ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

দেশেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাড়ছে বিয়াম ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা

  • আপলোড সময় : ১৮-১১-২০২৪ ১১:০৪:৪৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-১১-২০২৪ ১১:০৪:৪৩ অপরাহ্ন
দেশেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাড়ছে বিয়াম ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা

দেশেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিয়াম ফাউন্ডেশন) সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিয়াম ফাউন্ডেশনের কোর কোর্সগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিগত ২০২১ সালে একটি প্রকল্প নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং অফিস ভবন সংস্কার। প্রকল্পটি দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এরই মধ্যে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ করতে পারেনি বিয়াম। ফলে প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ। কিন্তু বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ থাকায় প্রকল্প থেকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতটি বাদ যাচ্ছে। সেজন্য প্রকল্পের অনুমোদিত টাকায় বিদেশ প্রশিক্ষণের পরিবর্তে স্থানীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য ঢাকাসহ বিয়ামের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং অফিস সরঞ্জাম ক্রয় করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিয়ামের কোর কোর্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে একনেকের অনুমোদন পায়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে এবং একবার সংশোধন করেও আলোচ্য প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে পারেনি বিয়াম। প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ১৪টি ব্যাচের মধ্যে ১৪টিরই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বিদেশ প্রশিক্ষণের জন্য ১৪টি ব্যাচ নির্ধারিত থাকলেও হয়েছে মাত্র দুটি ব্যাচের। ওই হিসেবে প্রকল্পের আওতায় ১২টি ব্যাচের বিদেশ প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা অব্যয়িত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৫১ শতাংশ।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। পরে আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে তিন বছর বাড়িয়েও প্রকল্প শেষ করতে পারেনি বিয়াম ফাউন্ডেশন। ফলে মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর জন্য দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দুই বছরের প্রকল্প গিয়ে ঠেকছে সাত বছরে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ অর্থ প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ। এর মধ্যে আবার ৯০ শতাংশ অর্থ বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু বিদেশে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত ৩১ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা অব্যয়িত রয়েছে। অন্যান্য খাতেও কিছু অর্থ অব্যয়িত রয়েছে। এখন অব্যয়িত অর্থে স্থানীয় প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ঢাকাসহ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর ভবন সম্প্রসারণ ও সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং অফিস সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভবনগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হলে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মূলত প্রকল্পে বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ ব্যয় না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি খুবই কম। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিয়াম ফাউন্ডেশন ঢাকার ৬০টি হোস্টেল কক্ষ সংস্কার করা হয়েছে; অবশিষ্ট ৩৬টি হোস্টেলের সংস্কার করা প্রয়োজন। তাছাড়া বগুড়া ও কক্সবাজার আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভবনগুলো পুরোনো হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আঞ্চলিক কেন্দ্র দুটিতে কম্পিউটার ল্যাব নেই। তাই মানসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য দুটি ল্যাব নির্মাণ এবং শ্রেণিকক্ষে স্মার্ট বোর্ড স্থাপন ও পুরোনো সাউন্ড সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষ্যে অফিস সরঞ্জাম সংস্থানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে চলে আসায় প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির দশম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক প্রশিক্ষণের অবশিষ্ট অর্থে বিয়ামের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহারের লক্ষ্যে ডিপিপি সংশোধনসহ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বাদ দিলে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন বিষয়ে বিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বাদ দিলেও প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হবে না। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের সময়, অভ্যন্তরীণ ফিল্ড ভিজিট এবং প্রকল্প ভিজিট বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কোর্স অন্তর্ভুক্তিসহ চারটি বিষয়ে আরো ২০টি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আরিফ আহমদ জানান, প্রকল্পের আওতায় মূল বিষয় ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণ। যেহেতু বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ আছে; তাই প্রকল্প থেকে এটা বাদ দেয়া হচ্ছে। সুতরাং বিদেশ প্রশিক্ষণ হবে না, এখন অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ হবে।
এছাড়া বিয়ামের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভবন সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হবে। এজন্য প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য কার্যকর, কর্মদক্ষ, নিবেদিত মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যমে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিয়াম অনুষদ সদস্যসহ সরকারের মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান, বৈদেশিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক এবং অনুষদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুণগত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ক্লাসরুম, ল্যাংগুয়েজ ল্যাব এবং হোস্টেল কক্ষ সংস্কার করা।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স