ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
* নির্বাচনের নিরপেক্ষতা-নতুন দেশ নতুন সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন * নতুন দল এনসিপি নিয়ে বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা

এনসিপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচেষ্ট হবে

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ১২:০১:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৫ ১২:০১:২৬ পূর্বাহ্ন
এনসিপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচেষ্ট হবে
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূনের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকার ইতোমধ্যে সাত মাস অতিক্রম করেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিশাল শোডাউন দিয়ে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই দলের নেতৃত্বে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রাখা ছাত্র-জনতা। তবে গত বছর জুলাইয়ে সংঘটিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নতুন  রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশে দলটিকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহলের যেমন কৌতূহল ও প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি শোনা যায় কিছু সমালোচনাও।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে নানা প্রত্যাশা রেখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’-এর কাছে আলাদা কোনো প্রত্যাশা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, অন্য আর দশটি রাজনৈতিক দলের মতোই গণতান্ত্রিক রীতি রেওয়াজ মেনে নতুন রাজনৈতিক দলটিও এদেশে রাজনীতি করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচেষ্ট হবে। দলটির কোনো কোনো নেতা বলছেন, তারুণ্যনির্ভর এই দলটির জন্য মূলধারার রাজনীতি একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, যে বয়সে তাদের ছাত্ররাজনীতি করার কথা ছিল, সেই বয়সে তারা জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে, সরকারে অংশ নিয়েছে। সুতরাং রাজনীতির নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাদের টিকে থাকতে হবে- কাজটি মোটেই সহজ নয়। নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন দাবি করবে এমন প্রত্যাশাও করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, যেহেতু এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি, সেহেতু দ্রুত নির্বাচন আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ বিষয়ে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর সঙ্গেও। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নতুন এই রাজনৈতিক দলটার কাছে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে এটাই চাই। একটা রাজনৈতিক দলের কাছে এ ছাড়া আর কী চাওয়া থাকতে পারে। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা নতুন দল গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবে। রীতি-রেওয়াজ মেনে রাজনীতি করবে। আশা করছি তাদের রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে। কল্যাণমুখী রাজনীতি চর্চায় তারা অগ্রসর হবে। তিনি বলেন, তারুণ্যনির্ভর এই রাজনৈতিক দলটির বেশির ভাগ নেতা ছাত্র। এই বয়সে তাদের ছাত্র রাজনীতি করার কথা ছিল। কিন্তু, তারা জাতীয় রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে। এ কারণে তাদের জন্য রাজনীতিটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তারা সরকারে অংশ নিয়েছে, এখন রাজনীতিতে প্রবেশ করল। তাদের খুব সতর্কতা ও সাবধানতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। তাদের তো কোনো কর্মসূচি নাই। জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। ইসলামিক দলগুলো কোরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়েছে। এরা কয়েকটা স্লোগান সামনে রেখে রাজনৈতিক দল গঠন করল; যে স্লোগানগুলো ৫০/৬০ বছরের পুরোনো। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এটা তো পশ্চিম বঙ্গের বামদের স্লোগান। আমরা তো জানি নতুন রাজনৈতিক দলে ইসলাম বা ডানপন্থীদের প্রাধান্য বেশি- বলেন শামসুজ্জামান দুদু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করব তারা রাজনীতির ভাষায় কথা বলবেন। কোনো রাজনৈতিক পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করবে না। তাদের মনে রাখতে হবে, এদেশে পরিবারতন্ত্র আছে, পরিবারতন্ত্র থাকবে। পরিবারে যোগ্য লোক থাকলে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না কেন? সম্প্রতি আমার একটা বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি ওই বক্তব্যটা দিয়েছিলাম ‘ছাত্র ভাইদের’ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। আশা করি, তারা বক্তব্য দেয়ার সময় এ বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। তিনি বলেন, নতুন এই রাজনৈতিক দলটি যেন বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন দাবি করে। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারে না। শাহাবুদ্দিন আহমেদ যেমন তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারও যেন কালক্ষেপন না করে দ্রুত নির্বাচন দেন, সে ব্যাপারে নতুন রাজনৈতিক দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি’র নেতাদের অভিনন্দন জানালেন যারা: গতকাল শনিবার সারাবাংলার পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এর সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান ও গণতন্ত্র মঞ্চের রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখের কাছে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে তারা বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর রাজনীতি করার এবং প্রয়োজনে নতুন দল গঠনের অধিকার রয়েছে। তবে নতুন দলের মঞ্চ থেকে নতুনভাবে সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণায় দেশ ও জাতির মনে প্রশ্ন জেগেছে। এছাড়া দলটি বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছে। এতে করে আসন্ন নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হবে- এমন প্রশ্ন উঠতে পারে।
