ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

বৈষম্যবিরোধী ও নাগরিক কমিটির দূরত্ব বাড়ছে

  • আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৫ ১২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৫ ১২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন
বৈষম্যবিরোধী ও নাগরিক কমিটির দূরত্ব বাড়ছে
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাদেরই সমমনা জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি পিরোজপুরে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়েছে। আবার চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে। এসব ঘটনার কারণে উভয় সংগঠনের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কিনা কিংবা কোনো দূরত্বের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলছেন, দু’টি ঘটনাই তাদের নজরে এসেছে এবং তারা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করছেন। তিনি বলছেন, তবে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা দেখছি কারা অপরাধী আর কারা নিরপরাধী। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো। এটি জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যকার কোনো সমস্যা নয়। জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলছেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনায় নাগরিক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তবে পিরোজপুরের ঘটনা শুনে তারা সেটিকে স্থানীয়ভাবে মিটমাটের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন নেতাকে হেনস্থার খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ এদিকে, সংগঠনটির ভাষায় গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে সংহত করে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাগরিক কমিটি যাত্রা শুরু করলেও এই সংগঠনের অনেকেই মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আসা। অন্যদিকে, নাগরিক কমিটিতে মূলত সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন এমন কয়েকজন। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। যদিও পরে গত ৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সারজিস আলম জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক মনোনীত হন। তখন নাগরিক কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সারজিস আলমকে মুখ্য সংগঠক পদে মনোনীত করা হলো। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দেড়শ’র বেশি থানা ও উপজেলায় নিজেদের কমিটি করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করছে। জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে নতুন দল হলে সেখানে নাগরিক কমিটির সঙ্গে যোগ দিবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতারা। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিচালিত হবে শুধু শিক্ষার্থীদের দ্বারাই। মূলত এ লক্ষ্যেই উভয় সংগঠন দেশজুড়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বৈষম্যবিরোধীরা এখন বিভিন্ন জায়গায় জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে। ফলে কোনো কোনো জায়গায় এসব কর্মসূচির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে সংগঠন দু’টির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছিলো পিরোজপুরে কী ঘটেছিল: মূলত ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে গত রোববার দুপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে দুই পক্ষের লিফলেট বিতরণ শেষে হাতাহাতির এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এক পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা পিরোজপুরের জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীদের বয়কটের ঘোষণা দেন। আরও জানা গেছে, সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে দুই ভাগ হয়ে গেছে। এক অংশ নাগরিক কমিটি ও অন্য অংশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাম নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত বোরবার লিফলেট বিতরণ শেষে টাউন হল ক্লাব মাঠে সমবেত হয়ে তারা আলোচনা সভা শুরু করেন। এর মধ্যেই কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আরিফুল ইসলাম আদিব বলছেন, দু’টি সংগঠন কাজ করছে কিন্তু তারা কোনোপক্ষই কারও কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি বলছেন, আমরা পিরোজপুরে উভয় পক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেয়। এ নিয়ে আপাতত আর কোনো সমস্যা নেই। চট্টগ্রামে কী হয়েছিল: গত শনিবার চট্টগ্রামে ওয়াসা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মাসউদসহ কয়েকজন ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের’ পক্ষে পথসভার পর লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি জনসংযোগ করছিলো। সেখানেই তাদের অবরুদ্ধ করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন নেতাও মাসউদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার চট্টগ্রামের প্রেসক্লাব চত্বরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে দাবি করা হয় যে মাসউদকে অবরুদ্ধ ও হামলার ঘটনায় সাত জন আহত হয়েছে। সংগঠনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলছেন, সংগঠন থেকে তারা পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটি কেন ঘটেছে তা আমরা দেখছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরাও দেখবো কে অপরাধ করেছে। কারও মধ্যে কোনো অসন্তোষ থাকলে সেটিও দেখা হবে। তবে তিনি নাগরিক কমিটির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যকার কোনোরকম দূরত্বের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। দল গঠন কতদূর: বাংলাদেশে গত আগস্ট থেকেই ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হচ্ছে-এমন একটা আলোচনা ব্যাপকতা পেলেও এখনো তা সাংগঠনিক রূপ লাভ করেনি। অভ্যুত্থানের এক মাস পর সেপ্টেম্বরে আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বলে আত্মপ্রকাশ করেছিলো জাতীয় নাগরিক কমিটি। গেল প্রায় চার মাস ধরে সারাদেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠন করে সংগঠনের বিস্তৃতিও ঘটিয়েছেন তারা। নাগরিক কমিটির নেতারা আশাবাদী তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বড় রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের ব্যাপারে যেখানে মূল ভূমিকায় থাকবে তারা। পাশাপাশি সেই দলে ভূমিকা থাকবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরও। কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, দল গোছানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে এবং আগামী মাস নাগাদ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আশা করছেন তারা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় ছিল। তাদেরকে মানুষ দেখেছে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে জনগণের একটা বিশাল অংশ আছে, যারা নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব দেখতে চায়। সে জায়গা থেকে আমরা মনে করি আমাদের দল গঠিত হলে সেটা জনসমর্থন পাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স