
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে জোরালো প্রস্তুতি চলছে। ঢাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা আন্তঃ মন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। আবার গত ৩ জুন চীনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গেও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রকল্প সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল ফোকাস হবে বাণিজ্য ও অর্থনীতি। একদিকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অন্যদিকে সাময়িক যে সহায়তাগুলো দরকার, সেটির বিষয়ে একমত হওয়া। দুপক্ষের মধ্যে আট থেকে ১০টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো পাঁচ থেকে ছয়টি সই হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে বরাবরই অনেক প্রত্যাশা থাকে। এর আগেও যেসব সফর হয়েছে, সেগুলোতেও অনেক ধরনের ঘোষণা ছিল। আসন্ন চীন সফর নিয়েও ইতোমধ্যে দুটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। সামনে হয়তো আরও এক বা দুটি বৈঠক হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সফর নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং চীন থেকেও কিছু খাতভিত্তিক প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছেন।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিও চীনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ঢাকায় চীনের দূতাবাস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করছে বিভিন্ন সহযোগিতার খাত নিয়ে। কিছু কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষই প্রস্তুত আছে। আবার কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। আমাদের মধ্যে বৈঠক হয়ে গেছে। এরপর আমাদের দূতাবাস এবং তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত আলোচনা করতে থাকবো, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা তাদের (চীন) অনুরোধ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের যৌথ ঘোষণার খসড়াটি বেশ আগে দিলে বাংলাদেশ সেটি বিবেচনা করে মতামত দিতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও ওই দেশে বাংলাদেশের রফতানি তেমন বাড়েনি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে এবং পক্ষান্তরে আমদানি করেছে ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৯৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা তেমন কাজ করছে না। এ বিষয়ে আমরা পুনঃপর্যালোচনার প্রসঙ্গ তুলেছি। এছাড়া ২০২৬ সালের পরেও যেন শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়েও আমরা কথা বলেছি। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টাকা-রুপি অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে, সেটির আদলে টাকা-রেনমিনবি (চীনা মুদ্রা) চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, জানান মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, আমরা বাজেটারি সাপোর্ট এবং বাণিজ্য সাপোর্ট নিয়ে আলোচনা করছি। মোটা দাগে যেটি বলা যায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে সমীক্ষা সম্পন্ন হলো, সেটির সমাপ্তি করে নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা আছে এবং তারাও এটির বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে নেয়া ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি সম্পন্ন হয়েছে, ছয়টির কাজ চলমান আছে এবং বাকি ছয়টির বদলে নতুন প্রকল্প করারও চিন্তা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা কয়েকটি প্রকল্পের কথা বলেছি। তারা সেগুলো নোট করেছেন। এটি সিস্টেমে সময় লাগে। তারা দেখবে, যাচাই-বাছাই করবে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। এটি যাচাই-বাছাই না করেই তো তারা প্রতিশ্রুতি দেবে না। তবে প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই শেষ করতে অনেক সময়ক্ষেপন হলে এর ফলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নষ্ট হয় বলেও উল্লেখ করেন মাসুদ বিন মোমেন। এটি চীনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। চীন থেকে নেয়া ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং ফেরত দেয়ার সময় ২০ বছর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে মানদণ্ড আছে, সেটির আদলে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি তুলে ধরেছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনসহ অন্যান্য শক্তির সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা তাদের (চীন) বলেছি, মিয়ানমারে বিবদমান পক্ষগুলোর ওপর তাদের যে প্রভাব আছে, সেটি যেন ব্যবহার করে এবং আরাকানে যেন নতুন করে যুদ্ধ না হয় এবং যুদ্ধবিরতি হয়। আমরা চাই না নতুন করে আবার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসুক। এটি আমরা জোরালোভাবে বলেছি। তারা বলেছে বিষয়টি দেখবে। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে জটিল সমীকরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকিবহাল। এরমধ্যেই বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা আগেও যেভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করেছি, এখনও সেভাবেই করবো। আমরা এই সমীকরণে জাপানকে নিরপেক্ষ একজন বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। জাপানের সঙ্গে যেকোনও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করাটা আমাদের জন্য অনেক সহজ। জাপানের সঙ্গে চীনের বৈরী কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যেও অনেক বাণিজ্য হচ্ছে, উল্লেখ করেন এই কূটনীতিক।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিও চীনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ঢাকায় চীনের দূতাবাস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করছে বিভিন্ন সহযোগিতার খাত নিয়ে। কিছু কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষই প্রস্তুত আছে। আবার কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। আমাদের মধ্যে বৈঠক হয়ে গেছে। এরপর আমাদের দূতাবাস এবং তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত আলোচনা করতে থাকবো, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা তাদের (চীন) অনুরোধ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের যৌথ ঘোষণার খসড়াটি বেশ আগে দিলে বাংলাদেশ সেটি বিবেচনা করে মতামত দিতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও ওই দেশে বাংলাদেশের রফতানি তেমন বাড়েনি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে এবং পক্ষান্তরে আমদানি করেছে ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৯৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা তেমন কাজ করছে না। এ বিষয়ে আমরা পুনঃপর্যালোচনার প্রসঙ্গ তুলেছি। এছাড়া ২০২৬ সালের পরেও যেন শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়েও আমরা কথা বলেছি। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টাকা-রুপি অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে, সেটির আদলে টাকা-রেনমিনবি (চীনা মুদ্রা) চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, জানান মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, আমরা বাজেটারি সাপোর্ট এবং বাণিজ্য সাপোর্ট নিয়ে আলোচনা করছি। মোটা দাগে যেটি বলা যায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে সমীক্ষা সম্পন্ন হলো, সেটির সমাপ্তি করে নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা আছে এবং তারাও এটির বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে নেয়া ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি সম্পন্ন হয়েছে, ছয়টির কাজ চলমান আছে এবং বাকি ছয়টির বদলে নতুন প্রকল্প করারও চিন্তা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা কয়েকটি প্রকল্পের কথা বলেছি। তারা সেগুলো নোট করেছেন। এটি সিস্টেমে সময় লাগে। তারা দেখবে, যাচাই-বাছাই করবে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। এটি যাচাই-বাছাই না করেই তো তারা প্রতিশ্রুতি দেবে না। তবে প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই শেষ করতে অনেক সময়ক্ষেপন হলে এর ফলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নষ্ট হয় বলেও উল্লেখ করেন মাসুদ বিন মোমেন। এটি চীনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। চীন থেকে নেয়া ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং ফেরত দেয়ার সময় ২০ বছর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে মানদণ্ড আছে, সেটির আদলে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি তুলে ধরেছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনসহ অন্যান্য শক্তির সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা তাদের (চীন) বলেছি, মিয়ানমারে বিবদমান পক্ষগুলোর ওপর তাদের যে প্রভাব আছে, সেটি যেন ব্যবহার করে এবং আরাকানে যেন নতুন করে যুদ্ধ না হয় এবং যুদ্ধবিরতি হয়। আমরা চাই না নতুন করে আবার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসুক। এটি আমরা জোরালোভাবে বলেছি। তারা বলেছে বিষয়টি দেখবে। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে জটিল সমীকরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকিবহাল। এরমধ্যেই বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা আগেও যেভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করেছি, এখনও সেভাবেই করবো। আমরা এই সমীকরণে জাপানকে নিরপেক্ষ একজন বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। জাপানের সঙ্গে যেকোনও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করাটা আমাদের জন্য অনেক সহজ। জাপানের সঙ্গে চীনের বৈরী কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যেও অনেক বাণিজ্য হচ্ছে, উল্লেখ করেন এই কূটনীতিক।