নতুন দলকে স্বাগত ও অভিনন্দন জাপার: নতুন দলকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, নতুন দল গঠন হয়েছে এতে কোনো সমস্যা নেই। জাতীয় পার্টি বহু দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক দল গঠন হয়েছে, তারা দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য তাদের কার্যক্রম চালাবে-এটাই জনগণের প্রত্যাশা। তবে সমস্যা হচ্ছে, দেশের জনগণ ও সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন আলোচনা চলছে যে, নতুন এ দলটি গঠনের পিছনে সার্বিকভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে। তার দৃষ্টি থাকবে সমান। এখানে সেটি অনুপস্থিত। কারণ এ রাজনৈতিক দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দলটি গঠিত হয়েছে, সেহেতু নির্বাচনের সময় এই দলের প্রতি সরকারের সহানুভূতি বা সমর্থন থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার। এতে সরকার কতটুকু নিরপেক্ষ থাকতে পারবে- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ ভোটাধিকারের ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জীবন দিয়েছে। সেই নিরপেক্ষ নির্বাচন যদি অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে দেশের জনগণ অবশ্যই একটা কিছু করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে স্বাগত জানাল জামায়াত: নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলটির সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনার সুযোগ খোলা থাকবে বলে আশা করি।  তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনার পথ সব সময়ই খোলা থাকে। নতুন দলের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা থাকবে।
সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে প্রায় দেড় ডজনের বেশি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ হয়েছে। আরো সমসংখ্যক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটবে। অতীতেও এরকম রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এগুলো আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখি। তবে নতুন দলগুলোর মধ্যে যারা সংগ্রামের শেষের দিকে এসে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল, তাদের একাংশ যে রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটালো-সেটি নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। জনগণের ওইসব আলোচনা আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখছি। তবে নতুন দলকে জনগণ গ্রহণ করে এবং নতুন রাজনৈতিক দল গণতন্ত্র এবং ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ন্যূনতম আকাক্সক্ষা এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে অবশ্যই এটি ভালো খবর। তিনি বলেন অনেকে রাজনীতি করে সাময়িক লাভের জন্য। সেটিকে সামনে রেখে কেউ যদি রাজনৈতিক দল গঠন করে- তা জনগণ গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, নতুন দলের সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ঘোষণাপত্রসহ বিস্তারিত জনগণ এখনো জানতে পারেনি। তবে তাদের সম্পর্কে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী আলোচনা হচ্ছে সরকারি ছত্রছায়ায় এই রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছে। সরকারের আনুগত্য পেয়েই তারা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এটা যদি ঠিক হয়, তাহলে জনগণের কাছে তারা সাময়িক গ্রহণযোগ্য পাবে, ?কিন্তু ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না- বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, তাদের সভা থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, নতুন স্বাধীনতা, নতুন সংবিধান প্রণয়ন ইত্যাদি। তাদের এই ঘোষণা জনগণ মেনে নেয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জন হয়েছে- সেটি চিরন্তন সত্য। তাদের ওই ঘোষণা থেকে জনগণের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে যে, নতুন স্বাধীনতা নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে বেজ্জতি ও নাকচ করা। দেশের জনগণ তাদের দাবি বা ঘোষণা মেনে নেবে না। তবে বাহাত্তরের সংবিধানে অনেক অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তা দূর করার পক্ষে আমরা বলেছি এবং লিখিতভাবেও জানিয়েছি। একইসুরে কথা বলেছেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি বলেন, ছাত্ররা একসময় রাজনীতিকে ঘৃণা করত। কারণ দেশে বি-রাজনৈতিকরণ চলছিল। তা থেকে তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষ বলতো যে, তারা রাজনীতিকে ঘৃণা করে। এর থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্ররা যে রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আকৃষ্ট হয়েছে, সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, নতুন দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিদ্বেষের মনোভাব, সেটা পরিহার করে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বজায় রেখে নতুন দল সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম, আদর্শ ও জনগণের স্বার্থে তারা কতটুকু গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে-সেগুলো দেখবো। বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, এর পাশাপাশি বলতে চাই, গণপরিষদের নির্বাচন ও নতুন সংবিধান -এটা তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাদের এই ঘোষণা নিয়ে মানুষের মধ্যে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সেকেন্ড রিপাবলিক আবার কেন? ১৯৭১ সালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে গঠন হয়েছে। এখানে যে দুর্বলতা ও সমস্যা আছে- সেটা দূর করা যেতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। ইতোধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করার বিষয়টি প্রত্যাহিত হয়েছে। সংবিধানে সংকট এবং সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো সংস্কার হতে পারে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে: গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান নতুন দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যারা নতুন দলের নেতৃত্বে থাকবে, তাদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। আমি আশা করি, দলটি জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে জনগণের আকাক্সক্ষা প্রত্যাশা পূরণ করবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তবে নতুন দলের মঞ্চ থেকে যে ঘোষণাটি এসেছে অর্থাৎ ‘নতুন দেশ নতুন সংবিধান’ প্রণয়ন- এ ঘোষণা দেশ ও জাতিকে হতাশ করেছে। সকলের মনে রাখতে হবে যে, একাত্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের হটিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। সেই রাষ্ট্রে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে। দুটোই ভিন্ন জিনিস। তাদের এই ঘোষণার সঙ্গে কেউ একমত নয়।
গণতন্ত্রমঞ্চের অন্যতম নেতা ভাষানী পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অভিনন্দন জানাই। আশা করি, তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তবে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বিরাট অর্জন দেশ ও জাতি পেয়েছে, তা বিসর্জন দেয়া যাবে না। ৭১ এর অর্জন বিসর্জন দিতে গেলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, বিপ্লব হয়নি। এটাকে বিপ্লব বলা হলে তা ভুল হবে।
উল্লেখ্য, ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করে গত শুক্রবার আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। নতুন এ দলের কমিটিতে মোট ১৭১টি পদ রয়েছে। দলটি নিয়ে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ বা কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স