেশি ভোট দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত ইস্যুতে নারীর সিদ্ধান্তের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান। আর রিপাবলিকানরা সবসময় গর্ভপাতের বিরোধিতা করে আসছে। কমলা-ট্রাম্প ছাড়াও এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ৭১ বছর বয়সি খ্যাতনামা অধ্যাপক কর্নেল ওয়েস্ট, গ্রিন পার্টি থেকে ৭৪ বছর বয়সি নারী রাজনীতিক জিল স্টেইন, লিবারটেরিয়ান পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন চেজ অলিভার এবং পার্টি ফর সোস্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন দলের প্রার্থী ক্লদিয়া দে লা ক্রুজ। এদিকে এর আগে প্রথা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিল নচের একমাত্র ভোটকেন্দ্রটিতে দিবাগত রাত ১২টা গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সেখানে ছয়জন নিবন্ধিত ভোটার। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ভোটগ্রহণ শেষ হলে ফলাফলও জানা হয়ে গেছে। সেখানে সমান তিনটি করে ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প ও কমলা। এদিকে এ বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে হামলা ও সহিংসতার উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় বিশেষ নিরাপত্তামূলক সতর্কব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এরই মধ্যে আলাবামা, অ্যারিজোনা, ডেলাওয়্যার, আইওয়া, ইলিনয়, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ মেক্সিকো, ওরেগন, উইসকনসিন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, নেভাদা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, টেনেসি, টেক্সাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ন্যাশনাল গার্ডের সেনা যেকোনো মুহূর্তে মোতায়েনের জন্য ‘স্ট্যান্ড বাই’ অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগে আছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এ জন্যই ভোটের দিন ও ভোটের পরে নিরাপত্তা জোরদার করতে তারা বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাত দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ফলই নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন-এ বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। এ কারণে এসব অঙ্গরাজ্যকে বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে মার্কিন প্রশাসন। এমনই এক দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য নেভাদা। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সমর্থকরা সেখানে বিক্ষভে ফেটে পড়েছিলেন। নেভাদার লাস ভেগাসের ভোট তালিকাভুক্ত করার কেন্দ্র (টেবুলেশন সেন্টার) ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। নেভাদার গভর্নর জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমিত আকারে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত ৬০ সদস্যের একটি দল সেখানে অবস্থান করছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সের মারিকোপা কাউন্টি ভোট তালিকাভুক্ত কেন্দ্রে একই ধরনের নিরাপত্তামূলক বেড়া তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে এই এলাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলতে নিরাপত্তা মজবুত করতে কোনো কোনো ভোটকেন্দ্র ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও স্নাইপার নিয়ে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। মারিকোপা কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা রাস স্কিনার বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রের ওপর নজর রাখবেন। এ কাজে তারা ড্রোন ব্যবহার করবেন। সহিংসতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য স্নাইপার প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া মোতায়েনের জন্য বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যও প্রস্তুত থাকবে। অ্যারিজোনার নির্বাচনী কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ বা সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ থেকে অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি স্কুল ও গির্জা এবার ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এদিকে নির্বাচনকর্মীদের ওপর বোমা হামলার হুমকি দেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন নির্বাচনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়ছে। স্থানীয় সময় গত সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই নির্বাচনকর্মী জর্জিয়ায় আগাম ভোটের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচনকর্মীদের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে চিঠির ভাষা দেখে মনে হচ্ছে সেটি কোনো ভোটার পাঠিয়েছেন। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গ্রেফতার ওই ব্যক্তির নাম নিকোলাস উইমবিশ। তিনি গত ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার গ্রে শহরের জোন্স কাউন্টি ইলেকশন অফিসে একজন নির্বাচনকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেদিন একজন ভোটারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল।
নির্বাচনের ফলাফল যখন জানা যাবে:
