দেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে শতকোটি টাকার বিনিয়োগের পরও কাক্সিক্ষত সুফল মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও তা বারবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভুগছে। এর ফলে চলতি ২০২৫২৬ আখ মাড়াই মৌসুমে কেরু চিনিকলের কার্যক্রম কার্যত স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার হাজারো আখচাষি।
মিল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে মাত্র চার দিনের (৯৬ ঘণ্টা) কার্যক্রমে মিল চালু রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৪৩ ঘণ্টা। বাকি ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ ছিল বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় মারাত্মক ধস নেমেছে। নিরবচ্ছিন্ন মাড়াই না হওয়ায় মিলের সামনে ও আশপাশের মাঠে জমে থাকা আখ রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে।
আখচাষিরা জানান, সময়মতো আখ মাড়াই না হওয়ায় আখের ওজন কমে যাচ্ছে, রস শুকিয়ে যাচ্ছে এবং চিনির আহরণ হার কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫২৬ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে আধুনিক নতুন ইউনিটে আখ মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো ইউনিটেই কার্যক্রম শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফার ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন ইউনিট চালু করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মিল হাউস, বয়লার, টারবাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে একের পর এক ত্রুটি দেখা দেয়।
অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ছয় ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি টানা ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ছয় ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা মিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। এই ঘনঘন বন্ধের কারণে আখ পরিবহন ও মজুদ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল চত্বরে জায়গা সংকটের কারণে ওজন শেষে পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ অনেক সময় মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আবার মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে পরিবহন করা আখ দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ পচে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
কেরু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকলকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুলাই মাসে শুরু হয় ‘ব্যালেন্সিং, মর্ডানাইজেশন, রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন’ (বিএমআরই) প্রকল্প। প্রথমে শিল্প মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে। তবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের একটি সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যারা মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে উত্তম এনার্জি লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও নির্ধারিত দুই বছরের প্রকল্প সাত দফা সময় বাড়িয়েও ১৩ বছরেও শেষ করা যায়নি। বর্তমানে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
সর্বশেষ একনেক সভায় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, এর বাইরে আর সময় বা ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রায়াল রানের সময় মিল এলাকা থেকে বিকট শব্দ, অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও ছাই উড়ে ব্যাপক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। দর্শনা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এসব কারণে আশপাশের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান দৈনিক জনতাকে বলেন, এখনো চিনিকল আমাদের হস্তান্তর করা হয়নি। ওটাট্ট্্রাইল টেষ্টিংয়ে আছে। এছাড়া মিল হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে তিনি প্রকল্প পরিচাল ফিদা হাসান বাদশার সাথে কথা বলতে বলেন। তবে দৈনিক জনতার পক্ষ থেকে কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফিদা হাসান বাদশার সাথে মোবাইলে ও হোয়াটস্আপে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে মাত্র চার দিনের (৯৬ ঘণ্টা) কার্যক্রমে মিল চালু রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৪৩ ঘণ্টা। বাকি ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ ছিল বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় মারাত্মক ধস নেমেছে। নিরবচ্ছিন্ন মাড়াই না হওয়ায় মিলের সামনে ও আশপাশের মাঠে জমে থাকা আখ রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে।
আখচাষিরা জানান, সময়মতো আখ মাড়াই না হওয়ায় আখের ওজন কমে যাচ্ছে, রস শুকিয়ে যাচ্ছে এবং চিনির আহরণ হার কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫২৬ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে আধুনিক নতুন ইউনিটে আখ মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো ইউনিটেই কার্যক্রম শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফার ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন ইউনিট চালু করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মিল হাউস, বয়লার, টারবাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে একের পর এক ত্রুটি দেখা দেয়।
অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ছয় ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি টানা ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ছয় ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা মিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। এই ঘনঘন বন্ধের কারণে আখ পরিবহন ও মজুদ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল চত্বরে জায়গা সংকটের কারণে ওজন শেষে পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ অনেক সময় মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আবার মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে পরিবহন করা আখ দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ পচে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
কেরু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকলকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুলাই মাসে শুরু হয় ‘ব্যালেন্সিং, মর্ডানাইজেশন, রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন’ (বিএমআরই) প্রকল্প। প্রথমে শিল্প মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে। তবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের একটি সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যারা মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে উত্তম এনার্জি লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও নির্ধারিত দুই বছরের প্রকল্প সাত দফা সময় বাড়িয়েও ১৩ বছরেও শেষ করা যায়নি। বর্তমানে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
সর্বশেষ একনেক সভায় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, এর বাইরে আর সময় বা ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রায়াল রানের সময় মিল এলাকা থেকে বিকট শব্দ, অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও ছাই উড়ে ব্যাপক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। দর্শনা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এসব কারণে আশপাশের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান দৈনিক জনতাকে বলেন, এখনো চিনিকল আমাদের হস্তান্তর করা হয়নি। ওটাট্ট্্রাইল টেষ্টিংয়ে আছে। এছাড়া মিল হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে তিনি প্রকল্প পরিচাল ফিদা হাসান বাদশার সাথে কথা বলতে বলেন। তবে দৈনিক জনতার পক্ষ থেকে কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফিদা হাসান বাদশার সাথে মোবাইলে ও হোয়াটস্আপে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।