
এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
- আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৪ ১১:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৪ ১১:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন


* তার রয়েছে একাধিক বাড়ি গাড়ি ফ্ল্যাট ও জমি
* দুই মেয়ে পড়ালেখা করে অস্ট্রেলিয়ায়, রয়েছে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট
এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী কে এম নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কামানো কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি, গাড়ি ফ্ল্যাট, জমি ক্রয়, দুই মেয়েকে অস্ট্রেলিয়ায় রেখে পড়ালেখা করানোসহ অঢেল অনৈতিক সম্পদের বিষয় দুদক ও এলজিআরডি সচিব বরাবর অভিযোগ হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডি’র একজন দুর্নীতিবাজ সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে সে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয়করে সেই টাকায় ঢাকা ও তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় অঢেল সম্পদ গড়েছে। অভিযোগে জানা যায় কে এম নূরুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান তার বাবা মৃত ওয়ালি উল্লাহ খান। নুরুল ইসলাম যখন স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করত তখন তার বাবা সংসারের খরচ চালানোর জন্য গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দুধ বিক্রি করতেন। তার কপাল খুলে ডিপ্লোমা পাশ করে চাকরিতে যোগদানের পর। নুরুল ইসলাম চাকরি কালে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে ওইসব কাজে বিল দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ঘুষ বানিজ্য, কর ফাঁকিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী, দুই মেয়ে, বড় ভাই ও শ্যালকের নামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়। নারী লিপ্সায়ও বেশ পটু এই নুরুল ইসলাম। দুর্নীতির টাকায় নিজে সম্পদের পাহাড় গড়েছে আবার বান্ধবীর নামলেও কিনেছে একটি আধুনিক ফ্ল্যাট ।
অভিযোগে জানা যায় গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার দাপটে ওই প্রকল্পের সব কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার ভয়ে ভিত থাকত। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেহ মুখ খোলার সাহস পেত না। সে সকলকে ভয় দেখাত পতিত আ. লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু তার চাচা। ওই প্রকল্পে থাকা অবস্থায় কোন কোন পৌরসভায় কাজ না করেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদন দিয়ে বরাদ্দের ৭০ ভাগ টাকা নুরুল ইসলাম নিয়ে নেয়। এভাবে কাজনা করে প্রায় শত কোটি টাকা নুরুল ইসলাম মেরে দেয়। অভিযোগে জানা যায় প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের এহেন অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা জানতে পেরে ইউ নোট দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তাকে বদলির সুপারিশ করেন সেইমত নুরুল ইসলামকে পটুয়াখালী বদলি করা হয়। অভিযোগে জানা যায় ঢাকার আজিমপুরে ৩০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে স্বপরিবারে বসবাস করে। এছাড়াও ওখানে আরো ২৫০০ ও ৭৫০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট আছে যার বাজারমূল্য তিন কোটি টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যার মাধ্যমে শেয়ারে বিল্ডিং তৈরি করে। তার শ্যালক আহসান উল্লাহ খান পদ্মা ব্যাংকে চাকরি করে তার নামে সি এন জি ও পেট্রোল পাম্প করেছে যার মূল্য ২০ কোটি টাকা। নুরুল ইসলাম নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) যোগদানের পর তার কপাল খুলে যায়। এলজিইডির অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প এটি। ওই প্রকল্পের পিডি কিজী মিজানের সাথে ছিল তার দহরম মহরম সম্পর্ক। তার সুবাদে ধুরন্ধর নুরুল ইসলাম ওই প্রকল্পভুক্ত পৌরসভার মেয়রদের সাথে পিডির পক্ষে সকল দর কষাকষি ও ঘুষ লেনদেন করত। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্প ঘুষের অলিখিত রেট ছিল পাঁচ পার্সেন্ট। ঘুষের টাকা পরিশোধ করলে ওই মেয়রকে বরাদ্দের চিঠি ধরিয়ে দিতো ওই নুরুল ইসলাম। মেয়র টাকা বেশি দিলে তাকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে বরাদ্দ বেশি দিত। ওই প্রকল্পে কাজের মান নয় ঘুষ দিলে সব জায়েজ করা হতো। নুরুল ইসলাম ঘুষের টাকা নগদ পেলে মেয়র তার বরাদ্দের চিঠি পেত। এভাবে পাঁচ পার্সেন্ট হিসাবে কোটি কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন করেছে ওই নুরুল ইসলাম। একপর্যায় নুরুল ইসলাম মেয়রের কাছ থেকে ঘুষের টাকা আদায় করে তার সঠিক হিসাব পিডিকে দিতনা। এছাড়া নতুন প্রকল্প তৈরির জন্য নতুন নতুন পৌরসভা প্রকল্পভুক্ত করার নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ উঠায় কিন্তু নুরুল ইসলাম।
নুরুল ইসলামের সম্পদের কিছু খতিয়ান-নুরুল ইসলাম তার স্ত্রীর নামে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে একটি ব্রোকারেজ হাউজ করেছে যার নাম আর এন ট্রেডিং লিমিটেড, যার আইডি নং ৬০৪৫৭। ৪৪/১/৪, আজিমপুর দায়রা শরীফ রোডে একটি বাড়ি। এখানে বসবাস করে এবং অন্য দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া দেয় সেখানে থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাড়া পায়, তার দুই মেয়েকে কানাডায় রেখে পড়ালেখা করায় । নুরুল ইসলাম যে বেতন পায় সেই টাকায় সংসার চালিয়ে দুই মেয়েকে কানাডায় রেখে পড়ালেখা করানো আদৌ সম্ভব কি ? শুধু তাই নয় কানাডায় একটি আধুনিক ফ্ল্যাট কিনেছে সেখানে থেকে মেয়েরা পড়ালেখা করে। সাভার রাজাশন এলাকায় দশ কাঠা জমির ওপর অনেক গুলো টিন শেড তৈরি করে ভাড়া দিয়েছে। আগারগাঁও কর্নেল গলির তছলিম গার্ডেন ভবনে ৫ জি ফ্ল্যাট কিনেছে। এটি তার বেনামি সম্পদ। তার বান্ধবী লায়লার নামে কিনেছে এটি এবং লায়লা সেখানে বসবাস করে, নূরুল ইসলাম প্রায়ই ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত করে। নুরুল ইসলামের একটি টয়োটা সেল্যুন গাড়ি আছে যার মডেল ২০১০ এবং নাম্বার ঢাকা- মেট্রো-ঘ ৩৫০৫৮০ । নুরুল ইসলামের নিজ জেলা ঝালকাঠিতে কিনেছে প্রায় ৩০ বিঘা জমি। নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নূরুল ইসলাম চাকরি জীবনে যেখানে যেখানে পোস্টিংএ ছিল সবখানে অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য বেশি দিন থাকতে পারতনা। নারী কেলেঙ্কারিতেও বেশ পারদর্শী নুরুল ইসলাম। বিভিন্ন সময় সে মেয়রদের নিকট যেত ঘুষের টাকা আনতে। তখন সে তার গার্লফ্রেন্ড লায়লাকে সাথে নিয়ে যেত এবং একই সাথে থাকত। এমন একটি ট্যুরে নুরুল ইসলাম বান্ধবী নায়লাকে নিয়ে বগুড়ায় যায় ঘুষের টাকা আনতে। হোটেলে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে পরে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে ছাড়া পায়। আবেদনকারী দুর্নীতিবাজ নুরুল ইসলামের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দুদক ও এলজিআরডি সচিবের নিকট।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