
কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে খুন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। রহস্যে ঘেরা এ হত্যার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশে গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে আলোচিত নাম সিলিস্তি রহমান। সিলিস্তি আগে থেকেই নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনসে উপস্থিত ছিলেন। হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমপি আনারকে রিসিভের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মামলার রিমান্ড আবেদনে এমন তথ্যই উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। গতকাল শুক্রবার দুপুর আট দিনের রিমান্ড শেষে সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের জন্য তাদের ফের আট দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। আসামিদের এজলাসে নেওয়ার পর কয়েকজন আইনজীবী আসামি পক্ষে মামলা লড়তে তাদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিতে চান। এসময় উপস্থিত পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা আইনজীবীদের বলেন আদালতের সামনে আবেদন করে স্বাক্ষর নিতে। শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামি শিলাস্তি রহমানকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি আইনজীবী নিয়োগ করতে চান? জবাবে শিলাস্তি আইনজীবী নিয়োগ দিতে চান না বলে বিচারককে জানান। অপর দুই আসামিকে জিজ্ঞেস করলে তারা একে অপরের দিকে চেয়ে পুলিশ সদস্যদের জানান তাদের পক্ষে আইনজীবী নেই, তবে মামলা লড়তে আইনজীবী চান তারা। এরপর আদালত তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে দুপুর ২টা ৫৬ মিনিটে তিন আসামিকে আদালত থেকে বের করে ডিবির গাড়িতে তোলা হয়। এরপর গাড়ি ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর আগে আটদিনের রিমান্ড শেষে আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিন আসামিকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আদালতে ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করে এই তিন আসামিকে আদালতে তোলা হয়। আদালত এ মামলার ৩ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া (৫৬) জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি খুলনা, জিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগীর আদর্শের বিরোধ ছিল। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গেও আনারের বিরোধ ছিল। এই দুই বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহিন ও শিমুল ভূঁইয়া আনারকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেন। তাই এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়া ও পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরে আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। আবেদন তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুইবার ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামান শাহীন ভারতের কলকাতার নিউটাউন অভিজাত এলাকায় গত ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এবং পরিকল্পনা মোতাবেক ৩০ এপ্রিল শিমুল ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমান বাংলাদেশ থেকে গিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে বৈঠক করে ভিকটিমকে হত্যার দায়িত্ব দিয়ে ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসে। পরে আসামি শিমুল ভূঁইয়া ও শাহীনের পরামর্শ মোতাবেক ভিকটিমকে সুকৌশলে ব্যবসার কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে দিয়ে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এক নম্বর আসামি অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যা করে। এরপর ভিকটিমের হাড় মাংস আলাদা করে এবং মাংসের ছোট ছোট টুকরো করে ওই ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে দিয়ে ফ্লাশ করে এবং হাড়সহ শরীরে অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার কৃষ্ণমাটি এলাকার জিরানগাছা বাগজোলা খালে ফেলে দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য কলকাতায় অবস্থানরত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে কলকাতার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটের স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকে জমা হওয়া থেকে মানুষের মাংস সদৃশ বস্তু ২৯ মে উদ্ধার করে কলকাতার সিআইডি পুলিশ, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে মর্মে কলকাতার সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানানো হয়। এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়া জানান ভিকটিমকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড় মাংস আলাদা করার কাজে আসামি ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা ২/১ জন জড়িত ছিলেন। এরমধ্যে কসাই জিহাদকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যায়। দুই নম্বর আসামি তানভীর ভূঁইয়া (৩০) ঘটনার সময় এক নম্বর আসামির সঙ্গে কলকাতা ছিলেন এবং আসামিকে সহায়তা করে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এছাড়া সিলিস্তি ভিকটিমকে হত্যার সময় কলকাতায় ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভিকটিমকে রিসিভের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ভিকটিমের মরদেহের অনেকাংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িত পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন, সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও অন্যান্য আসামিদের তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে এ তিন আসামিকে আরও আটদিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে ২৪ মে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের জন্য তাদের দশদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগের দিন ২৩ মে সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। ওঠেন পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আনোয়ারুল আজীম। বাড়ি থেকে বেরোনোর পাঁচদিন পর গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনোয়ারুল আজীম নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এ সংসদ সদস্যের। এরপর ২২ মে হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনমের একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে খুন হয়েছেন আনোয়ারুল আজীম। ঘরের ভেতর পাওয়া গেছে রক্তের ছাপ। তবে ঘরে মেলেনি লাশ। এদিনই ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আদালতে ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করে এই তিন আসামিকে আদালতে তোলা হয়। আদালত এ মামলার ৩ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া (৫৬) জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি খুলনা, জিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগীর আদর্শের বিরোধ ছিল। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গেও আনারের বিরোধ ছিল। এই দুই বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহিন ও শিমুল ভূঁইয়া আনারকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেন। তাই এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়া ও পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরে আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। আবেদন তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুইবার ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামান শাহীন ভারতের কলকাতার নিউটাউন অভিজাত এলাকায় গত ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এবং পরিকল্পনা মোতাবেক ৩০ এপ্রিল শিমুল ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমান বাংলাদেশ থেকে গিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে বৈঠক করে ভিকটিমকে হত্যার দায়িত্ব দিয়ে ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসে। পরে আসামি শিমুল ভূঁইয়া ও শাহীনের পরামর্শ মোতাবেক ভিকটিমকে সুকৌশলে ব্যবসার কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে দিয়ে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এক নম্বর আসামি অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যা করে। এরপর ভিকটিমের হাড় মাংস আলাদা করে এবং মাংসের ছোট ছোট টুকরো করে ওই ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে দিয়ে ফ্লাশ করে এবং হাড়সহ শরীরে অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার কৃষ্ণমাটি এলাকার জিরানগাছা বাগজোলা খালে ফেলে দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য কলকাতায় অবস্থানরত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে কলকাতার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটের স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকে জমা হওয়া থেকে মানুষের মাংস সদৃশ বস্তু ২৯ মে উদ্ধার করে কলকাতার সিআইডি পুলিশ, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে মর্মে কলকাতার সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানানো হয়। এক নম্বর আসামি শিমুল ভূঁইয়া জানান ভিকটিমকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড় মাংস আলাদা করার কাজে আসামি ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা ২/১ জন জড়িত ছিলেন। এরমধ্যে কসাই জিহাদকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যায়। দুই নম্বর আসামি তানভীর ভূঁইয়া (৩০) ঘটনার সময় এক নম্বর আসামির সঙ্গে কলকাতা ছিলেন এবং আসামিকে সহায়তা করে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এছাড়া সিলিস্তি ভিকটিমকে হত্যার সময় কলকাতায় ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভিকটিমকে রিসিভের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ভিকটিমের মরদেহের অনেকাংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িত পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন, সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও অন্যান্য আসামিদের তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে এ তিন আসামিকে আরও আটদিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে ২৪ মে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের জন্য তাদের দশদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগের দিন ২৩ মে সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। ওঠেন পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আনোয়ারুল আজীম। বাড়ি থেকে বেরোনোর পাঁচদিন পর গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনোয়ারুল আজীম নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এ সংসদ সদস্যের। এরপর ২২ মে হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনমের একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে খুন হয়েছেন আনোয়ারুল আজীম। ঘরের ভেতর পাওয়া গেছে রক্তের ছাপ। তবে ঘরে মেলেনি লাশ। এদিনই ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।