
চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পশ্চিম বড়কুল ইউনিয়নে রমজানে প্রকাশ্যে পান খেলো কেনো এমন অভিযোগে প্রতিভা রানী (৬৪) নামে এক হিন্দু নারীকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে নুরুল আমিন নামে এক স্কুল শিক্ষক। গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নাটেহারা গ্রামের গাজী বাড়ীতে অহেতুক এই অমানবিক ঘটনা ঘটান নুরুল আমিন। তিনি ওই গ্রামের মো. কলিম উদ্দিন গাজীর ছেলে। অপর দিকে মারধরের শিকার প্রতিভা রানী একই গ্রামের হরিদাস বেপারী বাড়ীর সুকুমার চন্দ্র দাসের স্ত্রী। বর্তমানে প্রতিভা রানী আহত অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। স্থানীয় মিজান, ফারুক, সালাউদ্দিনসহ আরও অনেকে জানান, রমজান মাস মুসলিমদের জন্য হিন্দুদের জন্য নয়। কাজেই এ মাসে হিন্দু অসহায় নারী প্রতিভা রানী পান খাচ্ছে এমন অভিযোগ আনা নুরুল আমিনের উগ্রতা ও বর্বরতার সামিল। ইসলাম কখনোই বর্বরতা প্রশ্রয় দেয় না বরং শান্তির বার্তা দেয়। অবিলম্বে নুরুল আমিন নামে এই কুলাঙ্গারকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিয়ে সমাজে শান্তি ও ইসলাম সম্পর্কে সবার বিভ্রান্তি এড়াতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত সমাজে আরও মজবুত হবে। গত বুধবার এই ঘটনায় প্রতিভা রানীর ছেলে বিষু চন্দ্র দাস নুরুল আমিনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন আসামির বাড়ির কাছে পাতা কুড়াতে যায় প্রতিভা রানী। তখন নুরুল আমিনের স্ত্রী তার ঘরের কাজ করার জন্য বললে প্রতিভা রানী এতে সম্মত হন। পরে ঘরের কাজের এক পর্যায়ে নুরুল আমিনের স্ত্রী প্রতিভাকে পান খেতে দেন। আর তখনই প্রতিভা রানীর পান খাওয়া অবস্থায় নুরুল আমিন দেখে তাকে গাল মন্দ করে এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে তার পুরো শরীরে আঘাত করে এবং গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে প্রতিভার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মামলার বাদী বিষু চন্দ্র দাস বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে আসামি নুরুল আমিন আমাদের পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। আমাদেরকে ভারতে পাঠিয়ে দিবে এবং নাটেহারা থাকতে দিবে না মর্মে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এদিকে প্রতিভা রানীকে দেখতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে উপস্থিত হন চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু তমাল কুমার ঘোষসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা প্রতিভা রানীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল আমিন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিভা রানীর মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে আসামিকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।