
স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের সিংহভাগ মালামাল পরিবহণ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধমনীও বলা যায় শিপিং রুটগুলোকে। এসব পথের যেকোনও ধরনের বিপর্যয় কিংবা হুমকি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনতে পারে। যে কারণে অনেক দেশ বৈশ্বিক শিপিং রুটগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করে। এর গুরুত্ব এত বেশি যে, তেল পরিবহণ হুমকির মুখে পড়ার সাথে সাথে ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশাল অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেন-ভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা ও ছিনতাই করছে। হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের উত্তরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের যুদ্ধ কৃষ্ণ সাগরের কিছু অংশে জাহাজ চলাচলকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কোরি র্যান্সলেম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিপিংরুট নিয়ে কথা বলেছেন।
বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর মতো ২০১০ সালে এ দেশের আরেকটি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। সেটির নাম ছিল জাহান মণি। ১০০ দিন পর সেই জাহাজে থাকা ২৬ জন মুক্তি পান। জাহান মণি অপহরণের শিকার হয়েছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর। এটিও ছিল চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের মালিকানাধীন। ওই জাহাজে ২৫ জন নাবিক ও প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রী ছিলেন। জাহান মণি জাহাজটি ২০১০ সালের ২১ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর সেটি সিঙ্গাপুরে এসে যাত্রাবিরতি করে। সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ নভেম্বর গ্রিসের দিকে রওনা দেয়। জাহাজটিতে প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টন নিকেলের আকরিক ছিল। আরব সাগর দিয়ে যাত্রার সময় ভারতের লক্ষা দ্বীপ থকে ১৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহান মণি জাহাজ সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জলদস্যুরা ছোট ছোট জলযান নিয়ে জাহাজটিকে ঘিরে ফেলেছিল। হুক ও মই ব্যবহার করে জাহাজে উঠে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে নাবিক ও কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ফেলে তারা। সোমালি জলদস্যুরা জাহান মণি জাহাজটিকে অপহরণ করে ১১ ডিসেম্বর সোমালিয়ার উপকূলের একটি স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তারা মুক্তিপণ হিসেবে ৯ মিলিয়ন ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে ৯৯ কোটি টাকা) দাবি করে। মুক্তিপণ নিয়ে সে সময় জলদস্যু ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছিল। জলদস্যুরা ফোনে জিম্মিদের সঙ্গে দেশে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজনের মাঝেমধ্যে কথাবার্তা বলার সুযোগ দিয়েছিল। এতে তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক কিছুটা কমে। কিন্তু পরিবারগুলো পণবন্দীদের মুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিল। জাহাজটি অপহরণের ১০০ দিন পরে, ২০১১ সালের ১৩ মার্চ ভোরে জলদস্যুরা পণবন্দীদের মুক্তি দেয়। তবে মুক্তিপণের টাকা দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, মুক্তিপণ হিসেবে ৪ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার ও জ্বালানি খরচ হিসেবে আরও ১ লাখ ডলার (বর্তমান মূল্যে মোট প্রায় ৫২ কোটি টাকা) দুটি জলনিরোধ বক্সে করে জলদস্যুদের নির্দেশনা মোতাবেক পাঠানো হয়েছিল। এরপরেই তারা জিম্মিদের মুক্তি দেয়। নতুন করে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। কবির গ্রুপের মালিকানাধীন ২৩টি জাহাজের একটি এই এমভি আবদুল্লাহ। এর পণ্য পরিবহনক্ষমতা ৫৮ হাজার টন। জাহাজটি কবির গ্রুপের সহযোগী সংস্থা এসআর শিপিং লিমিটেডের। জাহাজটিতে ২৩ জন নাবিক রয়েছেন, যারা সবাই বাংলাদেশি। সমুদ্রগামী জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, জাহাজটি মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে ৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হয়। ১৯ মার্চ সেটি আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। মাপুতু থেকে রওনা হওয়ার চার দিন পর জলদস্যুদের কবলে পড়ে। কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, আগেও আমাদের একটি জাহাজ জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। ১০০ দিন পর অক্ষত অবস্থায় ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।
ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা (চিফ অফিসার) মো. আতিক উল্লাহ খান গত মঙ্গলবার মাগরিবের পর মুঠোফোনে তার স্ত্রীর কাছে একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। অডিও বার্তায় আতিক বলেছেন, এই বার্তাটা সবাইকে পৌঁছে দিয়ো। আমাদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে। ফাইনাল কথা হচ্ছে, এখানে যদি টাকা না দেয়, আমাদের একজন একজন করে মেরে ফেলতে বলেছে। তাদের যত তাড়াতাড়ি টাকা দেবে, ততো তাড়াতাড়ি ছাড়বে বলেছে। এই বার্তাটা সবদিকে পৌঁছে দিয়ো। আতিকের বাড়ি চন্দনাইশের বরকল এলাকায়। মা, স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকেন শহরের নন্দনকানন এলাকায়। মা শাহানুর আকতার ছেলের চিন্তায় অস্থির। তিনি কখনো কাঁদছেন, কখনো-বা নামাজে দাঁড়িয়ে ছেলের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ছেন। শাহানুর বলেন, মাগরিবের সময় ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন আতিক তাকে বলেছেন, তাদের ৫০ জন জলদস্যু ঘিরে রেখেছে। একটা কেবিনে বন্দী সবাই। তাদের সোমালিয়া নিয়ে যাচ্ছে। আড়াই দিনের মতো লাগবে ওখানে পৌঁছাতে। সবার জন্য দোয়া চেয়েছেন আতিক। গত মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে আতিক জলদস্যুদের কবলে পড়তে যাওয়ার বিষয়টি আঁচ করেছিলেন বলে ধারণা করছেন স্বজনেরা। সে সময় ফোনে আতিক তার স্ত্রী মিনা আজমিনকে বলছিলেন, ‘কয়েক দিন আমাকে ফোনে পাবে না। আমি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকব। নন্দনকাননের বাসায় বসে আতিকের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক বলেন, তিনি হয়তো জলদস্যুদের জাহাজে ওঠার সময় ফোন দিয়ে ভাবিকে এ কথা জানিয়েছিলেন। পরিবার চিন্তা করবে বলে তিনি হয়তো জলদস্যুদের কথা বলেননি। পরে জানাজানি হলে পরিবারের সঙ্গে ফোনে দু-একবার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। অডিও বার্তাও পাঠান। জাহাজের আরেক নাবিক তার স্ত্রীকে ভিডিও পাঠালে সেখান থেকে মিনা আজমিনসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানতে পারেন। সবাই তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন। আতিকের স্ত্রী ও মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তার দুই মেয়ে বাবার জন্য কাঁদছে। বড় মেয়ে ইয়াশরা ফাতেমার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মেজ মেয়ে উনাইজা পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ছোট মেয়ের বয়স দেড় বছর। ১৪ বছর ধরে জাহাজে চাকরি করলেও কোনো সময় ছেলের এমন বিপদ আসেনি বলে জানান মা শাহানুর। তিনি দুই নাতনিকে জড়িয়ে সোফায় বসেছিলেন। স্বজনেরা একে একে বাসায় ভিড় করছিলেন। শাহানুর বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছি। তিনিও একজন মা। আমার তিনটা ছোট ছোট নাতনি। ছেলেবউ অসুস্থ। আতিকের স্ত্রী মিনা এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর এমন বিপদের খবর শোনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর গ্রুপটির জাহাজ ‘এমভি জাহান মনি’ ছিনতাই করেছিল সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তিন মাসের মাথায় মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি ছাড়িয়ে এনেছিল কবির গ্রুপ।
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে। হুথিদের এই হামলা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিকে প্রায় পঙ্গু করে ফেলেছে। লোহিত সাগরের উত্তর প্রান্তে সুয়েজ খালের অবস্থান; এর দক্ষিণ প্রান্তে বাব এল-মান্দেব প্রণালী, যা এডেন উপসাগরে মিলেছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে এবং তার বাইরে পণ্য পরিবহণের জন্য দিনরাত জাহাজের চলাচলের ব্যস্ত জলপথ এটি। কিন্তু অনেক বড় শিপিং কোম্পানি হুথিদের হামলার কারণে ওই অঞ্চলে ট্রানজিট স্থগিত করেছে। তারা জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের জলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণের নির্দেশ দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের জলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে সময়ও বেশি লাগে। