
দেশের শিক্ষাক্রম ফিরে যাচ্ছে এক দশক পুরনো কারিকুলামে। ইতোমধ্যে বিগত ২০২২ সালের কারিকুলাম বাদ দেয়া হয়েছে। এখন সময় উপযোগী করতে পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জন ও পরিবর্ধন চলছে। পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করা হচ্ছে জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ঘিরে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। তবে তার জন্য আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর অন্তর্বতীকালীন সরকার নতুন শিক্ষাক্রম বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই লক্ষ্যে পুরোনো সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষাক্রমে রচিত বইগুলো আগামী বছর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে ওসব বই সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। যেসব বইয়ে বিশেষ করে ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত কোনো তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে তা বাদ দেয়ার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেসব বাণী পাঠ্যবইয়ে রয়েছে সেগুলো মুছে দেয়া হবে। পাঠ্যবই সংশোধনের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তর থেকে একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই টিমে প্রতিটি বিষয়ের তিন থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক। সব মিলিয়ে পঞ্চাশের বেশি ব্যক্তি পাঠ্যবই সংশোধনের কাজ করছেন। সূত্র জানায়, পাঠ্যবইয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানর ইতিহাস তড়িঘড়ি করে যুক্ত করতে গিয়ে নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা কঠিন হবে। অনেক কিছু বাদও চলে যেতে পারে। সময় স্বল্পতায় সেজন্য এ বছর তা করা হচ্ছে না। তবে আগামী বছর এ বিষয়ে এনসিটিবি অবশ্যই কাজ করবে। যা ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে। যদিও চলতে বছর গণঅভ্যুত্থানের বিষয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে একাধিক পক্ষের মত ছিলো। কিন্তু পর্যাপ্ত গবেষণা ও যাচাই-বাছাই ছাড়া এনসিটিবি এ বিষয়ে রাজি হয়নি। আর গবেষণার জন্য সময় ব্যয়, গবেষক নিয়োগ, তথ্য ও পর্যাপ্ত সময় না থাকায় আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে এটি যুক্ত হচ্ছে না। তবে পরের বছর এটি অবশ্যই যুক্ত হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটিও কাজ করছে। তাছাড়া কন্টেন্ট তৈরি করতে সময় প্রয়োজন। এর জন্য ভালো লেখক ও গবেষকও দরকার। আগামী বছরের বইয়ের জন্য যে সময় রয়েছে তাতে কুলিয়ে ওঠা সম্ভব না। কারণ পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয় পরিবর্তন করে সময় উপযোগী হিসেবে প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এদিকে পাঠ্যবই পরিমার্জন টিমের সদস্য রাখাল রাহা জানান, কিছু কনটেন্টে হয়তো কিছু লেখা বাদ যেতে পারে। তবে কোনো কনটেন্ট পুরোপুরি বাদ যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নন। একই বিষয়ে পাঠ্যবই পরিমার্জন দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন জানান, পাঠ্যবইয়ের কাভারে শেখ হাসিনার কোনো বাণী থাকবে না। এছাড়া অতিরঞ্জিত কোনো ইতিহাস থাকলে সেটিও বাদ দেয়া হবে। এসব পরিবর্তন করে বই পরিমার্জনের কাজ চলছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তর থেকে একটি টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। তারা পাঠ্যবই সংশোধনের কাজ করছে। তবে কারিকুলামের বিষয়ে কোনো কমিটি করা হয়নি।