সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি

আপলোড সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ মোট ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতি ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, নারীদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সংযোজন করা হয়। এছাড়া অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়। নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়—আগে মেয়াদ শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলা হয়। এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। পরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত হন। মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও আলাদা রিট করেন। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিধান, সংবিধান বাতিল ও স্থগিতকরণ সংক্রান্ত ৭ক ও ৭খ, মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে হাইকোর্টের ক্ষমতা কমানো বিষয়ক ৪৪(২), এবং গণভোট বাতিল করা ১৪২ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরে আসে এবং মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে হাইকোর্টের ক্ষমতা পুনর্বহাল হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান লিভ টু আপিল করেন। মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও আলাদা আপিল করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও আপিল করেন। বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবীরা দাবি করেন, পুরো সংশোধনী বাতিল করতে হবে। গত বুধবার থেকে আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়েছে এবং প্রথম দিনে বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ মোঃ আতিকুল হাসান।

নির্বাহী সম্পাদক আশীষ কুমার সেন।

ফোন : ৪৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স; ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪

অফিস :

প্রকাশক কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত।

সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল : [email protected], ওয়েবসাইট : www.dainikjanata.net