
* ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য জরিপ ও প্ল্যান পাশে দফায় দফায় দিতে হয় ঘুষ
* ঝিলমিলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্লট বরাদ্দ নিয়েও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
* জোন ৪/৩ এর অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথের সীমাহীন দুর্নীতি
শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সেবামূলক এই সংস্থার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সরকার পরিবর্তনের পর অতীতের অপকর্ম পুনরায় শুরু করতে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের দেয়া ঘুষ বা উৎকোচে ভরপুর রাজউকের কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের পকেট। তার নামমাত্র টাকা জমা পড়ে সংস্থাটির তহবিলে। বিশাল এ কর্মকাণ্ডের জন্য আছে দালালচক্র। যাদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা রাজউকের সেবাপ্রত্যাশীরা। এ দালালরাই সংস্থাটিকে পঙ্গু করে রেখেছে দাবি বিশ্লেষকদের। ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগ বহুদিনের। সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজউকের মতিঝিল, খিলগাঁও ও মহাখালীর জোনাল অফিসে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে খোঁজ মেলে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যের।
দেখা যায়, প্ল্যান পাসসহ খুঁটিনাটির নানা কাজে এ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোটা অংকের টাকা গুণে নিতে ভুল করেন না। ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য জরিপ বাবদ একজন ব্যক্তি ব্যয় করেন দুই-পাঁচ হাজার টাকা। দশতলার বেশি এমন ভবন নির্মাণে ভূমি ব্যবহার ও তার ছাড়পত্রের জন্য রাজউকের বরাদ্দ ঘুষ. তিন থেকে ১০ লাখ টাকা। আর তিন থেকে পাঁচ কাঠার প্লটের প্ল্যান পেতে ঘুষের শুরু ১৬ লাখে। দেনদরবার শেষে তা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর ৬ কাঠা থেকে শুরু করে তার ওপরের প্লটের জন্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা গুণতে হয় হতভাগ্য মালিককে। এছাড়াও বড় বড় প্রকল্পে ডেভেলপাররা উৎকোচ দেন ১৫ লাখ থেকে দুই কোটি পর্যন্ত। অথচ প্রাপ্ত এ ঘুষের অর্থ রাজউকের তহবিলে জমা হয় কাঠাপ্রতি মাত্র দেড় লাখ টাকা।
রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অর্থ নিজেরা লেনদেন করেন না। নিয়োগে রেখেছেন কতিপয় দালালদের। যারা দুদিক থেকে সুবিধা নিয়ে নিজেরাও লাভবান। দালাল ছাড়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার জো নেই আবেদনদাতাদের। রাজউকের আবাসন প্রকল্প পূর্বাচল ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিলে জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্লট বরাদ্দ নিয়েও নানা অনিয়মের ফিরিস্তি। সেখানেও অভিযোগের তীর রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সংস্থাটির দুর্নীতি নিয়ে দুদকের গণশুনানি এবং তাদের নানা অনিয়মের খবর প্রচারিত হলেও টনকের নড়নটি নেই কর্তাব্যক্তিদের। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, কোটি কোটি টাকার ঘুষ আদান-প্রদানে সংস্থার বদনাম অনেক। তবুও এমন অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা-এমন প্রশ্নেরও দায়সারা রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ঢাকাকে একটি সুন্দর পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজউকের পথচলা। রাজউকের আশীর্বাদেই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আধুনিক ঢাকার এমন রূপ। কিন্তু রাজউক বিভিন্ন জোনের অথরাইজ অফিসারের নেতৃত্বে সহকারী অথরাইজ অফিসার থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ইন্সপেক্টরের তৎপরতায় প্ল্যানের মানচিত্রের প্রস্তাবিত কপি থেকে ভুল ধরিয়ে বার বার সেবাগ্রহীতাকে বিড়ম্বনায় ফেলে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। টাকা না দিলেই প্ল্যান পাস হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজউক মহাখালি অফিসের জোন ৪/৩ এর অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পদে পদে ক্ষুণ্ন হচ্ছে রাজউকের ভাবমূর্তি ও বিচ্যুত হচ্ছে রাজউকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
রাজউক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে জোটনের বিভিন্ন অপকৌশলের ভয়াবহতা, তার জোনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পুরোটাই তিনি বাণিজ্যে রূপান্তর করেছেন। প্রতিটি উচ্ছেদ কার্যক্রম হয়ে ওঠে যেন তার কাছে এক একটি চাঁদ রাত। এসব অপকৌশল প্রয়োগে তিনি রাজউকে গড়ে তুলেছেন একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শকের নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে বেশ কিছু পরিদর্শক, রাজনৈতিক পরিচয় বহনকারী কিছু নেতা, ঊর্ধ্বতন ২/১ জন কর্মকর্তা ও কিছু দালাল চক্র। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্র এলাকার অন্যান্য ভবন থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকেন। এছাড়া ভবন কম ভাঙতে করেন ঘুষ বাণিজ্য। উচ্ছেদের তালিকায় থাকা এমনও ভবন রয়েছে যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উচ্ছেদ করা হয়নি অথবা গুতো দিয়ে খুবই সামান্য ভাঙা হয়েছে।
