
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে মো. দ্বীন ইসলাম (২৩) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মো. দ্বীন ইসলাম নাওড়া এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে। আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মোশাররফ তার এক স্বজনের জানাজায় অংশ নিতে এলাকায় আসেন। সে সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করলে সে পালিয়ে যায়। এর জের ধরে গত তিন দিন ধরে নাওড়া এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকালে সেই উত্তেজনা থেকে প্রথমে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন হেলমেট মাথায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। দুপক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে বৃষ্টির মতো। এভাবে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দ্বীন ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন। ওই তরুণ সাবেক ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেনের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আরও জানান, রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় জমির ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রায় সময়ই দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষের জেরে মোশাররফ হোসেন এলাকাছাড়া হন। নিহত দ্বীন ইসলামের চাচা নাজমুল প্রধান বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তিন থেকে চারশ লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আমার বাড়িতে হামলা চালায়। মোশাররফের লোকজন হামলায় বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মিজানুর রহমান ও তার সমর্থকেরা শটগান ও পিস্তলের গুলি ছোড়ে। মিজানুরের ছোঁড়া গুলিতে দ্বীন ইসলাম আহত হয়। গভীর রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। মূলত গ্রামবাসীর সঙ্গে মোশাররফের লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে বলে শুনেছি। এতে তার এক লোক নিহত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানবলেন, তাদের দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার আবারও দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মামলা ও আটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। এখনও মামলা হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।