জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, জাঁতি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একটা বিশাল পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। আমাদের জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমরা রাজনীতি কী করছি, অতীতে কী করেছি এবং ভবিষ্যতে কী করবো, তার একটা ধারণা থাকা দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে জাতীয় কৃষক পার্টির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন। এ সময় জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিপক্ষ ৯০-এর পর থেকে আমাদেরকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে আমাদের ওপর নির্যাতন ও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সব সময় জনগণের সঙ্গে ছিলাম, কখনও কারও দোসর ছিলাম না। আমরা সবসময় জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা জনগণের জন্য কথা বলেছি। সে জন্যই দীর্ঘ ৩৭ বছর পরেও জাতীয় পার্টি জনগণের মাঝে টিকে আছে। আমরা যেকোনও সময় যেকোনও নির্বাচনে গেলে ভালো ফল করবো। তিনি বলেন, পার্লামেন্টে আসার পরে আমাদের সংসদ সদস্যদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। এরশাদকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। এটা চরম অগণতান্ত্রিক মনোভাব। এরশাদ সাহেবকে যারা স্বৈরাচার বলেন, তারা অগণতান্ত্রিক মনোভাব-সম্পন্ন মানুষ। জনগণের শাসন মানে জনগণের ইচ্ছায় শাসন। জনগণের ইচ্ছার প্রতি যার শ্রদ্ধা আছে তিনি গণতন্ত্রমনা। এরশাদ সাহেব একজন ভালো রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। জনগণের ইচ্ছে তিনি রাজনীতিতে থাকবেন। তাই তাকে ভোট দিয়েছে। জনগণ আশা করেছিল- উনি স্বাভাবিক রাজনীতি করবেন। তার রাজনীতিকে যারা বাধা দিয়েছেন, তারা গণতন্ত্রমণা নয়। তাই এরশাদকে স্বৈরাচার বলা অগণতান্ত্রিক। জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন চাকলাদারের সভাপতিত্বে সভায় তিনি আরও বলেন, পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের দলকে বিভক্ত করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মনিরুল ইসলাম মিলন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল, মোস্তফা মহসিন, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হোসেন, সুলতান আহমেদ সেলিম, শফিউল্ল্যাহ শফি, শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরীসহ প্রমুখ।