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হুথিদের প্রথম হামলার পর থেকে দুই হাজারেরও বেশি জাহাজ তাদের সমুদ্রযাত্রা অন্যপথে নিতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে। এই হামলায় ইয়েমেনে হুথিদের কয়েক ডজন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। যা ইতোমধ্যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে দূরে মেক্সিকো উপসাগরের ক্যাম্পেচে উপকূলে মেক্সিকোর অফশোর তেল স্থাপনাগুলো অবস্থিত। এই উপসাগরটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অঞ্চল; যেখানে শেল, বিপি, শেভরন এবং এক্সন মবিলসহ বিশ্বে প্রভাবশালী বিভিন্ন জায়ান্ট কোম্পানির উপস্থিতি রয়েছে। চরম বৈরী আবহাওয়া ওই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকিগুলোর একটি। তবে ওই অঞ্চলে সবচেয়ে ঝুঁকি হারিকেন। তবে মেক্সিকোর চোরাকারকারীরা উপসাগরে জ্বালানি পাচারের সাথে জড়িত এবং গত বছরের মার্চে উপসাগরে অন্তত ছয়টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মালাক্কা প্রণালী পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম জলপথ। মধ্যপ্রাচ্য, জাপানি বন্দর এবং পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অংশের বাণিজ্যিক জাহাজের পাশাপাশি তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট মালাক্কা প্রণালী। ২০২১ সালে এশিয়ায় জলদস্যুতা আর ডাকাতির সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। তবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরের সমন্বিত টহল ও জাহাজের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করায় জলদস্যুদের হানা কিছুটা কমেছে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে জলদস্যুদের হামলায় একজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছিলেন।
পশ্চিমে মালাক্কা প্রণালী আর পূর্বে দক্ষিণ চীন সাগরের মাঝের ৭০ মাইল দীর্ঘ ও ১২ মাইল প্রশস্ত করিডোর হলো সিঙ্গাপুর প্রণালী। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রণালীটি উদ্বেগজনক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কারণ সেখানে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। সিঙ্গাপুর প্রণালীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কম ঘটলেও প্রায়ই কিছু অপরাধমূলক তৎপরতা দেখা যায়। ২০২২ সালে এই প্রণালীতে অন্তত ৩৮টি দুর্ঘটনার রেকর্ড করা হলেও পরের বছর তা কমে ৩৭ হয়েছে। বিস্তীর্ণ তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় গত কয়েক মাসে দুই প্রতিবেশি দেশের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সামুদ্রিক এলাকায় নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে বলছে, পশ্চিম সীমান্ত নির্ধারণের সময় তুলনামূলক কম জনবহুল ওই অঞ্চলটিতে প্রতারণার শিকার হয়েছে তারা। যদিও উপকূলীয় ওই অঞ্চলটি অনুন্নত ঘন জঙ্গল। গত কয়েক বছরে ওই অঞ্চলের কাছাকাছি অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে; যা গায়ানাকে বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মানচিত্রে স্থান দিয়েছে। চীন, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনাম দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করছে। প্রতি বছর ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য পরিবহণ করা হয় এই সমুদ্রপথ দিয়ে। যে কারণে এসব দেশের সরকার বিতর্কিত এই জলসীমায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।
কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক স্তরে আবারও আলোচনায় আসে ওমান উপসাগর। ওই সময় ইরানের নৌবাহিনী ১৯ জন ক্রু সদস্যসহ একটি তেল ট্যাংকার আটক করে। যুক্তরাজ্যের সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেটিএমও) ওই ঘটনাটি ওমানের উপকূল থেকে ৫০ মাইল দূরে ঘটেছে বলে জানিয়েছিল। এই অঞ্চলটি পারস্য উপসাগরের সরু মুখ হরমুজ প্রণালীর ভেতরে এবং বাইরে চলাচল করা জাহাজের অন্যতম পথ; যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশই পরিবহণ করা হয়।