পরীক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ায় ফলাফল কীভাবে নির্ধারণ হবে, তা পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়াও দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের অপসারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কমিটির অন্যান্য সদস্য নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন।
জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) সমমান পরীক্ষা চলাকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সরকার পতনের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। এতে সাতটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গেলেও বাকি পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি পেছানো হয়েছে কয়েক দফায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাকি পরীক্ষাগুলো না নেয়ার দাবি তুলে পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীরা নতুন করে আর পরীক্ষা না নিয়ে ইতোমধ্যে নেয়া পরীক্ষা ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করার দাবিতে গত চারদিন ধরে আন্দোলন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্টের পাশে সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট দিয়ে হুড়মুড় করে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করে ভিতরে ঢুকে পড়েন। তারা সচিবালায়ে ঢুকে ৬ ও ১১ নম্বর ভবনের মাঝামাঝি জায়গায় বসে পড়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এরপর দাবি পূরণে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এক ঘণ্টা পার হলে বিকেল ৪টার কিছু আগে পরীক্ষার্থীরা সবাই একযোগে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ২০ তলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরীক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে থাকেন, তখন ৬ নম্বর ভবনের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ করে বলছেন, আপনারা সরে যান। আমাদের দাবি আদায়ে সহায়তা করুন। ফটক খুলে দিন, বাইরে আমাদের হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অপেক্ষা করছেন। ফটক খুলে না দিলে আমরা বলপ্রয়োগ করবো, ফটক ভেঙে ফেলবো। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা ‘অটো পাস’ চান না। তবে যে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর প্রাপ্ত নম্বর গড় করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেড় মাসের পরীক্ষার জন্য আমরা কয়েক মাস ধরে ঝুলে আছি। আমাদের কয়েকদিন আগেও তারা জানিয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে পরীক্ষা হবে। তাহলে আরও এক মাস লাগবে পরীক্ষার জন্য। এরপর এক মাসব্যাপী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এত সময় নিলে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করবে কখন? আর আমরা ভর্তি হবো কবে? একটা বোর্ড পরীক্ষা কীভাবে ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত ঝুলে থাকে? সে জন্য আমরা এটা মানি না। আমরা চাই যেসব পরীক্ষা হয়েছে সে অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হোক।
এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক চলাকালে শিক্ষার্থীরা সচিবের কক্ষে সামনে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বৈঠক শেষে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপর তারা ধীরে ধীরে সচিবালয় ত্যাগ করতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ে ঢুকে পড়লে সচিবালয়ের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপত্তিতে পড়েন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকেও কাউকে সচিবালয় থেকে বের হতে এবং সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আন্দোলনরতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা স্টেট কলেজ, নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজসহ ঢাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। গত ৩০ জুন থেকে সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার সারা দেশে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে গত ১৮, ২১, ২৩ ও ২৫, ২৮ জুলাই এবং ১ ও ৪ আগস্টের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এরপর অবশিষ্ট পরীক্ষা না নেয়ার দাবি করে পরীক্ষার্থীরা। আর অটো পাস ঘোষণা না দিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার দাবি জানায় পরীক্ষার্থীরা।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শিক্ষার্থীরা এভাবে ঢুকে যাবে, ভাবা যায়! আমার জানা মতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও একটি দল এভাবে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অনুপ্রবেশ করলো।
সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী সিজান আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পার হয়ে গেল আমরা মাত্র ৭টি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। নতুন করে রুটিন প্রকাশ করলে পরীক্ষা শেষ করতে আরও অনেক সময় লেগে যাবে। তখন আমরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মোটেও সময় পাবো না। তিনি বলেন, আমরা চাই যে সাতটি পরীক্ষা হয়েছে, সেই পরীক্ষাগুলো এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এভাবে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আমাদের ফল প্রকাশ করা হোক।
আরেক পরীক্ষার্থী নবদ্বীপ চৌধুরী বলেন, আমরা গত চারদিন ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের অনেক ভাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহত হয়ে এখনো হাসপাতালে। এখন পরীক্ষা নিলে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। আর মূল মেধাটা যাচাই হয় অনার্সে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে, নতুন করে আর পরীক্ষা না নিয়ে আমাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হোক।
