প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পলাতক ফ্যাসিবাদীরা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে লুটপাটের টাকা খরচ করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছে। জনগণকে সত্যটা জানানোর মধ্য দিয়ে মিথ্যাকে পরাভূত করতে হবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আলেম সমাজ, ছাত্র-জনতা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছেন। জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সেই শহীদদের রক্তেই রচিত হয়েছে। সেসব শহীদের রক্তের দায় আমরা যেন ভুলে না যাই। গত বুধবার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজন করে। বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ইমামগণ সম্মেলনে অংশ নেন। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ভবিষ্যত তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের সবার উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যে প্রতিশ্রুতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ছিল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও ছিল, সেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আমরা চাই কিনা তা নির্ধারণেই এবারের গণভোট। বিগত দিনে দুর্নীতির ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, দুর্নীতি ঠেকানোর কোনো পথ এতদিন পরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের দেশে করা সম্ভব হয় নাই। সরকারি দলের লুটপাটকে উপেক্ষা করে বিরোধী দলকে দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটির সুযোগ নিয়ে এতদিন দুদককে এই হীন স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই সনদে এই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে সম্মতি দিলে সরকারের আর্থিক বিষয়াদি তদারকির জন্যও সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে একাধিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী গণভোটকে ঘিরে ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সেই ফ্যাসিস্টরা এখন লুটপাটের টাকায় মিথ্যাচার ছড়িয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা এখানে এসেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতির ভবিষ্যত গড়ার একটি স্থায়ী দলিল। এই সত্যটি জনগণকে বোঝালে মিথ্যা এমনিতে বিলীন হয়ে যাবে। মনির হায়দার বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা একটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, যেখানে নাগরিকদের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অথচ ৫৪ বছর পরে এসেও আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করছি। যে পরিবর্তনের জন্য আমরা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ ধরে সেই প্রচেষ্টাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।