ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের হাজার বিঘা জমি বেহাত

  • আপলোড সময় : ১৯-১২-২০২৪ ০৯:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-১২-২০২৪ ০৯:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের হাজার বিঘা জমি বেহাত
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলের হাজার হাজার বিঘা জমি বেহাত হয়ে রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভূসম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ৪১৯ একর। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এর সঙ্গে নতুন প্রকল্পের আরো ৩ হাজার একর জমি যোগ হয়েছে। কিন্তু বেহাত হয়ে গেছে ৭ হাজার বিঘা জমি। তাছাড়া রেলের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত প্রায় ১২ হাজার ৯ একর জমি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেয়া আছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলসূত্রে এসব জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রেলের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে আটটি জেলায় রেলের জমি সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুরে আড়াই হাজার বিঘা, সিরাজগঞ্জে ২ হাজার বিঘা, রাজশাহীতে দেড় হাজার বিঘা, রাজবাড়ীতে ২ হাজার বিঘা, লালমনিরহাটে আড়াই হাজার বিঘা, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী ও পাকশীতে হাজার একর করে জমি বেদখল হয়ে আছে। তাছাড়া সান্তাহার জংশন, বগুড়া, খুলনা, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দঘাট, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, যশোর ও গাইবান্ধার বোনারপাড়া ও ফুলছড়ি ঘাট এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ রেলভূমি বেহাত হয়ে আছে। পাশাপাশি ১৯২৩ সালে নির্মিত ২৫ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজশাহীর গোদাগাড়ী সেকশনের রেললাইনটি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরপরই বন্ধ হয়ে যায়। ওই সেকশনে রেলের মোট জমির পরিমাণ ৭২০ একর। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ওই বিপুল পরিমাণ জমির কিছ’।ী রেলের হাতে নেই। পুরোটাই বেদখলে গেছে। ওসব জমি একের পর এক হাতবদল হচ্ছে। তাছাড়া রেলওয়ের কাছে অনুমোদন না নিয়েই আমনুরা-গোদাগাড়ীর রেলবাজার পর্যন্ত পরিত্যক্ত রেললাইনটির ওপর দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ পাকা সড়ক করেছে। সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র আমনুরা-গোদাগাড়ী সেকশনের দিগরাম-ঘুণ্টিঘর এলাকায় রেলের একটি বড় পুকুর অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রি করছে। তারা দীর্ঘদিন রেলের সাড়ে তিন একর আয়তনের পুকুরটি দখলে নিয়ে ভোগ করছিলো। সম্প্রতি পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে। এখন ৩ লাখ টাকা কাঠা করে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। রেলের জমি প্লট করে বিক্রি করলেও রেলের পক্ষ ওই ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। সূত্র জানায়, রেলের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেলেও ওসব জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে নারেল কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া সৈয়দপুর পৌরসভার যোগসাজশে রেলের বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে রাখা হয়েছে। সৈয়দপুর পৌরসভা ১৯৭৯ সালে রেলের ২৫ একর ৫০ শতক জমির লাইসেন্স ফি তোলার দায়িত্ব নেয়। চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স ফির অংশ পৌরসভা ও রেলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম বছর রেলকে কিছু রাজস্ব দিলেও পৌরসভা পরে আর কোনো টাকা দেয়নি। নথিতে ২৫ একর হলেও সৈয়দপুরে শতাধিক একর জমি পৌরসভার ছত্রছায়ায় দখলদারদের হাতে চলে গেছে। মূলত লোকবল সংকট ও অর্থ না থাকায় রেলের ভূমি বিভাড় বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে অভিযানে নামতে পারছে না। তবে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত প্রায় ১২ হাজার ৯ একর জমি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেয়া আছে। সব ইজারা বাবদ পশ্চিম রেল গত অর্থবছরে ২৭ কোটি ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৭ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। পশ্চিম রেলের সবচেয়ে বেশি জমি আছে সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট, সান্তাহার, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, ঈশ্বরদী, পাকশী, রাজবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গা জেলায়। আর ওসব এলাকায় দখলের পরিমাণও অনেক বেশি। এদিকে উত্তরে পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণে বাগেরহাট এবং পূর্বে গাজীপুর থেকে পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, বৃহত্তর ফরিদপুর, আংশিক গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগের অর্ধেকাংশ সেকশন লাইন পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের অধিভুক্ত। এই বিরাট এলাকার ভূসম্পত্তির দায়িত্বে আছেন একজন প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা, তিনজন বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা, তিনজন সহকারী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা, চারজন সার্কেল কর্মকর্তা, নয়জন কানুনগো, আঠারোজন আমিন, তিনজন মামলা পরিদর্শক, চারজন ট্রেসারসহ কয়েকজন কর্মচারী। বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য জনবল প্রয়োজন বর্তমানের চেয়ে চার গুণ। অন্যদিকে এ বিষয়ে পশ্চিম রেলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহ্মুদা পারভীন বলেন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানে গেলেই দখলদাররা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে হাজির হন। এস্টেট শাখায় মামলা পরিদর্শকের অভাবে ওসব মামলার সার্বক্ষণিক তদারকি করা যায় না। তাছাড়া দখলদারদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশ মামলা নেয় না। আদালতে গেলেও মামলা পরিদর্শকের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে মামলা করা যায় না।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স