শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের পাটানি গাও গ্রামে মৎস্য ঘেরের জন্য লিজ দেয়া প্রথম চুক্তি অস্বীকার করে বেশি অর্থের বিনিময়ে অপরপক্ষ শাহিন মাদবরের সাথে দ্বিতীয় বার চুক্তি করলেন জমির মালিক সামাদ শেখ। এমনটাই অভিযোগ করলেন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী আরিফ মাদবর ও আজিজুল শিকদার। ভুক্তভোগী আরিফ মাদবর গণমাধ্যমকে বলেন, পাটানি গাও এবং ছয়গাও মৌজার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৫০ জন কৃষক তাদের স্বইচ্ছায় মৎস্যঘের তৈরির জন্য তারা আমাদেরকে দলিল পত্র চুক্তির মাধ্যমে জমি দিয়েছে। ওই ৫০ জন কৃষকের সাথে একমত হয়ে তাদের স্ব-ইচ্ছায় পাটানি গাও গ্রামের কৃষক সামাদ শেখ ও তার স্ত্রী ইয়ারন বেগম মোটা অংকের বিনিময়ে আমাদেরকে মৎস্য ঘেরের জন্য দলিল পত্র চুক্তির মাধ্যমে জমি লিজ দেয়। সামাদ শেখ ও তার স্ত্রী আমাদের কাছ থেকে পুরো টাকা নেয়ার কয়েকদিন পর তাদের জমি কাটতে গেলে আমাদেরকে বাধা দেয় এবং পুলিশ প্রশাসন দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করে এবং বিভিন্ন দফতরে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। কয়েকদিন পর গোপন সূত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি সামাদ শেখ ও তার স্ত্রী বেশি টাকা পেয়ে আমাদের সাথে চুক্তি অস্বীকার করে শরীয়তপুর জেলার অন্যতম মৎস ঘেরের মালিক শাহিন মাদবরের সাথে দ্বিতীয়বার চুক্তি করেন। মূলত শাহিন মাদবর চাচ্ছে সামাদ শেখ ও তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়রানি করা। মূলত শাহিন মাদবরের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আমাদেরকে সরিয়ে সে নিজেই মৎস্যঘের তৈরি করবে। এটার বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে সামাদ শেখ ও খোকন চৌকিদার সহ ৪ জনের কাছ থেকে দলিলপত্র চুক্তির মাধ্যমে মৎস্য ঘেরের জন্য শাহিন মাদবর তাদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছে। আমরা গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি কৃষক সামাদ সেখসহ তাদের একটি চক্র নিজেদের জমিতে ওষুধ ব্যবহার করে রোপন করা ধানের চারা মেরে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে ও আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সরজমিন গেলে কয়েকজন কৃষক গণমাধ্যমকে বলেন আমরা আমাদের জমি স্বইচ্ছায় মৎস্য ঘেরের জন্য দিয়েছি। কারণ এই জমিতে ধান চাষ করলে প্রতিবছর লোকসান গোনতে হয়। এটার কারণ হচ্ছে আগের মত মাটি উর্বর নাই। ফলন ভালো হয় না, এরপর পানির সংকট, কীটনাশক ও সারের দাম বেশি, ধানের চারা রোপন থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত শ্রমিকের সংকট। টাকা দিয়েও বদলা পাওয়া যায় না ধান কাটার জন্য। এ ব্যাপারে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই। আমরা কৃষকরা এখন নিরুপায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
