ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

ভ্যাট শুল্ক গ্যাসের দাম বড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি- এফবিসিসিআই’র

  • আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৫ ১০:১৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৫ ১০:১৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
ভ্যাট শুল্ক গ্যাসের দাম বড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি- এফবিসিসিআই’র
শতাধিক পণ্যে নতুন করে শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা দ্রুত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এফবিসিসিআই’র বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ আয়োজিত ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্য ও সেবার উপর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী এবং নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন। তিনি বলেছেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির উপর প্রচণ্ডভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গতিকে থমকে দেবে। ভ্যাটের বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। ফলে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম হায়দার বলেন, নির্বাচিত সরকার শুল্ক বা গ্যাসের দাম বাড়াবে। কিন্তু এই সরকারকে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিল্পকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সরকার দিন দিন দুর্বল সরকারে পরিণত হচ্ছে। দিন দিন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেখানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো অধিকার তাদের দেয়া হয়নি। নির্বাচিত সরকার আসলে সেটি চিন্তা করবে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে মন্তব্য করে ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু এখন ঘুষের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। সচিব থেকে শুরু করে নিচের লেভেল পর্যন্ত অহরহ ঘুষের বাণিজ্য চলছে। কিন্তু এটি বন্ধ করার জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। দুই একজন উপদেষ্টা ঘুষ যদি না খান, কিন্তু ঘুষ যে বন্ধ করছেন না, এটিও ঘুষের চেয়ে কম না। ঘুষে সহযোগিতা করছেন, এটিও অন্যায়। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক বলেন, ফেডারেশন চেম্বারে এখন কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নেই। ফলে আমরা এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি। সুদের হার কোনোভাবেই সহনীয় নয়। এটি আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ১৬ শতাংশ সুদের হারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। ১৬ শতাংশ সুদের হার ব্যবসা বান্ধব নয়, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসতে হবে। লিখিত বক্তব্যে জাকির হোসেন নয়ন বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করায় ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্যও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। হঠাৎ এ কর আরোপ এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের সার্বিক জাতীয় অর্থনীতির উপর প্রচণ্ডভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে স্বাভাবিক অবস্থায় এগিয়ে নিতে যে মুহূর্তে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজসহ সকলেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি-সে সময়েই অস্বাভাবিক হারে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গতিকে থমকে দিবে। ভ্যাটের বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। দেশে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে দৈনন্দিন জীবন-যাত্রার খরচ স্বাভাবিকভাবে আরেক দফা বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার উচ্চ বিনিময় হার, আমদানি খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, উচ্চ সুদের হার ও বৈশ্বিক প্রভাব দেশের বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে সে মুহূর্তে অংশীজনদের সাথে কোনো মতবিনিময় ছাড়াই মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হবে বলে আমরা মনে করি। তিনি আরও বলেন, সব ধরনের রেস্তোরাঁর বিলের উপর ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দোকান ও সুপার মার্কেটে বিক্রয়ের উপরও ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়াও আমদানিকৃত ফল, মুঠোফোন সেবা, ইন্টারনেট, টিস্যু, এলপিজি গ্যাস, পোশাক প্রভৃতির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন হারে মূসক বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু এসব পণ্য ও সেবা জীবন-যাত্রারই সার্বক্ষণিক অনুষঙ্গ সেজন্য অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে সকল আয়ের মানুষের উপর এর চাপ পড়বে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের উপরও ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়েছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক লেনদেন হলে টার্নওভার কর দিতে হতো। কিন্তু ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী বার্ষিক টার্নওভার কর প্রদানের সীমা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জাকির হোসেন নয়ন বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষের উপর হঠাৎ করের বোঝা না চাপিয়ে বিকল্প উপায়ে সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে। করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বৃদ্ধি করা জরুরি যাতে সবসময় একই করদাতাকে করের জন্য চাপ প্রয়োগ না করা হয়। তাছাড়া সরকারের অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় সংকোচন এবং স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, সরকার আবারও শিল্পখাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এমনিতে দেশের শিল্পখাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তদুপরি গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে। স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সুদের হার কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও বাজার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, যানযট নিরসন, বন্দরসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতিসহ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স