ঢাকা , শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বিএসএফ মহাপরিচালকের ব্যাখ্যায় দ্বিমত বিজিবির ডিজির ১৪ সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন মৎস্য ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ সিলেটে পুকুর থেকে সাদাপাথর উদ্ধার ভোলাগঞ্জের পাথর লুট করে ১৫০০-২০০০ ব্যক্তি বাংলাভাষী লোকজনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করতে দেব না- মমতা রোডম্যাপকে স্বাগত জানাই-জোনায়েদ সাকি ইসির রোডম্যাপে খুশি বিএনপি-মির্জা ফখরুল ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা মেসির জোড়া গোলে ফাইনালে ইন্টার মায়ামি টাইব্রেকারে গ্রিমসবির কাছে হেরে বিদায় নিলো ম্যানইউ নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন হামজা ‘মুসলিম হওয়ার কারণে অনেকে আমাকে টার্গেট করেন’ ভারতের ২৬ বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ দেখছেন না শ্রীকান্ত নতুন ক্যাটাগোরিতে বেতন কত কমল বাবর-রিজওয়ানের? বড় ব্যবধানে হারলো সাকিবের ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে না: স্কট এডওয়ার্ডস রাকসু নির্বাচনের তফসিল ৩য় বারের মতো পুনর্বিন্যস্ত পিছিয়েছে ভোট জকসু নির্বাচনে বয়সসীমা থাকছে না

দল নয়, দেশ ও জাতির স্বার্থে সংস্কার চায় জামায়াত

  • আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৫ ০৫:১২:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৫ ০৫:১২:৩৬ অপরাহ্ন
দল নয়, দেশ ও জাতির স্বার্থে সংস্কার চায় জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, দেশ গঠনের সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে একমত, দল নয় দেশ ও জাতির স্বার্থে সংস্কার চায় জামায়াত। গতকাল রোববার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এমন কথা বলেন। এরআগে সংস্কার বিষয়ে তৃতীয় বারের মতো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে জামায়াত। ডা. তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ। বৈঠকের শুরুতে কমিশনের পক্ষ থেকে ড. আলী রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। এসময় অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ডা. তাহের বলেন, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সকলের কল্যাণে যা প্রয়োজন সে বিষয়ে ঐকমত্যের সিদ্ধান্তে একমত হতে চায় আমরা। দেশ গঠনের সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে একমত, দল নয় দেশ ও জাতির স্বার্থে সংস্কারও চাই আমরা। তিনি বলেন, বিগত প্রহসনের নামের নির্বাচন থেকে বেরিয়ে, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আগামীর প্রত্যাশা। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির আহ্বান প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারেই সঠিক ও সুষ্ঠু হবে এমন পরিস্থিতি দেখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু দলকে কেন্দ্র করে নয়, সাধারণ মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার চায়। নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় সেটি আমাদের লক্ষ্য। তবে সুস্পষ্ট টাইমলাইন না থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো করে দ্রুত নির্বাচন দেয়া উচিত। তবে নির্বাচন দেয়ার মতো এখনও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কিছু বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, নির্বাচন দেয়ার মতো এখনও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কিছু ভূমিকা আরও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে। সরকার যেন সেদিকে খেয়াল রাখে। নির্বাচনের আগেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুস্পষ্ট টাইমলাইন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তাই বেশি সময় না নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত। জামায়াতে ইসলামী শুধু দলকে কেন্দ্র করে নয়, সাধারণ মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার চায়। সূচনা বক্তব্যে ড. আলী রিয়াজ বলেন, রাজনৈতিক আলোচনায় নীতি নির্ধারকদের ঐকমত্য কমিশন চায় দ্রুত জাতীয় সনদ তৈরি করতে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই দ্রুত জাতীয় সনদ তৈরি করতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এটা রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর দায়িত্ব। ড. আলী রীয়াজ বলেন, অনেক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে, হচ্ছে এবং অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আবার কোনো কোনো বিষয়ে দ্বিমত রয়ে গেছে। ক্ষেত্রবিশেষে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কিছু কিছু বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে এবং যেগুলো পুনরায় আলোচনার সুযোগ আছে। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক আলোচনায় যারা প্রতিনিধিত্ব করেন, বিভিন্নভাবে তাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে ফিরে যেতে হয়। কারণ, আলোচনার টেবিলে অনেক কিছুই উপস্থিত হয় যা পুনর্বিবেচনা দাবি করে। সেটিই আমরা অব্যাহত রাখছি। তিনি আরও বলেন, এই আলোচনার পরও দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায়ও কিছু বিষয় থাকবে যেগুলো আমরা আজকেই মীমাংসা করতে পারব তা নয়, যদি সেটা সম্ভব হতো তবে তা সব বিবেচনায় অনেক ভালো হতো। ড. আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চেষ্টা করছে। আমরা একটি জাতীয় সনদের দিকে অগ্রসর হতে চাই। সে জায়গায় আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনাগুলো আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে পারলে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করব। আমরা বিশ্বাস করি সমস্ত জায়গায় মতভিন্নতা, ভিন্নমত আছে বা ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে না, সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা অগ্রসর হতে পারব। সেদিক থেকে বিবেচনা করে স্মরণ করে দিতে চাই, প্রায় দুই মাস ধরে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি এটাও স্মরণ করা দরকার যে আমরা এই টেবিলে আসার জন্য অনেক প্রাণ দিতে হয়েছে। অনেক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে আমরা এখানে এসেছি। যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। এটা আমাদের সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটা কেবল একমাত্র জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্ব নয়, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আসলে রাজনৈতিক দলগুলোর, সিভিল সোসাইটির এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর। আমি বিশ্বাস করি সবার প্রচেষ্টায় এটি নিঃসন্দেহে সফল হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স