ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

রমজানের আগে ফলের বাজারে উত্তাপ

  • আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৫ ০৪:১০:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৫ ০৪:১০:৩৩ অপরাহ্ন
রমজানের আগে ফলের বাজারে উত্তাপ
* বাড়তি দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতা নানা অযুহাত বিক্রেতাদের * বিদেশি ফলের দাম বেশি হওয়ায় চাপ পড়ছে দেশি ফলের ওপর : সিরাজুল ইসলাম বিদেশি ফল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পর, এবার বাড়ছে দেশি ফলের দাম। এরইমধ্যে বরই, বরই-পেয়ারা, পেঁপে, তরমুজসহ দেশি ফলের বাড়তি দামে কেনায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় দেশি ফলের সরবরাহ কম। পাইকারি বাজার থেকে তারাও কিনছেন বাড়তি দামে। এমন পরিস্থিতিতে রোজা শুরু হতে মাত্র ২ দিন বাকি থাকলেও এখনই ফলের বাজারে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। রোজার আগে বাজারের এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন রোজাদাররা। তবে রমজান মাসে ফলের দাম আরও বাড়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফ্রেস ফ্রুস্ট ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদেশি ফলের দাম বেশি হওয়ায় চাপ পড়ছে দেশি ফলের ওপর। তাই দাম বেড়েছে বড়ই-পেয়ারার দাম। তার কথার সত্যতা মিলেছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দেশি ফলের দোকান ঘুরে। সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় আমদানি করা ফলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশি ফলের দাম। ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পেয়ারা, বরইয়ের মত ফল। ক্রেতারা বলেন, এ বছর পেয়ারার দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আরেকজন জানান মৌসুম হওয়ায় এত দাম হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দাম বেশি। দেশি ফলই যদি এত দাম কিনতে হয়, তাহলে আমদানি করা ফলের দাম তো বেশি হবে। তাহলে আমরা কিনবো কীভাবে। কারওয়ানবাজারের পাইকারি আড়তে মান ভেদে এক কেজি পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়। খুচরায় ক্রেতাদের পেয়ারা কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। মিষ্টি বরই পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, খুচরায় ৮০ থেকে ২০০ টাকা। পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। খুচরা বাজারে দর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। দাম বাড়ায় ফল কিনতে এসে কাউকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে, কেউ আবার প্রয়োজনের তুলনায় কিনছেন কম বলেও দেখা গেছে। ক্রেতারা বলেন, ফল ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। যে ফল প্রতিদিন খেতাম, সেটা মাসে একবার থেকে দু’বার কিনতে পারছি। তবে বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় তাদের বাড়তি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে এসব ফল। আড়তদাররা জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে এসব দেশি ফলেরও। তবে রমজানের আগেই দেশি-বিদেশি ফলের এমন বাড়তি দামে ক্ষোভ বেড়েছে ক্রেতাদের মনে। এদিকে, বেচাকেনা কমে আসার দাবি করে ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা। আপেল-কমলার দাম তো আকাশ ছোয়া। পেয়ারা কিংবা বরই কিনতে চাইছেন? সেক্ষেত্রেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। আর তাই, ফলের বাজারে এসে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। সব সংকট কাটিয়ে রমজানের আগেই স্বাভাবিক হোক দেশি-বিদেশি ফলের বাজার এমনটা-ই প্রত্যাশা সকলের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই নাগালের বাইরে ফলের দাম। ডলার সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিলাসী পণ্য দেখিয়ে অতিরিক্ত শুল্কারোপের ফলে ভোক্তার ওপর ফলের বাড়তি দামের খড়গ চেপে বসেছে। গত এক বছরে আপেল, আঙুরের মতো ফলে তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে আমদানি শুল্ক। এতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে ফলের দাম। এতে পরিবারের জন্য যারা ফল কিনতেন, তারা তালিকা থেকে পুষ্টিকর এ পণ্যটি বাদ দিচ্ছেন। খুব প্রয়োজন হলে পারিবারিক খরচ সমন্বয় করে এক-দু’টি করে ফল ওজন দিয়ে কিনছেন। ফলে কমেছে বিক্রি। এমন পরিস্থিতিতে রোজা শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখনই