
*ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে অফিস সহকারী-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়কের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে সিন্ডিকেট
* সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন
রাজধানীর খিলক্ষেতস্থ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে এসিল্যান্ড অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাজধানীর খিলক্ষেতস্থ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেল এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানার নেতৃত্বে অফিস সহকারী-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. সালাউদ্দিন নাজিম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আসিফ ও অফিস সহায়ক মোহাম্মদ শিপন মিয়ার মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না রাজধানীর খিলক্ষেতস্থ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে এসিল্যান্ড অফিসে। এই শক্তিশালী চক্রের কাছে প্রতিনিয়ত হয়রানি, দুর্নীতি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। সেখানে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দেয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। জাল দলিলে জমির নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে। নামজারি, খারিজ, খাজনা প্রদানসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে এসিল্যান্ড অফিসে।
জানা গেছে, রাজধানীর খিলক্ষেতস্থ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেল এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানার নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন। তবে এই সিন্ডিকেটের মূল ভূমিকা রাখছেন অফিস সহায়ক মোহাম্মদ শিপন মিয়া। যে সমস্ত নামজারী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, কাননগো নামজারীর সপক্ষে প্রস্তাব দেয়ার পর যারা ঘুষের টাকা দিতে পারেন তাদের নামজারী মঞ্জুর করেন। আরা যারা ঘুষের টাকা না দিতে পারেন তাদের নামজারী না মঞ্জুর করেন। এতে করে হাজার হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
সূত্র জানায়, আশিয়ান সিটি এলাকায় জমির নামজারি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রীটপিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। রীটপিটিশন মামলা নম্বর ১৭১৮২/১২। মৌজা দক্ষিণখান, আশিয়ান সিটি জমির উপর নিষেজ্ঞা থাকা সত্বেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা নামজারি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এর আগে তিনি শ্রীপুর ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি গোপনে ঘুষ দিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে আসেন। তিনি সিন্ডিকেট তৈরি করে মিস কেস, নামজারী কেস করে নিজেস্ব দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি কোন ফাইলে বা কোন কেসে কত টাকা ঘুষ দিতে হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আশিয়ান সিটির মামলা নিষ্পিত্তি হওয়ার পরেও তিনি প্রতিটি নামজারি থেকে ৬০ হাজার টাকা নিচ্ছেন। কেউ দাবিকৃত ৬০ হাজার টাকা না দিলে তার ওই নামজারি বাতিল করে দেয়া হয়। একইভাবে লাইনের প্রতি নামজারী এলে কেস ১৩৮ এ নিচ্ছেন ২০ হাজার টাকা। কোর্ট অভাস ১৫ হাজার টাকা ও সাধারণ কেস থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন। তিনি বলেছেন এসিল্যান্ড অফিসে কোন ঘুষ নেয়া হয় না। কেন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন। এমনটাই জানিয়েছেন ওই অফিসের অফিস সহায়ক মোহাম্মদ শিপন মিয়া।