
উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে রেমাল
* পায়রা-মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর মহাবিপদ সংকেত * রূপ নিতে পারে সিভিয়ার সাইক্লোনে * বড় অংশ আঘাত হানতে পারে রোববার সন্ধ্যার পর * উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ * প্রস্তুত ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র : প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। আবহাওয়া বিপদের পর্যায়ে যেতে পারে, তাই প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। আজ রোববার সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানতে পারে। তবে ঝড়টি রূপ নিতে পারে সিভিয়ার সাইক্লোনে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক মাইকিং করছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ডের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ, নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনিসহ কালিগঞ্জ দেবহাটা এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত, শুকনো খাবার মজুত, প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুত ও পর্যাপ্ত খাবার-জল মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ, নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডও প্রস্তুত রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরের ওপর সতর্ক সংকেত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ছয়টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৪০৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৪০০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮টি বিভাগে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই রাজধানী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, পটুয়াখালী ও খুলনা অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি মূলত ভারতের সাগর আইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির ৩০ শতাংশ ভারত এবং ৭০ শতাংশ বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। সূত্র জানায়, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের কারণে উপকূলে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ থেকে গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত ও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৮-১৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত। বর্ষাকালের মতো একটানা বৃষ্টিও হতে পারে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। উপকূলীয় এলাকা যেমন পশ্চিমবঙ্গ, খুলনা, বরিশাল এলাকায় কোথাও কোথাও ২০০-৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর বাইরে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী বিভাগের পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, আজ রোববার দুপুর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। রাত ১২টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে। আজ রোববার দুপুর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করতে পারে। পুরো ঘূর্ণিঝড়টির আকার ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের এ পরিচালক বলেন, রিমাল প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। এটি অতিপ্রবল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। স্থলভাগ অতিক্রমের সময় এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। এখন পর্যন্ত আমরা এটিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই দেখছি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৫/৬/৭ বিপদসংকেত জারি করতে পারে আবহাওয়া অধিদফতর। পরে মহাবিপদসংকেত (৮, ৯ ও ১০) জারি হতে পারে। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটা জারি করা হবে। এখন পর্যন্ত এটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর আগামিকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে এটি উত্তরে বাংলাদেশের দিকে মোড় নিতে পারে। গভীর নিম্নচাপটি এখন ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ, মৎস্যজীবী ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ড উপকূলীয় অঞ্চলে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালী জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের স্টেশন এবং আউটপোস্টসমূহ মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে। ঘূর্ণিঝড়ের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার জন্য নিকটবর্তী সাইক্লোন শেল্টার স্টেশনে আশ্রয় গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য সকলকে সচেতন করা হচ্ছে।
* পায়রা-মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর মহাবিপদ সংকেত * রূপ নিতে পারে সিভিয়ার সাইক্লোনে * বড় অংশ আঘাত হানতে পারে রোববার সন্ধ্যার পর * উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ * প্রস্তুত ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র : প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। আবহাওয়া বিপদের পর্যায়ে যেতে পারে, তাই প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। আজ রোববার সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানতে পারে। তবে ঝড়টি রূপ নিতে পারে সিভিয়ার সাইক্লোনে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক মাইকিং করছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ডের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ, নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনিসহ কালিগঞ্জ দেবহাটা এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত, শুকনো খাবার মজুত, প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুত ও পর্যাপ্ত খাবার-জল মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ, নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডও প্রস্তুত রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরের ওপর সতর্ক সংকেত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ছয়টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৪০৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৪০০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮টি বিভাগে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই রাজধানী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, পটুয়াখালী ও খুলনা অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি মূলত ভারতের সাগর আইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির ৩০ শতাংশ ভারত এবং ৭০ শতাংশ বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। সূত্র জানায়, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের কারণে উপকূলে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ থেকে গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত ও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৮-১৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত। বর্ষাকালের মতো একটানা বৃষ্টিও হতে পারে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। উপকূলীয় এলাকা যেমন পশ্চিমবঙ্গ, খুলনা, বরিশাল এলাকায় কোথাও কোথাও ২০০-৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর বাইরে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী বিভাগের পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, আজ রোববার দুপুর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে। রাত ১২টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে। আজ রোববার দুপুর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করতে পারে। পুরো ঘূর্ণিঝড়টির আকার ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের এ পরিচালক বলেন, রিমাল প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। এটি অতিপ্রবল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। স্থলভাগ অতিক্রমের সময় এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। এখন পর্যন্ত আমরা এটিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই দেখছি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৫/৬/৭ বিপদসংকেত জারি করতে পারে আবহাওয়া অধিদফতর। পরে মহাবিপদসংকেত (৮, ৯ ও ১০) জারি হতে পারে। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটা জারি করা হবে। এখন পর্যন্ত এটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর আগামিকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে এটি উত্তরে বাংলাদেশের দিকে মোড় নিতে পারে। গভীর নিম্নচাপটি এখন ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ, মৎস্যজীবী ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ড উপকূলীয় অঞ্চলে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালী জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের স্টেশন এবং আউটপোস্টসমূহ মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে। ঘূর্ণিঝড়ের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার জন্য নিকটবর্তী সাইক্লোন শেল্টার স্টেশনে আশ্রয় গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য সকলকে সচেতন করা হচ্ছে।