গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জিরানি এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যোগ না দেওয়ায় রেডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে কারখানা এলাকা ও আশেপাশের সড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, রেডিয়াল কারখানার শ্রমিকরা সকালে বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। তারা পাশের আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তবে আইরিশ কারখানার শ্রমিকরা সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় রেডিয়ালের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তারা আইরিশ ফ্যাশন কারখানায় হামলা চালায় এবং বেশ কিছু মালামাল ভাঙচুর করে। হামলায় আইরিশ কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং অফিস সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও পাল্টা হামলা চালায়। তারা রেডিয়াল কারখানায় প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষের সময় দুই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে কারখানার ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে শ্রমিকরা গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারী ও যানবাহনের চালকরা ভোগান্তির শিকার হন। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
শিল্প পুলিশের সুপার মো. সারোয়ার আলম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে প্রচুর উত্তেজনা দেখা গেছে। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সারোয়ার আলম আরও জানান, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এদিকে, গাজীপুরের বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, বর্তমানে গাজীপুরে আটটি কারখানা বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের মধ্যে একজন জানান, রেডিয়াল কারখানার শ্রমিকরা আমাদের আন্দোলনে শামিল হতে বলেছিল। কিন্তু আমরা না যাওয়ায় তারা আমাদের কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করে।” অন্যদিকে, রেডিয়াল কারখানার এক শ্রমিক বলেন, “আমরা আমাদের ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু আইরিশের শ্রমিকরা এতে যোগ না দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক পক্ষের কেউ এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
