
এটিএম আজহারের রিভিউ আবেদনের পরবর্তী শুনানি আজ
- আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৫ ০৪:৪০:৪৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৫ ০৪:৪০:৪৬ অপরাহ্ন


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের প্রথম দিনের শুনানি গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন। জামায়াত নেতা আজহারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। তাকে সহযোগিতা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। এরআগে, গত ২৩ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চে এক বিচারপতি না থাকায় আদালত শুনানির দিন পিছিয়ে দেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ২, ৩ এবং ৪ নম্বর অভিযোগে আজহারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। আর অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংক্রান্ত ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর জেল ও ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল। পরে আজহারুল ইসলামের খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করা হয়। ওই আপিলের ওপর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ। আপিলের রায়ে বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ২, ৩ এবং ৪ নম্বর অভিযোগে আজহারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। পাশাপাশি ৬ নম্বর অভিযোগের দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আর ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৬টি। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাসানী (ন্যাপ) নেতা ও রংপুর শহরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী এ ওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণ করে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর তাদের ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আসামি একাত্তরের ১৬ এপ্রিল তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করে তাদের বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আসামি একই বছরের ১৭ এপ্রিল নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ারবিল এলাকায় ১২শ’র বেশি নিরীহ লোক ধরে নিয়ে হত্যা করে তাদের বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের ৪ জন অধ্যাপক ও ১ জন অধ্যাপকের স্ত্রীকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহিলাদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন চালান। একইসঙ্গে মহিলাসহ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ আসামি। ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি থেকে একজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও গুরুতর জখম করেন।
বিপুল অঙ্কের ঋণের দায় শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার
বিপুল অঙ্কের ঋণের দায় শোধ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিমশিম খাচ্ছে বর্তমান। বর্তমান সরকারের ঘাড়ে বিগত সরকারের ১০৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণের বোঝা। দায় শোধে অনেক ব্যাংকও সমস্যা মোকাবেলা করছে। ওসব ব্যাংককে অন্য ব্যাংক থেকে ডলার ধার করতে হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিদেশি ঋণের দায় শোধে মোট সাড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১১.৭ বিলিয়ন ডলার শোধ করা হয়েছে। তবে সামনে আরো ১২.৭২ বিলিয়ন ডলার শোধ করতে হবে। আর দায় শোধের জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান পাওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি মাসে এখন ছয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার আয়। তার মধ্যে দুই বিলিয়ন রেমিট্যান্স ও চার বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়। আর কোনো কোনো মাসে বিদেশি ঋণ আসছে। তবে তার পরিমাণ খুবই অল্প এবং প্রতি মাসে বিদেশি ঋণ আসছে না। আর আমদানি বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ বিলিয়ন গড়ে খরচ হচ্ছে এবং বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ ছয় বিলিয়ন ডলার আয়ের বিপরীতে খরচ প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার। ফলে অর্থবছর শেষে সামষ্টিক ঘাটতি ডলার বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মোট ১০৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে ৮৪.৪ বিলিয়ন ডলার সরকারি ঋণ। বাকি ১৯.৯ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি খাত বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে। সরকারের ৮৪.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। যদিও সরকারের বেশির ভাগ ঋণই দীর্ঘমেয়াদি। গত ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকার ১.৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। বাকি ছয় মাসে ২.৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসের তুলনায় পরবর্তী ছয় মাসে পরিশোধ করতে হবে বেশি ঋণ। পাশাপাশি চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ৯.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যবসায়ীরা পরিশোধ করেছেন। আগামী ছয় মাসে আরো ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন। এমন অবস্থায় ডলার আয় না বাড়ালে অর্থবছর শেষে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংক খাত বিপাকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ডলার সংকট মোকাবেলায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর জন্য রেমিট্যান্সে ডলার কেনাবেচার সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর ডলার কেনাবেচার মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান এক টাকার বেশি হওয়া যাবে না। নিয়ম ভাঙলে জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি রয়েছে। ওই নির্দেশনা মেনে রেমিট্যান্সে ডলারের দর সাড়ে ১২১ টাকা থেকে ১২২ টাকার মধ্যে রেখেছিল ব্যাংকগুলো। কিন্তু ওভারডিউ পেমেন্টের চাপ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে তীব্র হয়েছে ডলার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। তাতে দরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দামে সব সময় ব্যাংক থেকে ডলার পাওয়া যায় না। তখন বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে খোলাবাজার থেকে কিনতে হয়।
এদিকে এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো। প্রতি মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের প্রবাহও ভালো। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে ডলার সংকট তৈরি হবে না। কারণ এরই মধ্যে রমজানকেন্দ্রিক প্রচুর পণ্য আমদানি হয়েছে। হজের জন্য প্রয়োজনীয় ডলারও পরিশোধ হয়েছে। ফলে নতুন করে ডলারের চাহিদা তৈরি হবে না। তাছাড়া প্রতি মাসে আমদানি দায় মেটানোর জন্য যে ডলার প্রয়োজন হবে তা রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ডলার দিয়েই মেটানো সম্ভব। তাই আশা করা যায় এ বছর নতুন করে ডলার সংকট তৈরি হবে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