
দেশের বিভিন্ন আদালতে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগ খাতে বরাদ্দের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী এই কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সংসদ সদস্য যারা ছাঁটাই প্রস্তাব করেছেন, তারা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন, মামলা জটের কথা বলেছেন, মামলা জটের কথা অস্বীকার করার কিছু নেই। আজকের হিসাব হচ্ছে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলা কোর্টে আছে। যতগুলো মামলা আছে তার নিষ্পত্তি করার জন্য বিচার বিভাগে যে বিচারক আছে তা অপ্রতুল। আমরা আরও আদালত বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। ১৫৮টি আদালত খুব শিগগিরিই বেড়ে যাবে।’ মামলাজট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নিয়ে ৬৪ জেলায় এই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেসি এবং চিফ মেট্রোপলিপন ম্যাজিট্রেসি কোর্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেন। তার মধ্যে ৪১টি হয়ে গেছে, ২৩টি হচ্ছে।’ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি আজ থেকে ১৭ বছর আগের কথা যদি বলা হয়, ২০০৭/০৮ সালে মামলা জট কিন্তু এর থেকে কিছুটা কম ছিল। ৩৫ লাখ বা ৩২ লক্ষের মতো ছিল।’ সংসদ সদস্য মো. হামিদুল হক খন্দকার (কুড়িগ্রাম-২), সংসদ সদস্য পংকজ নাথ (বরিশাল-৪), মো. আবুল কালাম (নাটোর-১) এবং সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (ঠাকুরগাঁও-৩) আইন ও বিচার খাতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অর্থ বছরের প্রয়োজনীয় সাকুল্য পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় দুই হাজার ২২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা থেকে হ্রাস করে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী (ঝিনাইদহ-২) এই টাকা হ্রাস করে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন। ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (ঠাকুরগাঁও-৩) বলেন, ‘আইন হলো আজ বড়লোকদের জন্য। আইনকে শাসন করে অর্থ বিত্তশালীরা, আইন প্রয়োগ হয় সাধারণ গরীব মানুষের ওপর।’ এ সময় তিনি প্রত্যেক বিভাগে একটি করে হাইকোর্ট বেঞ্চ দাবি করেন। সংসদ সদস্য পংকজ নাথ (বরিশাল-৪) বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র তার উক্তিতে বলে গেছেন- ‘আইন! সে তো তামাশা মাত্র। বড়লোকেরাই কেবল পয়সা খরচ করিয়া সেই তামাশা দেখিতে পারে।‘ আমি তা বলতে চাই না। গত ১৫ বছরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বিচার হয়েছে। কিন্তু প্রতিকারহীন অপরাধে বিচারের বাণী যেন নিরবে নিভৃতে না কাঁদে।”