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হলেও কবে জানা যাবে চূড়ান্ত ফলাফল, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে অনেকের মাঝে। নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৫ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজদের নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করে থাকে। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল কখন জানা যাবে তা নির্ভর করছে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন তীব্র হয় তার ওপর। যুক্তরোষ্ট্রে ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য যেখানে উভয় দলের জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকে। সেই রাজ্যগুলোর ফল চূড়ান্ত না হলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদি এসব রাজ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম থাকে, তবে ফল ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে যদি কোনো প্রার্থী এসব রাজ্যে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল দ্রুত জানা সম্ভব হবে।
ইলেক্টোরাল কলেজ ও তা যেভাবে কাজ করে:
আমেরিকার ভোটাররা যখন ভোট দেন, তখন তারা সরাসরি তাদের পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে তা দেন না। কারিগরি দিক দিয়ে চিন্তা করলে, তারা তাদের পছন্দের ইলেক্টর বেছে নেন, যারা ইলেক্টোরাল কলেজের অংশ। এরপর এ ইলেক্টররা প্রেসিডেন্ট বেছে নেন। ইলেক্টোরাল কলেজ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে প্রতিনিধি বা ইলেক্টর বেছে নেয়া হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ইলেক্টরের সংখ্যা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে এই পদ্ধতিটি সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু নির্বাচক রয়েছে যা কংগ্রেসে থাকা মোট প্রতিনিধি এবং সিনেটরের সমান। ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। আর সেই প্রার্থীর রানিং মেট হয়ে যাবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
* ১৬ কোটির মধ্যে আগাম ভোট পড়েছে ৮ কোটি
* দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড, স্নাইপার মোতায়েন
* বোমা হামলার হুমকি দেয়ায় জর্জিয়ায় গ্রেফতার নির্বাচনকর্মী
বিশ্ব রাজনীতির মোড়ল দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর নিউইয়র্ক এবং ভার্জিনিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থীতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। আর রিপাবলিকান দল থেকে লড়ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ কোটিরও বেশি ভোটার নির্ধারণ করবেন কে হবেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। এরই মধ্যে চূড়ান্ত ভোটের দিনের আগে প্রায় ৮ কোটি মার্কিনি আগাম ভোট দিয়েছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন যেন ভোটের লড়াই নয়, স্নায়ুর যুদ্ধ। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খুব কমই হয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে। ভোটের শেষ দিনেও সোমবার দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই প্রার্থী। এবারের মার্কিন নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, গর্ভপাত, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অভিবাসন এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশেষ করে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল বাহিনীর আগ্রাসন।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ কোটি ১৪ লাখ, যার মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী। এবারের নির্বাচনে নারীরা ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিয়েছেন। ভোটফেরত জরিপ বলছে, আগাম ভোটে পুরুষের তুলনায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ নারী ভোটার বেশি ভোট দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত ইস্যুতে নারীর সিদ্ধান্তের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান। আর রিপাবলিকানরা সবসময় গর্ভপাতের বিরোধিতা করে আসছে। কমলা-ট্রাম্প ছাড়াও এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ৭১ বছর বয়সি খ্যাতনামা অধ্যাপক কর্নেল ওয়েস্ট, গ্রিন পার্টি থেকে ৭৪ বছর বয়সি নারী রাজনীতিক জিল স্টেইন, লিবারটেরিয়ান পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন চেজ অলিভার এবং পার্টি ফর সোস্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন দলের প্রার্থী ক্লদিয়া দে লা ক্রুজ। এদিকে এর আগে প্রথা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিল নচের একমাত্র ভোটকেন্দ্রটিতে দিবাগত রাত ১২টা গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সেখানে ছয়জন নিবন্ধিত ভোটার। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ভোটগ্রহণ শেষ হলে ফলাফলও জানা হয়ে গেছে। সেখানে সমান তিনটি করে ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প ও কমলা। এদিকে এ বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে হামলা ও সহিংসতার উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় বিশেষ নিরাপত্তামূলক সতর্কব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এরই মধ্যে আলাবামা, অ্যারিজোনা, ডেলাওয়্যার, আইওয়া, ইলিনয়, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ মেক্সিকো, ওরেগন, উইসকনসিন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, নেভাদা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, টেনেসি, টেক্সাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ন্যাশনাল গার্ডের সেনা যেকোনো মুহূর্তে মোতায়েনের জন্য ‘স্ট্যান্ড বাই’ অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগে আছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এ জন্যই ভোটের দিন ও ভোটের পরে নিরাপত্তা জোরদার করতে তারা বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাত দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ফলই নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন-এ বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। এ কারণে এসব অঙ্গরাজ্যকে বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে মার্কিন প্রশাসন। এমনই এক দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য নেভাদা। