
* প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিকাদার যথাযথ নিরাপত্তা নিয়েই কাজ করছিলেন। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারছি না।’
* শেরপুর থানার ওসি বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরের একটি ভোজ্যতেলের কারখানায় বিস্ফোরণে চারজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার ছোনকা এলাকায় মজুমদার ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকেরা হলেন- ইমরান হোসেন (৩২), সাঈদ হোসেন (৩৮), রুবেল হোসেন (৩১) ও মনির হোসেন (২৮)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় অবস্থিত মজুমদার ফুড প্রোডাক্টের পাইপলাইনের কাজের জন্য কিছু অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। সেই মোতাবেক ঠিকাদার মো. আজাদের মাধ্যমে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর অফিসার্স কলোনি এলাকার খলিলের ছেলে ইমরান হোসেন, মো. সোলাইমানের ছেলে সাঈদ হোসেন, রুবেল ও আব্দুস সালামের ছেলে মনির হোসেন কোম্পানিতে পাইপ লাইনের কাজ করতে আসেন।
গতকাল বেলা ১টার দিকে পাইপলাইনের কাজ করার জন্য তারা তেলের ট্যাংকের ওপরে ওঠেন। হঠাৎ ট্যাংকটি বিস্ফোরণ হয়ে ঢাকনা খুলে গেলে তাঁরা প্রায় ১০০ ফুট নিচে পড়ে যায় এবং গরম তেলে তাঁদের শরীর ঝলসে যায়। পরে অন্য শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা রঞ্জন চক্রবর্তী তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে কাজের ঠিকাদার আজাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঠিকাদার যথাযথ নিরাপত্তা নিয়েই কাজ করছিলেন। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারছি না।’
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুমন জিহাদী বলেন, ‘ওই কাজটি সাধারণ শ্রমিক দিয়ে করানো ঠিক হয়নি। যেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন এক জায়গায়, সেখানে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ থাকা প্রয়োজন ছিল। এ দুর্ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদফতর ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।