অপরদিকে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের অপসারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কমিটির অন্যান্য সদস্য নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, ইউএনওদের। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা সভাপতিদের অপসারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মহানগর পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত প্রতিনিধিকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে এসব কথা জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর ৬৮ অনুযায়ী এ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) সমমান পরীক্ষা চলাকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সরকার পতনের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। এতে সাতটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গেলেও বাকি পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি পেছানো হয়েছে কয়েক দফায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাকি পরীক্ষাগুলো না নেয়ার দাবি তুলে পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীরা নতুন করে আর পরীক্ষা না নিয়ে ইতোমধ্যে নেয়া পরীক্ষা ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করার দাবিতে গত চারদিন ধরে আন্দোলন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্টের পাশে সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট দিয়ে হুড়মুড় করে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করে ভিতরে ঢুকে পড়েন। তারা সচিবালায়ে ঢুকে ৬ ও ১১ নম্বর ভবনের মাঝামাঝি জায়গায় বসে পড়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এরপর দাবি পূরণে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এক ঘণ্টা পার হলে বিকেল ৪টার কিছু আগে পরীক্ষার্থীরা সবাই একযোগে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ২০ তলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরীক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে থাকেন, তখন ৬ নম্বর ভবনের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ করে বলছেন, আপনারা সরে যান। আমাদের দাবি আদায়ে সহায়তা করুন। ফটক খুলে দিন, বাইরে আমাদের হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অপেক্ষা করছেন। ফটক খুলে না দিলে আমরা বলপ্রয়োগ করবো, ফটক ভেঙে ফেলবো। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা ‘অটো পাস’ চান না। তবে যে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর প্রাপ্ত নম্বর গড় করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেড় মাসের পরীক্ষার জন্য আমরা কয়েক মাস ধরে ঝুলে আছি। আমাদের কয়েকদিন আগেও তারা জানিয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে পরীক্ষা হবে। তাহলে আরও এক মাস লাগবে পরীক্ষার জন্য। এরপর এক মাসব্যাপী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এত সময় নিলে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করবে কখন? আর আমরা ভর্তি হবো কবে? একটা বোর্ড পরীক্ষা কীভাবে ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত ঝুলে থাকে? সে জন্য আমরা এটা মানি না। আমরা চাই যেসব পরীক্ষা হয়েছে সে অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হোক।
এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক চলাকালে শিক্ষার্থীরা সচিবের কক্ষে সামনে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বৈঠক শেষে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপর তারা ধীরে ধীরে সচিবালয় ত্যাগ করতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ে ঢুকে পড়লে সচিবালয়ের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপত্তিতে পড়েন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকেও কাউকে সচিবালয় থেকে বের হতে এবং সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আন্দোলনরতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা স্টেট কলেজ, নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজসহ ঢাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। গত ৩০ জুন থেকে সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার সারা দেশে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে গত ১৮, ২১, ২৩ ও ২৫, ২৮ জুলাই এবং ১ ও ৪ আগস্টের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এরপর অবশিষ্ট পরীক্ষা না নেয়ার দাবি করে পরীক্ষার্থীরা। আর অটো পাস ঘোষণা না দিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার দাবি জানায় পরীক্ষার্থীরা।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শিক্ষার্থীরা এভাবে ঢুকে যাবে, ভাবা যায়! আমার জানা মতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও একটি দল এভাবে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অনুপ্রবেশ করলো।
সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী সিজান আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পার হয়ে গেল আমরা মাত্র ৭টি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। নতুন করে রুটিন প্রকাশ করলে পরীক্ষা শেষ করতে আরও অনেক সময় লেগে যাবে। তখন আমরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মোটেও সময় পাবো না। তিনি বলেন, আমরা চাই যে সাতটি পরীক্ষা হয়েছে, সেই পরীক্ষাগুলো এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এভাবে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আমাদের ফল প্রকাশ করা হোক।
আরেক পরীক্ষার্থী নবদ্বীপ চৌধুরী বলেন, আমরা গত চারদিন ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের অনেক ভাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহত হয়ে এখনো হাসপাতালে। এখন পরীক্ষা নিলে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। আর মূল মেধাটা যাচাই হয় অনার্সে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে, নতুন করে আর পরীক্ষা না নিয়ে আমাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হোক।
অপরদিকে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের অপসারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কমিটির অন্যান্য সদস্য নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, ইউএনওদের। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা সভাপতিদের অপসারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মহানগর পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত প্রতিনিধিকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে এসব কথা জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর ৬৮ অনুযায়ী এ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।