ফলের বাজারে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। রোজার আগে বাজারের এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন রোজাদাররা। তবে রমজান মাসে ফলের দাম আরও বাড়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসে ফলের দাম ভোক্তা সহনীয় রাখতে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি, আনারসসহ তাজা ফলে আরোপিত শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি মনে করছে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও শুল্ক-কর বাড়ানোর কারণে আমদানি করা তাজা ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা ভোক্তার ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর বাবুবাজার থেকে ফল কিনছেন চাকরিজীবী সুমন আহমেদ। তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণে ফল কিনতে পারতাম, এখন আর সেটা পারি না। এখন যে অবস্থা হচ্ছে, সামনে হয়তো আর এসব বিদেশি ফল খেতে পারব না। ১০ দিন আগে মাঝারি আকারের কমলার কিনেছি প্রতি কেজি ২৬০ টাকা করে, যা এখন ২৯০ টাকা। ২৯০ টাকা কেজির আপেলের দামও বেড়ে হয়েছে ৩২০ টাকা। কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার ফল ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির ফলে পাইকারি বিক্রি আরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ফলে ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। কিছু ফলের দাম কেজিতে ৫০ টাকারও বেশি বেড়েছে। কালো আঙুর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় কিনতাম, এখন কিনি ৫৩০ টাকায়। ছোট ডালিম ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮০ টাকা হয়েছে। ২৭০-২৮০ টাকার নাশপাতি পাইকারি বাজারে ২৮৮ টাকা হয়ে গেছে। পাইকারি বাজারের ওইদিকে দাম বাড়লে আমাদেরও দাম বেশি রাখতে হয়। এখন মানুষ ফল অনেক কম কিনছেন। সরকার যদি ট্যাক্সটা কমায় তাহলে ফল বিক্রি করে চলতে পারব। এতে আমদানিকারকদের সংগঠনের দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া ফলের ৬৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। ২০২১-২২ অর্থবছরে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতির মতো ফল আমদানিতে শুল্ক ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক ২০ শতাংশে। অতিরিক্ত শুল্ক ও লোকসানের শঙ্কায় ফল আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, বিশ্বের ২২টি দেশ থেকে ৩৮ ধরনের ফল আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশই আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও আনার। আমদানি করা ফল বিলাসী পণ্য নয়, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। অথচ বিলাসী পণ্য বিবেচনা করে আমদানি করা ফলে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশ করা হয়েছিল। সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির বিবেচনায় ফল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করলেও ফলাফল হয়েছে উল্টো। বরং আমদানি কমে যাওয়ায় কমেছে রাজস্ব আদায়। আসন্ন রমজানে ফলের বাজার স্থিতিশীল এবং সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে ফল আমদানিতে বাড়তি শুল্ক-কর প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে এসংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। চিঠির অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ট্যারিফ কমিশন বলেছে, ডলারের দাম ও শুল্ক-কর বৃদ্ধির ফলে তাজা ফল আমদানি কমে গেছে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় আপেল আমদানি ৫১ শতাংশ, মাল্টা ৭০ শতাংশ, আঙুর ২৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় গত জানুয়ারিতে মেন্ডারিন ৫১ শতাংশ, আঙুর ২১ শতাংশ, আপেল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, নাশপাতি ৪৫ শতাংশ, আনার ও ড্রাগন ৩২ শতাংশ আমদানি কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়। বর্তমানে ৮৬ টাকা মূল্যের ফল আমদানি করা হলে তার জন্য ১২০ টাকা কর দিতে হয় বলে জানিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। এনবিআরের হিসাবে বিদেশি ফল আমদানিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১১৭ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। আর জাহাজ ভাড়া, বিমাসহ সব মিলিয়ে এ খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকায়। ফল আমদানি থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স