
জনতা ডেস্ক
তিস্তার পর এবার ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে বাংলাদেশে পানি যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি নিয়ে কঠোর সুরে কথা বললেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার বিকেলে মালদায় দলীয় নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে পানি যাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসময়, সরাসরি চুক্তির বিরোধীতা না করলেও স্থানীয় বিধায়কদের ক্ষতিপূরণের আন্দোলনে নামার নির্দেশ দেন মমতা।
বাংলাদেশ-ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে রাজি থাকলেও, মমতার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির মুখে আজও আলোর মুখ দেখেনি বাংলাদেশের অধিকার, বহু প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ঢাকা সফরের সঙ্গী হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণার পরও রাজ্যের ক্ষতি হবে- এমন কথা বলে বেঁকে বেসেছিলেন মমতা। শুধু তাই নয়, পরে বহু রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা কোনোভাবেই তিস্তা চুক্তি করতে দেয়া হবে না বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন। কিন্তু এবার মমতার নজর গঙ্গার ঐতিহাসিক পানি চুক্তির দিকে। কারণ, বুধবার দুপুরে মালদার ফারাক্কায় নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা। সরাসরি চুক্তির বিরোধীতা না করলেও, ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে পানি যাওয়ার ফলে স্থানীয় কৃষকরা সেচকাজে অসুবিধায় পড়ছেন; এর জন্য আন্দোলনে নামার নির্দেশ দেন তিনি। মমতা বলেন, কেন্দ্র ক্ষতিপূরণের ৭০০ কোটি টাকা দেয়নি এবং ড্রেজিংও করেনি। এটা নিয়ে আন্দোলন হওয়া উচিত। আমি বলবো, স্থানীয় বিধায়করা আন্দোলন করুন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসু যৌথভাবে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি করেন। প্রতি ২০ বছর পর চুক্তি নবায়ন করার কথা বলা হয় ওই চুক্তিতে। সে হিসাবে চুক্তি নবায়ন হতে আর মাত্র বাকি দুই বছর। এদিন মালদায় নির্বাচনী সভায় ফারাক্কা ব্যারাজ নিয়ে মমতার এমন উসকানিমূলক বক্তব্য এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দাঁড় করালো বলেই মনে করছেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলোতে মমতার দল তৃণমূলের ব্যাপক আধিপত্য। তবে গেল বিধানসভায় সেই আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রকাশ্যে তিস্তা চুক্তি করতে না দেয়ার কথা বলেন মমতা।