আমতলী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে টিভি ভিসিআর ছবি দেখার স্বপ্ন

আপলোড সময় : ৩০-১১-২০২৫ ০৮:১৩:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১১-২০২৫ ০৮:১৩:৪৬ অপরাহ্ন
আমতলী (বরগুনা) থেকে এসএম সুমন রশিদ
কালের বিবর্তনে হারিয়েছে ছোট পর্দায় সিনেমা দেখার স্বপ্ন। যেন বিনোদনের মহোৎসবটা আস্তে আস্তে বিলিন হতে যাচ্ছে। এখন সময় যাচ্ছে এন্ড্রয়েড মোবাইল টিপতে টিপতে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে রমরমা ছিলো টেলিভিশন আর ভিসিআরে ছবি দেখার পালা।আজকালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সেই টিভিতে দেখার সিনেমার আমেজটা। এখন প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকার কারণে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুধু সিনেমা নয়, মাহফিল, যাত্রাপালা, সিনেমা, গানসহ নানান বিষয় নিয়ে যত রকমের চাহিদা তা অল্প সময়ে খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টিনন্দন তৈরি করতে পারছেন। এ জন্যই টেলিভিশন বা ওইভাবে বিসিআর এর ছবি দেখার মন মানসিকতা উঠে গেছে। সর্বোপরি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে টিভি ভিসিআর এর তৃপ্তি মেটাচ্ছে।  বরগুনার আমতলীতেও এক সময় বাসা বাড়ি, দোকান পাঠ অথবা স্কুল মাঠের মধ্যে  রাতে টেলিভিশন আর ভিসিআর  ভারা করে ২ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত টিকিট কাটতেন দর্শকদের টিভিতে ছবি দেখাতেন।ওই সময় টা জনপ্রিয় সিনেমার জন্য।নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাসেম মালার প্রেম, মান্নার তেজি সন্তান, জিদ্দি সন্তান।
এছাড়াও কমলার বনবাস, সুজন সখি, বেদের  মেয়ে জোসনা,পাষান বন্ধু, রাখাল বন্ধু, রহিম রুপবান, সত্যের মৃত্যু নেইসহ এই ধরনের সিনেমা ও যাত্রা পালা দেখারও ব্যাপক চাহিদা ছিলো দর্শকদের। যেন সন্ধ্যার পরের আড্ডাটাই ছিল ছবি দেখার ঘোর নেশা।সারারাত ধরেই এসব সিনেমা বা যাত্রাপালা দেখা হতো।
আমতলী উপজেলারদ ৭টি ইউনিয়নে কম বেশি হাট বাজার রয়েছে।  এসব হাট বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে রয়েছে রঙিন টেলিভিশন। এসব চায়ের দোকানগুলোতে নিম্নআয়ের মানুষেরা তাদের প্রতিদিনের অবসর সময়ে টিভিতে নানা রকম বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখেন।  তবে বাজারে চায়ের দোকানে যার স্মার্ট টিভি রয়েছে সেই দোকানে লোকজন ভিড় করে বেশি, বেচাকেনাও বেশি।
গুলিসাখালীর টিভিও ভিসিআর  এর ব্যবসায়ী দেলোয়ার মৃধা বলেন  বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। একসময় গুলিশাখালী বাজারে  ছোট ঘর তেরী করে জেনারেটর চালিয়ে টিভি দেখাতাম ৫ টাকার বিনিময়। আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ওইসব টেলিভিশনে সিনেমা দেখার শখ। এ ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছি আজ ২৫ বছরের বেশি।মানুষ ধৈর্য ধরে আর দেখতে চাচ্ছেনা। এখন প্রতিটি মানুষের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকার কারণে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুধু সিনেমা নয়, মাহফিল, যাত্রাপালা, সিনেমা, গানসহ নানান বিষয় নিয়ে যত রকমের চাহিদা তা অল্প সময়ে খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টিনন্দন তৈরি করতে পারছেন।এজন্যই টেলিভিশন বা ওইভাবে বিসিআর এর ছবি দেখার মন মানসিকতা উঠে গেছে। সর্বোপরি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে টিভি ভিসিআর এর তৃপ্তি মেটাচ্ছে।
আরো বলেন,সকাল বা বিকেলের দিকে কাজ না থাকলে চলে যান চায়ের দোকানে। চা খেতে খেতে দোকানে থাকা টিভিতে কোনো বাংলা সিনেমা বা ফোক গান শুনে কয়েক ঘণ্টা অবসর কাটাতো অগনিত ক্রেতা বা কাস্টমার ।  
দর্শক মো. সামসু পঞ্চায়েত  বলেন,  প্রতিদিন বিকেলে নিয়ম করে বাজারে চায়ের দোকানে গিয়ে টিভি দেখে আসতাম।  আমাদের মতো  মানুষের বিনোদন নেওয়ার সুযোগ আছে । কিন্তু কালের বিবর্তনে এ সমস্ত বিনোদন হারিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো পরিবর্তনশীল হবে। তাতে বিনোদনের রূপ পুরোটাই ডিজিটালে পরিণত হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ মোঃ আতিকুল হাসান।

নির্বাহী সম্পাদক আশীষ কুমার সেন।

ফোন : ৪৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স; ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪

অফিস :

প্রকাশক কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত।

সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল : [email protected], ওয়েবসাইট : www.dainikjanata.net