কিন্তু দায় এড়াতে তিনি তিনশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেন এই মর্মে যে, ভবন মালিক বা ডেভেলপার নিজ খরচে ভবনটির অনিয়মিত অংশগুলো ভেঙে ফেলবে। কিন্তু অপকৌশলের আশ্রয় হিসেবে এ সিন্ডিকেট ইউটিলিটি বিচ্ছিন্ন করে মিটার নিয়ে আসেন রাজউকে। পরেরদিন থেকে চলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে ঘুষের দেনদরবার। কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণ হলেই পেয়ে যান ইউটিলিটি সংযোগের সুপারিশ ও মিটার। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়ার কথা নয়। সংযোগ পেয়েই জোটন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ভবনের অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে চলে জোড়াতালির কাজ। এভাবেই রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় শত শত ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে। এছাড়া তিনি নকশাবহির্ভূত বিভিন্ন ভবনে নোটিশ প্রদান করেন একটি, দুইটি, তিনটি, কখনো চূড়ান্ত নোটিশ। ৪টি ধাপের যেকোনো ধাপে পড়ে যায় ফাইল ধামাচাপা। নেয়া হয় না আর কোনো ব্যবস্থা। এমনকি উচ্ছেদ প্রস্তাব পাস হওয়ার পরেও ফাইল ধামাচাপার নজির রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।
এছাড়া নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিকের নকশায় বাণিজ্যিক ভবন, এমনকি নকশায় অনুমোদিত তলার চেয়ে বেশি তলা করার সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট। অবশ্য জোটন সিন্ডিকেটের গ্রাহক হয়রানি ও বাণিজ্য শুরু হয় ছাড়পত্র ও নকশা আবেদনের পর থেকেই। বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে যেমন কাগজপত্রে ঠুনকো সমস্যা, জমির পাশে রাস্তা কমবেশি, ড্যাপের ঝামেলা ইত্যাদির অজুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে গ্রাহক হয়রানি করে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন জোটন।
এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজউকের উচ্ছেদ কার্যক্রম ফলাফল শূন্য, কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ আবাসিকের নকশায়, নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, অর্থ ও ‘ক্ষমতার দাপটে আড়াল থেকে যায় ফাইল ইত্যাদি শিরোনামে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও খাতা-কলমে লোক দেখানো ব্যবস্থা ছাড়া বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি জোটন।
রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জোটনের বিভিন্ন অপকৌশল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ও উচ্ছেদের পর ভবন জোড়াতালির সহযোগিতা, দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি-না? উত্তরে তিনি আমার বার্তাকে বলেন, অবশ্যই দায়িত্ব অবহেলা হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জোন ৪/৩ এর অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথ একজন প্রধান পরিদর্শকের নেতৃত্বে কয়েকজনের এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা ছাড়াও নকশা ও ছাড়পত্র পাইয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। জোটন সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় রাজধানীর তোপখানা, কাকরাইল, বেইলি রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, রামপুরাসহ আরও বেশকিছু এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জোটন সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের চাহিদামতো অর্থ পেলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে চাহিদামতো অর্থ না পেলে সিন্ডিকেট টাকা আদায়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন একটি, দুইটি, তিনটি নোটিশ, কখনোবা মোবাইল কোর্ট। প্রকৃতপক্ষে এসব নোটিশ টাকা আদায়ের পর অদৃশ্য হয়ে যায়, নেয়া হয় না আর কোনো ব্যবস্থা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আংশিক ভেঙে ফেলা হলেও, টাকা আদায়ের পর দেয়া হয় জোড়াতালি। অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত অবকাঠামোর নামে মরণ ফাঁদ। ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কেড়ে নিতে পারে শত শত তাজা প্রাণ। সম্প্রতি বেইলি রোডের কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একটি বাস্তব উদাহরণ। রাজউক জোন ৪/৩ এ দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করলে জোটন সিন্ডিকেটের বিভিন্ন অপকর্ম বেরিয়ে আসে।
জোটন সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় নির্মিত কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর অভিযোগ : ১. ২৩/৩, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকায় নকশা ছাড়াই বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ। ২.৬৩১, উত্তর শাহজাহান ঢাকায় আবাসিকের স্থলে কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ। ৩. সবুজবন নূর টাওয়ার, ১৩৮৩/৮/১৫/৩, মৌলভীরটেক, মৌজা-শহর খিলগাঁও। ভবনটিতে নকশায় ৩৮% ভূমি ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও ভূমি ব্যবহার করা হয়েছে ৯০% এর চেয়ে বেশি। এমনকি একতলা বেশি করা হয়েছে নকশায় অনুমোদনের চেয়ে।
