ঢাকা , রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ নুরের ওপর হামলা গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ- অ্যাটর্নি জেনারেল একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে নুরের ওপর হামলায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না সাত বছর পর চীন সফরে গেলেন নরেন্দ্র মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর- তারেক রহমান অদৃশ্য অরাজকতায় ষড়যন্ত্রের আভাস পোরশায় সবজি বাজারে ঊর্ধ্বগতি, কিনতে ক্রেতাদের পকেট খালি ধানের প্রকৃত নামেই চাল বাজারজাত করতে হবে গোমস্তাপুরে হাঁস পালন করে ভাগ্য পরিবর্তন, তরুণদের অনুপ্রেরণা শরিফুল ইসলাম গোমস্তাপুরে বারোমাসি আম চাষে সাফল্যের গল্প নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে দু-একটি দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে-সালাহউদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইসি রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচন ভন্ডুলের নীল নকশা-তাহের আদালতের প্রতি ‘আস্থা’ নেই বলে জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী বিচার-সংস্কার নির্বাচনের মুখোমুখি গ্রহণযোগ্য নয়-সাকি তথ্য ক্যাডারে অসন্তোষ হতাশা সিনিয়রদের নির্বাচন না হলে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে-মির্জা ফখরুল আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ
লোটাস কামাল, নিজাম হাজারীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মানবপাচারে ১১২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ

  • আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৫ ১১:১২:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৫ ১১:১২:১৭ পূর্বাহ্ন
মানবপাচারে ১১২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ
সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে ৫ গুণ বেশি অর্থ আদায় করে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির ৩২ জনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে মামলায় আসামি হয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলায় ১২ এজেন্সির ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ৬৭ হাজার ৩৮০ জন শ্রমিকের ১ হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। শ্রমিকপ্রতি এসব প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা বেশি নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। আসামিরা হলেন-মেসার্স ওরবিটাল এন্টার প্রাইজের মালিক আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল ও তার স্ত্রী কাশমিরি কামাল। প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার ২৯ কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। আর আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামালের আরেক প্রতিষ্ঠান ওরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তারাও পৃথক আসামি হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান ২৯৯৫ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫০ কোটি ১৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করে। স্নিগ্ধা ওভারিসিজের মালিক ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম, এম. আমিরুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন ও জিয়াউর রহমান ভুঁইয়া। প্রতিষ্ঠানটি ৬৬৫৭ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ১১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি আদায় করেছে। বিনিময় ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সোবহান ভুঁইয়া (চৌদ্দগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান) ও তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার। প্রতিষ্ঠানটি ৫৪৫৮ ব্যক্তির কাছ থেকে ৯১ কোটি ৪২ লাখ টাকার অর্থ বেশি আদায় করেছে। ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও ফেনী ৩ আসনের এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার মেয়ে তাসনিয়া মাসুদও আসামি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথি আসামি হয়েছেন। তারা ৭১২৪ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেশি অর্থ আদায় করেছেন। মেসার্স ইউনিক ইস্টার্ন (প্রাঃ) লি. এর স্বত্বাধিকারী নুর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা আলী ও মেয়ে নাবিলা আলী ছাড়াও আসামি হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন আহমেদ ও খোন্দকার শওকত হোসেন। প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৮৮ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল লি. এর মালিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী লুৎফুর নেছা শেলী মামলায় আসামি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৭৭৮৭ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ১৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। ঢাকা ২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেসার্স আহমদ ইন্টারন্যাশনালের মালিক বেনজীর আহমদ আসামি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৮৫৯২ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ১৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। বি এম ট্রাভেলস লি. স্বত্বাধিকারী ও বাড্ডার সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মৌসুমি আক্তার আসামি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৮০৯৩ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ১৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। বি এন এস ওভারসিজ লি. এর মালিক ও ইঞ্জি. ইশতিয়াক আহমেদ সৈকত যিনি সাবেক যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের পুত্র আসামি হয়েছেন। সৈকতের স্ত্রী মিসেস নসরুন নেছা হয়েছেন আসামি। প্রতিষ্ঠানটি ৪২১৫ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। এছাড়া রুবেল বাংলাদেশে স্বত্বাধিকারী মুহাম্মাদ মজিবুল হক রুবেল তার স্ত্রী কামরুন নাহার হীরামনি আসামি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২৮৪৫ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৪৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। দি ইফতী ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী রুবেল ও বোরহান উদ্দিন (পান্না) ও আসামি হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৯৭ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। এজাহারে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে/ সাবেক মন্ত্রী/এমপি/উপজেলার চেয়ারম্যান/কাউন্সিলার হিসাবে দায়িত্বপালনকালে/ বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে ৫ গুণ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেছে শ্রমিকদের কাছ থেকে। মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের করেছে আসামিরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স