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সমর্থকরা সেখানে বিক্ষভে ফেটে পড়েছিলেন। নেভাদার লাস ভেগাসের ভোট তালিকাভুক্ত করার কেন্দ্র (টেবুলেশন সেন্টার) ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। নেভাদার গভর্নর জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমিত আকারে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত ৬০ সদস্যের একটি দল সেখানে অবস্থান করছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সের মারিকোপা কাউন্টি ভোট তালিকাভুক্ত কেন্দ্রে একই ধরনের নিরাপত্তামূলক বেড়া তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে এই এলাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলতে নিরাপত্তা মজবুত করতে কোনো কোনো ভোটকেন্দ্র ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও স্নাইপার নিয়ে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। মারিকোপা কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা রাস স্কিনার বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রের ওপর নজর রাখবেন। এ কাজে তারা ড্রোন ব্যবহার করবেন। সহিংসতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য স্নাইপার প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া মোতায়েনের জন্য বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যও প্রস্তুত থাকবে। অ্যারিজোনার নির্বাচনী কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ বা সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ থেকে অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি স্কুল ও গির্জা এবার ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এদিকে নির্বাচনকর্মীদের ওপর বোমা হামলার হুমকি দেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন নির্বাচনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়ছে। স্থানীয় সময় গত সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই নির্বাচনকর্মী জর্জিয়ায় আগাম ভোটের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচনকর্মীদের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে চিঠির ভাষা দেখে মনে হচ্ছে সেটি কোনো ভোটার পাঠিয়েছেন। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গ্রেফতার ওই ব্যক্তির নাম নিকোলাস উইমবিশ। তিনি গত ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার গ্রে শহরের জোন্স কাউন্টি ইলেকশন অফিসে একজন নির্বাচনকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেদিন একজন ভোটারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল।
নির্বাচনের ফলাফল যখন জানা যাবে:
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হলেও কবে জানা যাবে চূড়ান্ত ফলাফল, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে অনেকের মাঝে। নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৫ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজদের নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করে থাকে। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল কখন জানা যাবে তা নির্ভর করছে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন তীব্র হয় তার ওপর। যুক্তরোষ্ট্রে ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য যেখানে উভয় দলের জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকে। সেই রাজ্যগুলোর ফল চূড়ান্ত না হলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদি এসব রাজ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম থাকে, তবে ফল ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে যদি কোনো প্রার্থী এসব রাজ্যে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল দ্রুত জানা সম্ভব হবে।
ইলেক্টোরাল কলেজ ও তা যেভাবে কাজ করে:
আমেরিকার ভোটাররা যখন ভোট দেন, তখন তারা সরাসরি তাদের পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে তা দেন না। কারিগরি দিক দিয়ে চিন্তা করলে, তারা তাদের পছন্দের ইলেক্টর বেছে নেন, যারা ইলেক্টোরাল কলেজের অংশ। এরপর এ ইলেক্টররা প্রেসিডেন্ট বেছে নেন। ইলেক্টোরাল কলেজ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে প্রতিনিধি বা ইলেক্টর বেছে নেয়া হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ইলেক্টরের সংখ্যা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে এই পদ্ধতিটি সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু নির্বাচক রয়েছে যা কংগ্রেসে থাকা মোট প্রতিনিধি এবং সিনেটরের সমান। ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। আর সেই প্রার্থীর রানিং মেট হয়ে যাবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।