৪. তারিখ- ১৭/১১/২০২২ মোহাম্মদ ইয়াহ ইয়া খান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মো. সালেহ্ আহমেদ জাকারিয়া পরিচালক (জোন-৬), রাজউক ও জোটন দেবনাথ, অথরাইজড অফিসার জোন-৬/১, এর নেতৃত্বে, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল লতিফ, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. আব্দুর রহিম, মো. ইমরান হোসেন, শাহনাজ খানম এবং ইমারত পরিদর্শক, মো. তারেক, মো. কামরুজ্জামান, মো. শাহিন আরিফুল ইসলাম, অন্যান্য কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা এলাকায় উচ্ছেদ/ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
১. ভবন মালিক : সৈয়দ আহমেদ তালুকদার, প্লট নং-১২, ব্লক নং-ই, রোড নং-৮, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
২. ইমারত মালিক : খন্দকার রাশেদ গং, প্লট নং-৮ ও ১০, ব্লক নং-ই, রোড নং-৮, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে এবং ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ইমারত মালিক ৩০০ (তিনশত) টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন যে ইমারতের ব্যত্যয়কৃত অংশ নিজ উদ্যোগ ভেঙে অপসারণ করবেন।
৩. ইমারত মালিক : ঝযধঢ়হড় ইঁরষফবৎং ধহফ উবাবষড়ঢ়বৎং ষঃফ, প্লট নং- ০৬, ব্লক নং-ই, রোড নং-১০ ঢাকাতে অবস্থিত ব্যত্যয় করে নির্মাণের জন্য নির্মাণাধীন ইমারতটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
৪. ভবন মালিক : পিচ ইনোভেটিভ রিয়েল এস্টেট লি., প্লট নং-০৪, ব্লক নং-ই, রোড নং-১০, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে ব্যত্যয় করে নির্মাণের জন্য নির্মাণাধীন ইমারতটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
৫. ভবন মালিক : মো. জাহিদ হোসেন , প্লট নং-০৭, ব্লক নং-ই, রোড নং-১০, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে ব্যত্যয় করে নির্মাণের জন্য নির্মাণাধীন ইমারতটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৬. ভবন মালিক : বুড়িগঙ্গা রিয়েল এস্টেট লি. এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন , প্লট নং-১১/১, ব্লক নং-ই, রোড নং-০৭, বনশ্রী, রামপুরা,ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে।
৭. ভবন মালিক : মো. গোলাম মওলা , প্লট নং-১০, ব্লক নং-ই, রোড নং-৪/১, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির আবাসিক এর স্থলে বাণিজ্যিক করায় ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে।
৮. ভবন মালিক : মো. রফিকুল ইসলাম গং , প্লট নং-০৪, ব্লক নং-ই, রোড নং-১১, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
০৯. ভবন মালিক : মো. আবু জাফর গং , প্লট নং-০৩ ও ০৫, ব্লক নং-ই, রোড নং-১১, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
১০. ভবন মালিক : পিচ ডেভেলপমেন্ট লি. , প্লট নং-২০ ব্লক নং-ই, রোড নং-৪/১, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
১১. ভবন মালিক : রুমা রিয়েল এস্টেট লি. এর পক্ষে ব্যাস্থাপনা পরিচালক পারভিন আক্তার, প্লট নং-২ ব্লক নং-ই, রোড নং-১১ ও ৪/১, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাতে অবস্থিত ইমারতটির ব্যত্যয়কৃত (অংশ) আংশিক অপসারণ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টটির মাধ্যমে ভবনগুলো আংশিক ভেঙে ফেলা হলেও তা পরবর্তীতে প্রতিটি ভবন জোড়াতালি দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
জোটন সিন্ডিকেটের লোকেরা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে জোড়াতালি দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এভাবে জোটন সিন্ডিকেট প্রতিটি উচ্ছেদ কার্যক্রমকে বাণিজ্যে রূপান্তর করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডেভেলপারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ছাড়পত্র থেকে শুরু হয় অর্থ আদায়। এরপর ভবন নির্মাণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে, বিভিন্ন কৌশলে সিন্ডিকেটের লোকেরা লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করে থাকে। এছাড়া একটি প্লটের ড্যাবে ঝিল উল্লেখ থাকায় তা আবাসিকে সংশোধন করতে জোটন সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের কোম্পানি থেকে ২৫ লাখ টাকার বাণিজ্য করেছেন। শত শত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আংশিক ভাঙার পর জোড়াতালির বিষয়ে অভিযুক্ত জোটন দেবনাথের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও জোটনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জোটন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ছাড়পত্র ও ভবন ভাঙার নোটিশে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম রাজউকে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় জোটন দেবনাথসহ আরও কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়।
দুদকের অভিযান পরিচালনার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম ও এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। অভিযানের পরে জোটন সিন্ডিকেটের লোকজন লবিং ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিষয়টি দুদকের সাথে সমাধানের জন্য। এ বিষয়ে একাধিক সূত্র প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়ে দুদকে যোগাযোগ করেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।