
কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এখন উত্তপ্ত সমগ্র ভারত। তার এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগও দাবি করেছেন। এ ঘটনায় কলকাতার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে পাদদেশে বিকালে মানববন্ধন করেন তারা। ‘আওয়াজ তোলো নারী’ ব্যানারে তারা মানববন্ধন করেন। ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে ৩১ বছর বয়সী এক ডাক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার রক্তাক্ত দেহ ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ঢাকার মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর মেডিকেলে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সব ধরনের প্রমাণ নষ্ট করা হয়। বাইরের কথা বাদ দিলেও, আমাদের দেশে তনু, মুনিয়ার বিষয়েও আমরা কোনো বিচার পাইনি। সাড়ে ৪ হাজার ধর্ষণ মামলার মধ্যে হাতে গোনা ৪-৫টা মামলার বিচার হয়েছে। আমাদের দাবি, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা যেখানে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, সেখানে নারীদের জন্য বিচার চাই, আইন ও তার প্রয়োগ চাই। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলেয়া তাহমিম বলেন, আমরা আজ বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে ভারতের কথা বলছি, এটা আমার কাছে আইরনি লাগতেছে। সেখানে অন্তত বিচার বিভাগ ও পুলিশের কিছু স্বাধীনতা আছে; ধর্ষণের নিরপেক্ষ বিচার করার জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে আমাদের দেশে পুলিশ বা বিচার বিভাগের এই ধরনের স্বাধীনতা ছিল না। আমার জানামতে, কখনোই ছিল না। গত ক্ষমতাসীন সরকার ধর্ষকদের বিচার করার চাইতে শেল্টার দিয়েছে বেশি। কুমিল্লার সেনানিবাস এলাকায় আলোচিত তনু ধর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে দেশের সেনাবাহিনীর এক চতুর্থাংশ সেনা সদস্য মোতায়েন থাকে, সেখানে কীভাবে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে? এর দায় যদি সেনাবাহিনী না নিয়ে বলে, আমরা এ বিষয়ে জানি না। তাহলে এর চাইতে আইরনি আর কিছু হতে পারে না। ধর্ষণের মামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীকে স্পর্শকাতর প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করে তোলে, যার ফলে একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মীমাংসা করতে বাধ্য হন। এমনটি দেখা গেছে, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের ঘটনায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লামিশা জামাল বলেন, আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা এতোই বেশি যে, একটি ঘটনা বলতে গেলে আরেকটি ঘটনা মনে করতে পারি না। সিলেট এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় নিউজ দেখলাম, সেখানে চারটি নিউজ চার রকম। কিন্তু কোনোটাই ভালোভাবে লেখা হয়নি। কেন হচ্ছে এসব? সাড়ে ৪ হাজার মামলা দাখিল করা মামলা থেকে পাঁচটি মামলার ন্যায়বিচার পায় না। আমাদের বলা হয়, মেয়েদের সেলফ ডিফেন্স শিখতে হবে, কারাতে শিখতে হবে। এসব বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি নানান সেমিনার করা হয়। কিন্তু ছেলেদের নিয়ে কয়টা সেমিনার হয়েছে, যেখানে মেয়েদের শরীরটাকে মেয়েদের শরীর না ভেবে মানুষের শরীর ভাববে। আমি মেয়ে হওয়ার আগে মানুষ। আসুন শুধু আইন ও বিচার বিভাগের দিকে না তাকিয়ে থেকে নিজ নিজ জায়গায় থেকে আওয়াজ তুলি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে, হেনস্তারকারীদের বিরুদ্ধে। এসময় তারা ‘কলকাতা টু বাংলাদেশ, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর আর জি কর, জাস্টিস ফর মৌমিতা‘, ‘ধর্ষকের শাস্তি একটাই, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কথা নাই’, ‘প্রশ্ন যখন স্বাধীনতা, বাংলা জুড়ে ওয়াদ্দেদার’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।