
আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ফলাফল অর্থাৎ রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের পক্ষে কত ভোট পড়েছে, তা কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন ঘুরছে সবার মাঝে। ফলাফল নিশ্চিতভাবেই ভোট গণনার ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে এবার ভোট গণনায় একটু বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ফেডারেল তথা কেন্দ্রীয় ভোট-গণনা পদ্ধতি নেই। যেমনটা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায়। তার পরিবর্তে গণনার ব্যাপারটা রাজ্যগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। যে কারণে একটু বেশি সময় লাগে। এবারও চূড়ান্ত সরকারী ফলাফল প্রকাশের জন্য সম্ভবত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে কে বিজয়ী বা কে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন তা সাধারণত নির্বাচনের দিন ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যায়। সংবাদ সংস্থাগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের ঘাটতি এবং অফিসিয়াল সার্টিফিকেশন তথা ভোটের ফলাফলের সরকারী সত্যায়ন প্রক্রিয়া ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। ফলে এই সময়ে নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এমনকি নির্বাচনে কারচুপি বা জালিয়াতির দাবি উঠতে পারে। যেমনটা বিরোধী প্রার্থী ট্রাম্প গত নির্বাচনের পর থেকে দাবি করে আসছেন।
সব ভোট গণনার আগে কিভাবে জানা যাবে বিজয়ী কে: কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিজয়ী হচ্ছেন তা ইলেক্টারাল কলেজ ভোট সংখ্যার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়। ফলাফল মূল্যায়নের জন্য সংবাদ সংস্থাগুলোও জটিল কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইলেক্টোরাল কলেজ হল এমন একটি ব্যবস্থা যা বিজয়ী কে তা নির্ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে হয়। এই ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রাজ্যগুলোতে পৃথক পৃথকভাবে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বরাদ্দ করা হয়। কোন রাজ্যে কোন প্রার্থী জিততে চলেছে, তা নির্ধারণে সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের নিজ নিজ পদ্ধতি ব্যবহার করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। যেমন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) গত ১৭০ বছর ধরে মার্কিন নির্বাচন ফলাফল প্রকাশ করে আসছে। নির্বাচনী লড়াই কতটা কঠিন, তার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন এই সংবাদমাধ্যম কখনও কখনও দ্রুতই সম্ভাব্য বিজয়ী নির্ধারণ করতে পারে। আবারও কখনও কখনও এর কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গত নির্বাচনে অর্থাৎ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন চার দিন পার হলেও ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি এপি। জর্জিয়া রাজ্যে বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণায় এর ১৬ দিন সময় লেগেছিল।
সরকারীভাবে কিভাবে ভোট গণনা করা হয়: সবগুলো রাজ্যেই নির্বাচনের দিন বা কিছু ক্ষেত্রে আগেই নাগরিকদের ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিছু রাজ্যে মেইল-ইন ব্যালট তথা মেইলে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে এবং ভোটগুলো যাচাই-বাছাই করা হয় এবং তারপরে নির্বাচনের দিন দ্রুত নথিভুক্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়া প্রায়ই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু রাজ্যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ। ফলে শুধুমাত্র ভোটের দিন ভোটগ্রহণ ও যাচাই-বাছাই এবং তা নথিভুক্ত করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর এ কারণেই ফল প্রকাশে সময় লাগে। ফলাফল তৈরির পর তা নতুন করে যাচাই-বাছাই করার জন্যও রাজ্যগুলো সময় নিয়ে থাকে। ভোটের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করে বেশিরভাগ রাজ্যেই পুনঃগণনারও অনুরোধ করা যেতে পারে। আবার কখনও কখনও কিছু রাজ্য ভোটদানে ভুল হলে ভোটারদের তা সংশোধন করার জন্য সময় দেয়। এসব কাজ শেষে রাজ্যের নির্বাচন বিষয়ক নির্বাহী কর্মকর্তাদের একটা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ফলাফল নথিভুক্ত ও সত্যায়ন করতে হয়। ফলাফল সত্যায়নের ব্যাপারটাকে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাসারটেইনমেন্ট’ বলা হয়। এ বছর ১১ ডিসেম্বর হল ফলাফল সত্যায়নের সবশেষ তারিখ। এরপর কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন তার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয় জানুয়ারি মাসে। এই ঘোষণার দায়িত্ব মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের।
ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক কেন: ২০২০ সালে কয়েক রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। সেইসাথে সেবার করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে মেইল-ইন ভোট বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ভোট গণনায় ধীরগতি দেখা গিয়েছিল। আর এই ধীরগতির কারণেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাদের এই অভিযোগ বা দাবি আরও জোরদার হয় যখন দেখা যায় যে, ডেমোক্র্যাটদের মেইল-ইন ব্যালট ভোট রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়ায়। এবার ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা রাজ্যগুলোকে তাদের ভোট গণনা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও মূল প্রতিযোগিতাপূর্ণ কিছু রাজ্য তা অনুসরণ শুরু করেছে। তবে কয়েকটি রাজ্য যেমন পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও জর্জিয়া দ্রুত ভোট গণনা নিশ্চিত করতে তেমন উদ্যোগ নেয়নি। জর্জিয়ার নির্বাচনী বোর্ড এমনকি নির্বাচনের দিন হাতে হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ফলাফল প্রকাশে উল্লেখযোগ্য সময় বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ফেডারেল তথা কেন্দ্রীয় ভোট-গণনা পদ্ধতি নেই। যেমনটা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায়। তার পরিবর্তে গণনার ব্যাপারটা রাজ্যগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। যে কারণে একটু বেশি সময় লাগে। এবারও চূড়ান্ত সরকারী ফলাফল প্রকাশের জন্য সম্ভবত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে কে বিজয়ী বা কে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন তা সাধারণত নির্বাচনের দিন ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যায়। সংবাদ সংস্থাগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের ঘাটতি এবং অফিসিয়াল সার্টিফিকেশন তথা ভোটের ফলাফলের সরকারী সত্যায়ন প্রক্রিয়া ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। ফলে এই সময়ে নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এমনকি নির্বাচনে কারচুপি বা জালিয়াতির দাবি উঠতে পারে। যেমনটা বিরোধী প্রার্থী ট্রাম্প গত নির্বাচনের পর থেকে দাবি করে আসছেন।
সব ভোট গণনার আগে কিভাবে জানা যাবে বিজয়ী কে: কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিজয়ী হচ্ছেন তা ইলেক্টারাল কলেজ ভোট সংখ্যার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়। ফলাফল মূল্যায়নের জন্য সংবাদ সংস্থাগুলোও জটিল কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইলেক্টোরাল কলেজ হল এমন একটি ব্যবস্থা যা বিজয়ী কে তা নির্ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে হয়। এই ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রাজ্যগুলোতে পৃথক পৃথকভাবে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বরাদ্দ করা হয়। কোন রাজ্যে কোন প্রার্থী জিততে চলেছে, তা নির্ধারণে সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের নিজ নিজ পদ্ধতি ব্যবহার করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। যেমন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) গত ১৭০ বছর ধরে মার্কিন নির্বাচন ফলাফল প্রকাশ করে আসছে। নির্বাচনী লড়াই কতটা কঠিন, তার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন এই সংবাদমাধ্যম কখনও কখনও দ্রুতই সম্ভাব্য বিজয়ী নির্ধারণ করতে পারে। আবারও কখনও কখনও এর কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গত নির্বাচনে অর্থাৎ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন চার দিন পার হলেও ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি এপি। জর্জিয়া রাজ্যে বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণায় এর ১৬ দিন সময় লেগেছিল।
সরকারীভাবে কিভাবে ভোট গণনা করা হয়: সবগুলো রাজ্যেই নির্বাচনের দিন বা কিছু ক্ষেত্রে আগেই নাগরিকদের ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিছু রাজ্যে মেইল-ইন ব্যালট তথা মেইলে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে এবং ভোটগুলো যাচাই-বাছাই করা হয় এবং তারপরে নির্বাচনের দিন দ্রুত নথিভুক্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়া প্রায়ই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু রাজ্যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ। ফলে শুধুমাত্র ভোটের দিন ভোটগ্রহণ ও যাচাই-বাছাই এবং তা নথিভুক্ত করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর এ কারণেই ফল প্রকাশে সময় লাগে। ফলাফল তৈরির পর তা নতুন করে যাচাই-বাছাই করার জন্যও রাজ্যগুলো সময় নিয়ে থাকে। ভোটের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করে বেশিরভাগ রাজ্যেই পুনঃগণনারও অনুরোধ করা যেতে পারে। আবার কখনও কখনও কিছু রাজ্য ভোটদানে ভুল হলে ভোটারদের তা সংশোধন করার জন্য সময় দেয়। এসব কাজ শেষে রাজ্যের নির্বাচন বিষয়ক নির্বাহী কর্মকর্তাদের একটা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ফলাফল নথিভুক্ত ও সত্যায়ন করতে হয়। ফলাফল সত্যায়নের ব্যাপারটাকে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাসারটেইনমেন্ট’ বলা হয়। এ বছর ১১ ডিসেম্বর হল ফলাফল সত্যায়নের সবশেষ তারিখ। এরপর কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন তার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয় জানুয়ারি মাসে। এই ঘোষণার দায়িত্ব মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের।
ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক কেন: ২০২০ সালে কয়েক রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। সেইসাথে সেবার করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে মেইল-ইন ভোট বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ভোট গণনায় ধীরগতি দেখা গিয়েছিল। আর এই ধীরগতির কারণেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাদের এই অভিযোগ বা দাবি আরও জোরদার হয় যখন দেখা যায় যে, ডেমোক্র্যাটদের মেইল-ইন ব্যালট ভোট রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়ায়। এবার ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা রাজ্যগুলোকে তাদের ভোট গণনা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও মূল প্রতিযোগিতাপূর্ণ কিছু রাজ্য তা অনুসরণ শুরু করেছে। তবে কয়েকটি রাজ্য যেমন পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও জর্জিয়া দ্রুত ভোট গণনা নিশ্চিত করতে তেমন উদ্যোগ নেয়নি। জর্জিয়ার নির্বাচনী বোর্ড এমনকি নির্বাচনের দিন হাতে হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ফলাফল প্রকাশে উল্লেখযোগ্য সময় বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।