
সাংবাদিকদের সিপিবি সাধারণ সম্পাদক
টিক চিহ্ন নয়, সংস্কারের উপযুক্ত পদ্ধতি আলোচনা
- আপলোড সময় : ২৪-০৩-২০২৫ ০২:০৩:০৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৩-২০২৫ ০২:০৩:০৯ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের অপেক্ষায় রয়েছে তার দল। গতকাল রোববার সংসদ ভবনের এলডি হলে ঐকমত্য কশিমনের কাছে সিপিবির মতামত তুলে ধরার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রিন্স। তিনি বলেন, সংস্কারের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবের সঙ্গে সিপিবি একমত। অনেক প্রস্তাবের সঙ্গে মৌলিকভাবে দ্বিমত রয়েছে। আমরা বলেছি, অনেকগুলো প্রস্তাবের বিকল্প প্রস্তাব আছে। অনেকগুলো প্রস্তাবে একেবারেই নাকচ করে দেওয়ার আছে। কিন্তু এ কাজগুলো করার উপযুক্ত পদ্ধতি টিক চিহ্ন দেওয়া নয়। উপযুক্ত পদ্ধতি হচ্ছে আলাপ-আলোচনা করা। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা প্রতিটি বিষয়ে সুনর্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করব। প্রিন্স বলেন, মূল সংস্কার কমিটির প্রস্তাব পড়লে দেখা যাবে, একটা প্রস্তাবনা রয়েছে, সে প্রস্তাবনা বিষয়ক কোনো বক্তব্য নেই। সুপারিশের ১৬৬টি প্রশ্নে প্রকারান্তরে অনেক কিছু অস্পষ্ট। আমরা দেখলাম অনেক কিছু যদি শুধু ‘হ্যাঁ/না’ এর মধ্যে থাকি, তাহলে পুরো যে সংস্কার প্রস্তাব সেটা একটা ভুল বোঝাবুঝির জায়গায় যাবে। সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঐকমত্য কশিমনকে ধন্যবাদ দিয়ে আমরা কনক্লুড করেছি এভাবে, আমরা শুনেছি উনারা আমাদের সাথে সংলাপ করবেন। আমরা বলেছি- আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি সেই সংলাপের জন্য। যখন সংলাপ করবেন তখন আমরা আমাদের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে বিশেজ্ঞ যে টিম জড়িত তারাসহ আসব। এক প্রশ্নে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা বলেছি- বাংলাদেশে সংস্কারের মূল দায়িত্ব জনগণের। তাদের ওপরে ছেড়ে দিতে হবে। সংস্কার করতে গেলে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা সংস্কার এ কাজটা আগে করতে হবে।
ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারের কাছে সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আর আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আমরা যতটুকু একমত মত হতে পারি বা ঐকমত্য না হলেও আলোচনা যতটুকু হল, এটুকু নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যাতে জনগণের মতামত নিয়ে ভবিষ্যতে সংস্কার কাজকে এগিয়ে নিতে পারে। গণপরিষদ নির্বাচন এখন অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করে সিপিবি। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এ আলোচনা এখন কেন? কারণ, গণপরিষদ তো আমাদের এজেন্ডা নয়। আদৌ গণপরিষদ করব কি করব না, ঠিকই হয়নি। কিন্তু এ প্রশ্নপত্র করার মধ্য দিয়ে আপনি নতুন কিছুকে যেন প্রভোক করছেন। “আমাদের পরিষ্কার কথা সংবিধান সংশোধন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন সংবিধান নতুন করে লেখা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মনে করি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে। জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেন। এরইমধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সংস্কার, স্থানীয় সরকার সংস্কার ও গণমাধ্যমের জন্যে গঠিত আট কমিশন তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন স্বাস্থ্য, শ্রম, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাকি আছে। প্রতিবেদনে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর মতামত জানাতে ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানিয়েছিল ঐকমত্য কমিশনন। ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শুরু হয়েছে গত ২০ মার্চ থেকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