ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

  • আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৫ ১০:৩২:১০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৩-২০২৫ ০১:১৬:০০ পূর্বাহ্ন
বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
* তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্য গুরুতর : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
* মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই : প্রেস উইং
* যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা দফতরের প্রধান হলেন তুলসী গ্যাবার্ড


বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ইসলামিক খিলাফতকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে নানা পেশা-শ্রেণির মানুষজন প্রকাশ্যে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু করেছেন। তবে তুলসী গ্যাবার্ডেও বক্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর উদ্বেগ ও মর্মাহত। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গত ১৭ মার্চ গত সোমবার রাতেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্য লক্ষ্য করেছি, যেখানে তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বৈশ্বিক তৎপরতা একই আদর্শ ও লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই আদর্শ ও লক্ষ্য হলো ইসলামপন্থি খিলাফতের মাধ্যমে শাসন করা। তুলসী গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলাম চর্চার জন্য সুপরিচিত এবং চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্য লক্ষ্য করেছি, যেখানে তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘নিপীড়ন ও হত্যা’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বৈশ্বিক তৎপরতা একই আদর্শ ও লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই আদর্শ ও লক্ষ্য হলো ইসলামপন্থী খিলাফতের মাধ্যমে শাসন করা। তুলসী গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলাম চর্চার জন্য সুপরিচিত এবং চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ইসলামিক খিলাফতকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিবাদ করে অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া বিবৃতি ফেসবুকে শেয়ার করেছে ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাস। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের দেয়া সেই বিবৃতিটি গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের পেজে শেয়ার করে। যদিও পোস্টটির ক্যাপশনে কিছু লেখেনি তারা।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ‘ইসলামি খেলাফত’ নিয়ে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের করা মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। প্রায় দু’মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রশাসনের কোনও শীর্ষ কর্মকর্তা এই প্রথম বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে এত কঠোর মন্তব্য করলেন। প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী প্রধানের বক্তব্যই বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের প্রকাশ কী না? মিজ গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য এখন বাংলাদেশকে কী বার্তা দিচ্ছে। গণআন্দোলনের মুখে পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আট-ই আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়েছিলো। সরকার বিহীন এই তিনদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের বিভিন্ন স্থাপনার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সে সময় সরকারের দিক থেকে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন যে সংখ্যালঘুদের মধ্যে যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কিংবা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো তারা কেউ কেউ আক্রান্ত হয়েছেন, তবে ‘সংখ্যালঘু বলে কেউ আক্রমণের শিকার হন নি’। যদিও ওই সময়ের মধ্যে অন্তত উনত্রিশটি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছিলো হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরবর্তীতে দূর্গাপুজোর সময় সংখ্যালঘুদের মন্দির ও স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারও করা হয়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে গত বছরের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশ ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের পর। সেই সময় আদালতে মি. দাসের অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষে একজন আইনজীবী নিহত হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর ভারতের হিন্দুত্ববাদী দলগুলো বেশ আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করে। বাংলাদেশেও শুরু হয় ইসকন ও ভারত বিরোধী প্রচারণা। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি, সামাজিক মাধ্যমে পতাকা অবমাননার ছবি প্রচারসহ ভারত ও বাংলাদেশে পরস্পরবিরোধী আগ্রাসী প্রচারণা, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু কিংবা তাদের উপাসনালয়ে ভাংচুর-হুমকির অভিযোগ উঠে। এছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার নানা বক্তব্যও এ সম্পর্ককে আরও প্রকট করে তোলে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আট মাসের বেশিরভাগ সময়ে ভারতের সাথে সেই সম্পর্কের খুব বেশি উন্নতি আর দেখা যায়নি। যদিও সম্পর্কোন্নয়নে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার কথা এর আগে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, তুলসী গ্যাবার্ড বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে যথাযথভাবে হয়তো অবহিত নন সে কারণে তিনি এ মন্তব্যটা করেছেন। কাজেই তাকে যদি আমরা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটা জানাতে পারি তাহলে আমি মনে করি তিনি যেটা মনে করছেন সেটা হয়তো তার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্যকে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখার অবকাশ নেই মন্তব্য করেন তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, সেজন্যই আমার ধারণা বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই একটা প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে। এই বিবৃতির বাইরে বাংলাদেশের আর কোন কিছু এখন আর করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
এ বিষয়ে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যে সব সমালোচনা তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বাংলাদেশকেই সমাধানের কথা ভাবতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এই সংখ্যালঘু ইস্যুতে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছিলো, সেগুলোও তুলে ধরা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টাকে ভালো করে অ্যাড্রেস (নজর দেয়া) করা দরকার। সমালোচনাটা বাড়তে থাকলে আদৌ ঠিক কী না, এভিডেন্স কোথায় এগুলো ভালো করে দেখা দরকার। যেহেতু একটা সমালোচনা আছে এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এটা নিয়ে একটা অ্যাটেনশন দিয়েছে, ফলে তার কী এভিডেন্স আছে সেটাও দেখা দরকার। ফলে বাংলাদেশের সরকারকেই এখন দৃশ্যত তুলে ধরতে হবে যে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তারা ভয়-ভীতির মধ্যে নেই।
