ঝড়-বন্যায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে গাজার গৃহহীন ফিলিস্তিনিরা

আপলোড সময় : ২৭-১১-২০২৫ ০৭:২২:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-১১-২০২৫ ০৭:২২:১৮ অপরাহ্ন
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নামেই মাত্র যুদ্ধবিরতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নিয়মিতই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গণহত্যামূলক যুদ্ধের ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়ে এখন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। খাদ্য ও পানির সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এর মধ্যে নতুন দুর্ভোগ হিসেবে হাজির হয়েছে শীতকালীন ঝড় আর বন্যা। একদিকে ঝড় এসে উড়িয়ে নিচ্ছে অস্থায়ী তাঁবুগুলো। আরেকদিকে তাঁবুতে ঢুকছে বন্যার পানি। যা গাজার বাসিন্দাদের টিকে থাকার পথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গাজা ইতিমধ্যেই তীব্র বিরূপ আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছে। মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। তীব্র শীতকালীন ঝড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দিশেহারা হয়ে পড়েন অসহায় মানুষগুলো। গাজা শহর থেকে আল জাজিরার হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় আমরা এখানে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার নিম্নগতি দেখেছি, যার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এমন অনেক এলাকা কাদা জলে ভরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলো সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে গেছে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্লাবিত হয়েছে এবং নর্দমার জলের সাথে মিশে গেছে, যা এখানকার মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ এই পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে কেবল বালতি ব্যবহার করে তাদের তাঁবু থেকে কাদা জল বের করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাথর ও সিমেন্টের ব্লকের মতো অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁবুগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। আসমা ফায়াদ নামে একজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বলেন, ‘সমস্ত তাঁবু ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁবুগুলো কেবল কাপড় দিয়ে তৈরি ছিল। শিশুরা ডুবে যাচ্ছে। পরার জন্য কোনো পোশাক অবশিষ্ট নেই।’ উম্মে আহমেদ আওদাহ তার তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এই দুর্ভোগ, এই বৃষ্টি এবং নিম্নচাপ, এটি কেবল শীতের শুরু এবং আমরা এরই মধ্যে প্লাবিত। আমরা নতুন তাঁবু পাইনি। আমাদের তাঁবু দুই বছরের পুরনো এবং এগুলো সম্পূর্ণ জীর্ণ।’ এদিকে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (এইএনএইচসিআর) জানায়, মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে ১৩ হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল জাজিরার মাহমুদ বলেন, ‘এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো আশ্রয় নেয়া স্থানগুলোর বেশিরভাগই খোলা জায়গায় অথবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনেক ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্থাপন করা হয়েছে।’ মাহমুদ আরও বলেন, এই ভবনগুলোর সমস্যা হলো ‘দেয়ালে ও ছাদে ফাটল’ ধরেছে, যার ফলে ভবনগুলোতে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। তাছাড়া সবার জন্য পর্যাপ্ত তাঁবু নেই। ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ আল-শাওয়া বলেন, এখনও বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কমপক্ষে তিন লাখ তাঁবুর প্রয়োজন।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ মোঃ আতিকুল হাসান।

নির্বাহী সম্পাদক আশীষ কুমার সেন।

ফোন : ৪৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স; ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪

অফিস :

প্রকাশক কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত।

সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল : [email protected], ওয়েবসাইট : www.dainikjanata.net