এরআগে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলসী গ্যাবার্ড বলেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ক্যাথলিক ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্ভাগ্যজনক নিপীড়ন, হত্যা ও অন্যান্য নির্যাতন যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের উদ্বেগের একটি প্রধান ক্ষেত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আলোচনা মাত্র শুরু হচ্ছে, কিন্তু এটি উদ্বেগের মূল জায়গার একটি হয়ে রয়েছে। একইদিন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্যের জেরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে আবারও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও ওই প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব দেননি পররাষ্ট্র দফতরের নবনিযুক্ত মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস। এমনকি বিষয়গুলোকে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে তিনি আগাম কোনো মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ব্রুস।
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নকারী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, (যুক্তরাষ্ট্রে) নির্বাচনের কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন একজন প্রার্থী হিসেবে কথা বলেছিলেন এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। (নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর) এখন যেহেতু পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় ৬০ দিন ধরে দায়িত্বপালন করছেন, সেই হিসেবে বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মূল্যায়ন কী এবং তিনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? জবাবে ট্যামি ব্রুস বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও অবশ্যই এই বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্তের প্রকৃতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেন। কিন্তু যখন আবার আলোচনা, কূটনৈতিক বিবেচনা এবং এর সাথে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে কথোপকথন এবং কী ঘটতে পারে সেই কথা আসে, তখন আমি এখানে অনুমান করে বলতে চাই না যে ফলাফল কী হবে। আপনিও চান না যে আমি সেটা করি। আমি মনে করি সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। এই পর্যায়ে ওই প্রশ্নকারী জানতে চান, তিনি আবারও নতুন করে তার প্রশ্নটি করতে পারবেন কিনা। এসময় ট্যামি ব্রুস তাকে সেই অনুমতি না দিয়ে বলেন, আমি যা উত্তর দেব না তা হলো- সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে কূটনৈতিক বিবেচনা অথবা একটি নির্দিষ্ট দেশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কোনো মনোভাব প্রকাশ এবং এমন কোনো পদ্ধতিতে কথা বলা যা কূটনৈতিক ধরনের কথোপকথনের মধ্যে পড়ে এবং স্পষ্টতই এসব আমি বলতে পারি না। অথবা কোনো বিষয়ে ঠিক কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে অনুমানও করবো না আমি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড এর মন্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর উদ্বেগ ও মর্মাহত। গত সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এতে বলা হয় তুলসী গ্যাবার্ড বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন ও হত্যা এবং দেশে ইসলামী সন্ত্রাসীদের হুমকি, একটি ইসলামী খেলাফতের সঙ্গে শাসন করার মতাদর্শ এবং উদ্দেশ্যের মূলের মধ্যে নিহিত বলে অভিযোগ করেছেন। তার এ বিবৃতি বিভ্রান্তিকর এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর। গ্যাবার্ডের মন্তব্য কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নয়। তারা একটি সম্পূর্ণ জাতিকে বিস্তৃত এবং অযৌক্তিকভাবে চিত্রিত করে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে আইন প্রয়োগ, সামাজিক সংস্কার এবং অন্যান্য সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্রমাগত কাজ করে চলেছে। প্রেস উইং জানিয়েছে, দেশকে যেকোনো ধরনের ইসলামী খেলাফতের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানায়। চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের যৌথ বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার সমর্থনে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং সমস্ত জাতির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সংলাপে অংশগ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শফিকুল আলম বলেছেন, তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্য নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা অভিযোগের ভিত্তিতে দেয়া হয়নি। এটি একটি গোটা দেশকে অন্যায়ভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক সংস্কার ও অন্যান্য সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ইসলামি খিলাফতের ধারণার সঙ্গে ভিত্তিহীনভাবে যুক্ত করা দেশটির অসংখ্য নাগরিক ও বিশ্বব্যাপী তাদের বন্ধু ও অংশীদারদের কঠোর পরিশ্রমকে খাটো করে। যারা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে যেকোনো ধরনের ইসলামি খিলাফত ধারণার সঙ্গে দেশকে যুক্ত করার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলশি গ্যাবর্ডের দেয়া বক্তব্যকে অসত্য ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ভারতে দেয়া মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলশি গ্যাবার্ডের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তুলশি গ্যাবার্ড বাংলাদেশ সম্পর্কে একগুচ্ছ মিথ্যা ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে ভারতকে খুশি করার অপচেষ্টা করেছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কিছু হানাহানি হলেও তাতে যে সাম্প্রদায়িক কোনো ইস্যু ছিল না, তা সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত সত্য। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জ্ঞানের অপ্রতুলতার বহিঃপ্রকাশ করেছেন। দায়িত্বে নতুন হওয়ায় তথ্যের অভাবের কারণেও এটা হতে পারে অথবা তার ভারতীয় শেকড়কে তুষ্ট করার প্রয়াসও হতে পারে। তিনি বলেন, সভ্যতায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইসলাম এই ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে মানুষের আনন্দ ও মুক্তির প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ইসলাম এখানে শান্তি ও সম্প্রতির উৎস। পশ্চিম যে অর্থে ‘মৌলবাদ’কে সংজ্ঞায়িত করে সেই অর্থে মৌলবাদ বাংলা অঞ্চলে কোনো কালেই ছিল না। ফলে গ্যাবার্ড যা বলেছেন তা ইতিহাস সম্পর্কে তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স